যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন উমামা ফাতেমা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন উমামা ফাতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মার্চ ৩০, ২০২৫ ৬:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মার্চ ৩০, ২০২৫ ৬:১০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেয়া নারী আন্দোলনকারীদের সাহসী ভূমিকার জন্য ‘ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ডে’ মনোনীত করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। আগামী ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সংহতি ও সম্মান জানিয়ে এ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ও অন্যতম সংগঠক উমামা ফাতেমা।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

পোস্টে উমামা ফাতেমা লেখেন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ‘ইন্টারন্যাশনাল ওমেন অব কারেজ (আইডব্লিউওসি) অ্যাওয়ার্ডস, ২০২৫’-এর পক্ষ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী আন্দোলনকারীদের বিশেষ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ অ্যাওয়ার্ডের অধীনে ‘ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থানের সকল নারীদের এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, নারী আন্দোলনকারীদের কালেক্টিভ স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের নারকীয় হামলাকে প্রত্যক্ষভাবে এন্ডোর্স করে যাওয়ার জন্য অ্যাওয়ার্ডটি ব্যবহৃত হয়েছে।

‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করে পুরস্কারটি ইসরাইলের হামলাকে যে প্রক্রিয়ায় জাস্টিফাই করেছে, তা এ পুরস্কারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের মৌলিক মানবাধিকার (ভূমির অধিকার) থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তাই ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সম্মান রেখে এই পুরস্কার আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করলাম।’

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সহিংস দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে একদল সাহসী নারী নেতৃত্ব দিয়েছেন। হুমকি ও সহিংসতা সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুরুষ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসাধারণ সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

এতে বলা হয়, যখন পুরুষ সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তখন নারীরা ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার সময়ও সেন্সরশিপ প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে যোগাযোগ চালিয়ে যান এবং বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য উদ্ভাবনী উপায় খুঁজে বের করেন। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে এ নারীদের সাহসিকতা ছিল ‘সাহসের সংজ্ঞা’।

ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল পররাষ্ট্র দফতরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে বিজয়ীদের এ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে।

২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ৯০টিরও বেশি দেশের দুই শ’ জনেরও বেশি নারীকে পুরস্কার দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিদেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো তাদের নিজ নিজ আয়োজক দেশ থেকে একজন সাহসী নারীকে মনোনীত করে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়। দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা চূড়ান্ত অনুমোদন করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ