হাসনাত-সারজিসের গাড়ির সাথে কী হয়েছিল? - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৪৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হাসনাত-সারজিসের গাড়ির সাথে কী হয়েছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৪ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৪ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমকে গাড়ি চাপা দিয়ে ‘হত্যাচেষ্টার অভিযোগের দাবি’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুজনই নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ নিয়ে পোস্ট করেছেন। তার নিজেদেরকে “শহীদ আবরার এবং আলিফের উত্তরসূরি” উল্লেখ করে লেখেন, “মারবা? পারবা না…মনে রেখো– শহীদেরা মরে না।”

ঢাকার ওয়ারী থানা সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামতে কাপ্তান বাজারের মুখে হাসনাতকে বহনকারী গাড়িটিকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয় বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে, এ ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ। এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে ঘিরে সংঘর্ষে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামে নিহত হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অনেকেই চট্টগ্রামের জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে তাদের প্রায় ১৫ জন চট্টগ্রাম থেকে চুনতির ফারাঙ্গা এলাকায়ও যান।

এ বিষয়ে সারজিস আলম জানান, তাদের গাড়ি তিনটির একটি ছিল স্থানীয় আয়োজকদের, একটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজকদের এবং আরেকটি গাড়ি মূলত ঢাকা থেকে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, দাফন-কাফন শেষ করে সাতটার দিকে লোহাগড়া থেকে ফিরছিলাম আমরা। যাওয়ার সময় আমাদের (ঢাকা থেকে নেওয়া) গাড়িটি সামনে ছিল। কিন্তু আসার সময় আমরা ভাবলাম মাঝে (অন্য গাড়িতে) যাই। কিছুক্ষণ পর চুনতি হাজী রাস্তার মাথা এলাকায় সড়ক ক্রসিংয়ের সময় ট্রাকের সাথে আমাদের সামনের গাড়ির ধাক্কা লাগে।

তবে ট্রাকের ধাক্কায় যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ গাড়ির চালক দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন। না হলে একটা ট্রাকের ধাক্কায় গাড়ির অস্তিত্ব টিকে থাকার কথা না। দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাক চালক আহমেদ নেওয়াজকে ঘিরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে লোহাগাড়া থানার পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, বুধবার রাতেই তারা ট্রাক ড্রাইভার মুজিবুর রহমান ও হেল্পার মোহাম্মদ রিফাত মিয়াকে আটক করেছেন।

এটি তো সাধারণ দুর্ঘটনাও হতে পারে। কেন তারা সন্দেহ করছেন? এ বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, আমরা প্রথমে সন্দেহ করিনি। আমরা প্রথমে উনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। কিন্তু তখন কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে সন্দেহজনক মনে হয়। উনি বলছিল, উনি জিনিসপত্র আনলোড করার জন্য এনেছিল। কিন্তু কোনও নথিপত্র উনার কাছে নাই। মালিকপক্ষের কথা জিজ্ঞেস করলে বলে বিদেশে থাকে।

“তাকে বললাম– মালিক ছাড়া তো আপনাকে যেতে দেওয়া হবে না, আপনার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; কারণ শিক্ষার্থীরা এই গাড়ি ভাড়া নিয়ে এসেছে; এটি শিক্ষার্থীদেরও গাড়ি না; এই ক্ষতিপূরণ তো শিক্ষার্থীরা দিতে পারবে না। আমরা চাচ্ছিলাম যে এটি সহজে শেষ করে ফেলা যায়। কিন্তু তখন উনি আবার বললেন– মালিক জেলে আছে।”

“তখন তাকে প্রশ্ন করতে করতে পাওয়া গেল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসাবে জেলে আছে ট্রাকের মালিক। তখন বিষয়টিকে সন্দেহজনক লাগে। পরে জিডি করি। কিন্তু জিডিতে তদন্ত করা যায় না। পরে মামলা দেই। এখানে ওনার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।”

ট্রাক মালিকের বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট কিছু জানতে পেরেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মি. আলম বলেন, “জুলাই অভ্যূত্থানের মামলায় আসামীর ব্যাকগ্রাউন্ড তো আওয়ামী লীগই।”

লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে সারজিস-হাসনাতদের গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া ট্রাকের মালিকের নামে একটি “রাজনৈতিক মামলা আছে”। সেই মামলায় গত ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি কারাগারে।

“আমরা যে গাড়িতে ছিলাম, সেটার সাথেই এটি হয়েছে,” উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন যে তারা প্রতিনিয়ত রিকশা বা সিএনজিতে করে চলাফেরা করেন। গাড়িতে মাঝে মাঝে চড়েন। তাই, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়াটা “গুরুত্বপূর্ণ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ