জামায়াতের রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত, প্রশ্ন আম্বিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন করে তাদের কী বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত? যেই দল মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করবে, সেই দল কিভাবে রাজনীতি করবে?
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি কর্তৃক ‘২রা মার্চ ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ইদানিং যে বক্তৃতা করেন সেগুলো খুবই প্রতারণামূলক। উনারা বলেন মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে চলেছিলো, ভারতের যে ভূমিকা ছিলো তাতে উনাদের (জামায়াত নেতা) মনে হয়েছিলো যে পাকিস্তানিরাও ঠিক আবার কখনো মনে হয়েছে যুদ্ধ যারা করেছে এরাও ঠিক। কিন্তু উনারা (জামায়াত ইসলামী) যে পলিটিক্যালি ইয়াহিয়া সরকারকে সাপোর্ট করেছিলো এটা কিন্তু বলে না। উনারা রাজাকার, আল-আল-বদর বাহিনীর সাথে সংযুক্ত ছিলো এটা বলে না। উনারা সারা বাংলাদেশে শান্তি কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছিলো এটা বলেন না। উনারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা নিয়ে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রেখেছেন।’
এ সময় প্রশ্ন রেখে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন করে তাদের কী বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত? যেই দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করবে, সেই দল কিভাবে রাজনীতি করবে? আমি মনে করে তারা এখনো সেটা (মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা) করার জন্য বক্তব্যে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে ২০২৫ সনে আমরা একটা ক্রাইসিসের ভেতরে আছি। আমাদের ভবিষ্যতটা কি, সংস্কারের ভবিষ্যতটা কি, গণতন্ত্রের ভবিষ্যত কি, নির্বাচনের ভবিষ্যত কি, নিরাপত্তার ভবিষ্যত কি; সবকিছুই সংকটাপন্ন বলে মানুষ মনে করছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথেষ্ট করতে পারছে বলে কেউ মনে করে না। সংস্কারের যে কথা হচ্ছে, এটা যে ঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে বা হতে পারবে এই ব্যাপারেও আস্থার সংকট রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বলবো এই দেশের সন্তানদেরকে পতাকার ইতিহাসটা জানার দরকার আছে। পতাকার সাথে জয় বাংলা স্লোগানের একটা সম্পৃক্তি আছে। এখনকার যে পতাকা ছেলেরা দেখে তারাতো আর একাত্তরের পতাকা দেখে নাই। একাত্তরের পতাকার একটা রাজনীতি ছিল, একটা মানচিত্র ছিলো। আমাদের আবেগ অনুভূতি পতাকা তৈরি হয়েছিলো। তাই আমি মনে করি আমাদের পতাকার সঠিক ইতিহাসটা যেন এখানে যুক্ত করা হয়। আর এটা বাদ দিলে আসলে অনেক কিছুই বাদ দিয়ে দেয়া হয়। আমাদের ৭ই মার্চের ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ। এখন থাকবে কিনা জানি না।
আম্বিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে আমাদের ছাত্র নেতাদের অনেকের বক্তৃতা ও কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত না। তারা শেখ হাসিনার দেয়া ইতিহাসও পড়ে নাই। শেখ হাসিনার দেয়া ইতিহাস বলে তারা পড়ে নাই তা না, তারা আসলেই ইতিহাস পড়ে নাই। যে কারণে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছে। আমি আশা করবো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে তারা জুলাই অভ্যূত্থানকে সামনের দিকে অগ্রসর করবে। এবং তারা যদি সেটা করে তাহলে যে কোনো রাজনৈতিক দল যারা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, গণতন্ত্রকে ধারণ করে তাদের কাজ করার সুযোগ আছে।
বঙ্গবন্ধুর অবদানটা বাংলাদেশের ইতিহাসে বা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এমন জায়গায় যে তাকে বিক্রি করে আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করা সম্ভব হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি মনে করি সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত একটা প্লাটফর্মে। যে প্ল্যাটফর্ম এদেশের মানুষকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে।
জেএসডি’র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এসময় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ