শরীয়তপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ! - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শরীয়তপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মার্চ ৩১, ২০২৪ ৩:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মার্চ ৩১, ২০২৪ ৩:০১ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেওয়া বেশ কিছু ঘর বীর নিবাসের বেহালদশা । এতে বিপাকে পড়েছেন ওইসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, অথচ এখনো শুরু হয়নি অনেক ভবন নির্মাণের কাজ। আবার কিছু ভবনের কাজ শুরু হলেও অর্ধেকটা করে ফেলা রাখা হয়েছে কয়েক মাস ধরে। এছাড়াও কয়েকটা ভবনের কাজ শেষ হলেও আঙ্গুলের ঘষায় খসে পড়ছে রং-পলেস্তরা। এমনই বেহাল দশা । জেলা প্রশাসন খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন।
শরীয়তপুরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাকা বসতঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ”বীর নিবাস ” নামের ওই পাকা ঘর নির্মাণের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলায় ৬৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এই বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়া হয়। একই প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে নতুন করে আরও ২২১টি বীর নিবাস বরাদ্দ করা হয়। যার নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ২০২২ সালের মে/জুন মাসে। ভবন গুলো ৩ মাসের মধ্যে শেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ৩০টি বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ করা হয়নি। এছাড়া কয়েকটি ঘরের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
নড়িয়া উপজেলার চান্দনি এলাকার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ জলিল ফকির। দ্বিতীয় প্রকল্পে তার জন্য একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম চুন্নু (ভিপি চুন্নু)। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও আঃ জলিল ফকিরের ঘরের স্থানে পৌঁছায়নি একটি ইট ও। কোথাও ঘর তৈরিই হয়নি, কোথাও অর্ধেক করে লাপাত্তা ঠিকাদার।
ভুক্তভোগী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার কাছে বাড়তি টাকা চেয়ে না পেয়ে এখন পর্যন্ত ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কন্ট্রাক্টর আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা চেয়েছে। এটা নাকি ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার ভর্তুকি। আমি টাকা দেইনি বলে আমার ঘরের কাজ এখনো শুরু হয়নি। আমার এক কথা, এই ঘরের জন্য কাউকে কোনো টাকা-পয়সা দেবো না। এতে ঘর হলে হোক, না হলে নেই।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম চুন্নু বলেন, আমি ৫টি বীর নিবাস ঘর তৈরির দায়িত্ব পেয়ে তিনটির কাজ শেষ করেছি। বাকি দুইটি ঘর আমি করতে চাইনি। প্রশাসন থেকে অনুরোধে করায় নিয়েছি। তবে আমি কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা চাইনি। লোকসান হলেও ঈদের পর ঘর নির্মাণ করে দেবো।
একই প্রকল্পের আওতায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছত্রমুরিয়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদারের জন্য একটি বীর নিবাসের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘরটির ছাদ ও দেওয়াল নির্মাণ করার পর কাজ ফেলে রেখেছেন বোরহান উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার। ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় পুরনো একটি ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করেছেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, ঠিকাদাররা পুরনো উঁই পোকায় খাওয়া চৌকাঠ নিয়ে আসছে ঘরে লাগানোর জন্য। আমি লাগাতে নিষেধ করার পর থেকে তারা কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছে। ছয় মাস ধরে তারা কাজেও আসেনি বা কোনো যোগাযোগ করেনি। আমি অসুস্থ্য মানুষ যেকোনো সময় মারা যেতে পারি।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার বোরহান উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এদিকে কয়েক মাস আগে প্রস্তুত করা হয়েছে নড়িয়া উপজেলার নর-কলিকাতা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মোল্লার বীর নিবাস। ঘরটিতে বসবাস করছেন সুলতান মোল্লা ও তার পরিবার। তবে ঘরটিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য তৈরি হওয়া ঘরের ভেতরের রং উঠে যাচ্ছে। এছাড়া হাতের ঘঁষায় পলেস্তরা খসে পড়ছে।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মোল্লা বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা, এই দেশকে স্বাধীন করেছি। আর আমাদের এটা কী ঘর দিয়েছে? প্লাাস্টার পড়ে যায়, থাই খুলে যায়। বাথরুমে ¯øাব নেই। এটা আমাদের সঙ্গে তামাশা করার মতো। নয়তো এমন ঘর হবে কেন?
সদর উপজেলার দাসার্তা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন মুন্সির ঘর নির্মাণ করছেন ঠিকাদার জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ উজ্জামান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন মুন্সি বলেন, আমার নতুন ঘরের সামনের অংশে ঠিকমতো পুডিং লাগানো হয়নি, টিন দিয়ে পানি পড়ে। ঠিকাদারের লোকজন ৬০০ ফুট টিউবওয়েল পাইপ খনন করে চলে যাচ্ছিল, এই টিউবওয়েলের পানি কী খাওয়া যাবে? পরে ৬০০০ টাকা ঠিকাদারকে বেশি দিয়ে আরও ১০০ ফুট খনন করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ উজ্জামান বলেন, আমাদের ঘর এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তরের আগে কোনো ত্রæটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তাছাড়া টিউবওয়েল এই ঘরের স্টিমেটে ছিল না। এটা বাহিরের কাজ। ওটা এক সাব কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে করানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, ভূমি জটিলতার কারণে কিছু কিছু ঘরের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু করতে পারিনি। সমস্যা সমাধান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করা হবে।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে আমরা সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। ঘরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, সংস্কার কাজে ত্রæটি থাকলে তা সমাধান করা হবে। পাশাপাশি যারা এই নির্মাণ কাজে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ