বাংলাদেশের পুরনো ধারার রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে এখন বিপদের মুখে পড়বে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পুরনো ধারার রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে এখন বিপদের মুখে পড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৫ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৫ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার রাজনৈতিক দলগুলো আজ চরম সংকটে। সময়ের সাথে সমাজ বদলেছে, বদলেছে মানুষের চিন্তাভাবনা—কিন্তু এসব দল নিজেদের বদলাতে পারেনি। এ কারণে জনগণের ভেতরে এসব দলের প্রতি বিরক্তি ও ঘৃণা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। প্রথমত, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে শুরু হয় মনোনয়ন বাণিজ্য। দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে প্রয়োজন হয় মোটা অঙ্কের টাকা—যোগ্যতা, শিক্ষা বা জনসেবার অভিজ্ঞতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে না। ফলে টাকার জোরে যাঁরা মনোনয়ন পান, তাঁরা নির্বাচনে গিয়ে খরচ করেন কয়েক গুণ বেশি। এরপর ভোটে জিতলে শুরু হয় সেই টাকার পুঁজি তোলার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় মাঠে নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখলসহ নানা অপকর্ম। এলাকা জুড়ে শুরু হয় নেতাদের শোডাউন, প্রভাব খাটানো আর জনসাধারণকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা। আমি আগেও বলেছি—আজ দেশে যার হাতে মোবাইল আছে, সে-ই একপ্রকার সাংবাদিক। কেউ কিছু করলে, সেটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি কাজের বুয়া, রিকশাচালক, কিংবা ভিক্ষুক—সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন। তাই কিছু গোপন রাখা সম্ভব নয়। সিসিটিভি, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গাতেই নজরদারি চলছে। এসবের কারণে

দলের নেতাদের অপকর্মের দায় এসে পড়ে পুরো দলের ওপর, দলের মহাসচিবের ওপর, এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁর পরিবারের ওপরও। এর উদাহরণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। আগে প্রশাসন, পুলিশ বা আর্মি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে দমন করা যেত। এখন সেই দিন শেষ। যা-ই করা হোক না কেন, তার প্রমাণ চলে আসে জনসমক্ষে। প্রশাসন এখন অনেক বেশি সতর্ক, তবে দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে—বিগত সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেও অনেকে শিক্ষা নিচ্ছেন না। বর্তমানে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে, সৎ না হয়ে উপায় নেই। কারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রমাণ করেছে, ক্ষমতা দেখিয়ে জনতাকে দমিয়ে রাখার সময় শেষ হয়ে গেছে। যদি রাজনীতিকরা নিজেদের না বদলান, তাহলে জনগণ নতুন নেতৃত্ব খুঁজে নেবে—তারা আর ক্যাডার কিংবা টাকার জোরে কাউকে নেতা মানতে রাজি নয়। যারা বলছেন, তারা আবার ফিরে আসবেন—হ্যাঁ, তা সম্ভব, তবে আগের রূপে নয়। ফিরে আসতে হলে বদলে আসতে হবে—ভিন্ন গুণে, ভিন্ন চেহারায়, সৎ নেতৃত্ব নিয়ে। ওসি প্রদীপ-মেজর সিনহা হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, চট্টগ্রামের কমিশনার হ …, ইলিয়াস আলীকে গু…., বেনজীর, হারুন—এদের সবাইকে একসময় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে । এসব ঘটনা আমাদের শেখায়, কেউই ছাড় পায় না। আপনি যা করবেন, তার ফল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে—শুধু সময়ের ব্যাপার।
যাঁরা ভাবছেন, দল ক্ষমতায় গেলে ঠিকাদারি করবেন, সিন্ডিকেট গড়বেন, অবৈধ ব্যবসা চালাবেন—তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা: বদলান, নয়তো পালাতে হবে। দেশ খাওয়ার দিন শেষ, এখন জনগণ আপনাদের খাবে।
অতএব অহেতুক লাফালাফি করবেন না। কিসের লোভে রাজনীতি করছেন? ক্ষমতা কি একমাত্র পেশা? চাকরি করুন, ব্যবসা করুন—সেই পথেও সাফল্য সম্ভব। রাজনীতি করতে হলে সৎ হয়ে করুন, তাহলে জাতি আপনাকে ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
আর যদি ভুল করেন, তাহলে একা নয়—গোটা পরিবারকেই ইতিহাসের দায় বইতে হবে।
সততার কোনো বিকল্প নেই।

প্রিসিলার ফেইসবুক থেকে

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ