বিয়ের ৩০ বছর পর একই নম্বর পেয়ে দাখিল পাস করলেন স্বামী-স্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিয়ের ৩০ বছর পর একই নম্বর পেয়ে দাখিল পাস করলেন স্বামী-স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১১, ২০২৫ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১১, ২০২৫ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পাস করেছেন সাংবাদিক দম্পতি। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, দুজনই জিপিএ ৪.১১ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তারা হলেন, উপজেলার গোবরিয়া গ্রামের মো. কাইসার হামিদ (৫১) ও মোছা. রোকেয়া আক্তার (৪৪)। নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তারা।

কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার দুজনই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন। কাইসার বর্তমানে দৈনিক নয়াদিগন্ত কুলিয়ারচর প্রতিনিধি ও রোকেয়া দৈনিক বুলেটিন প্রতিনিধি।

এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। দ্বিতীয় মেয়ে স্নাতকের শেষ বর্ষে, তৃতীয় মেয়ে মাইমুনা নার্সিংয়ে পড়ছেন। আর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন নবম এবং ফাহিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সাংবাদিক কাইসার হামিদ বলেন, আমার সাংবাদিকতার বয়স ৩০ পেরিয়েছে। আমি সক্রিয় ভাবেই এই পেশায় কাজ করেছি সমাজ থেকে অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। কেবল কষ্ট ছিল পড়াশোনা নিয়ে। আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একই কষ্ট। বাইরে গেলে পড়াশোনার প্রসঙ্গ এলে চুপ থাকতাম। অনেকে ইচ্ছা করে খোঁচা দিতেন। এসএসসি পাস না করে সাংবাদিকতা করছেন কীভাবে, অনেকে প্রশ্ন তুলতেন। পরে যেভাবে হোক এসএসসি পাসের পরিকল্পনা করলাম। সেই অনুযায়ী ভর্তি হয়ে দুজনে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেই।

ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পরীক্ষায় পাস করতে পেরে আনন্দিত রোকেয়া আক্তার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হয় পরে সন্তান জন্ম হয়। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। এই কষ্ট দুই যুগের অধিক সময় ধরে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই কষ্ট দূর করার উপায় খুঁজতাম। এটা বুঝতে পারি কষ্ট দূর করতে হলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করার বিকল্প নেই। সে কারণেই সাহস করে পরীক্ষা দিলাম এবং পরীক্ষার ফল পেলাম এখন আমরা খুব খুশি।

দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন সুলতানা বলেন, মা-বাবা দুজনই এসএসসি পাস নয় বিষয়টি প্রকাশ করা কষ্টকর ছিল। যদিও এমন পরিস্থিতিতে কখনই পড়তে হয়নি। কারণ কেউ জানতোই না মা-বাবা এসএসসি পাস করেনি। তবে এই বয়সে মা-বাবার পড়াশোনার ইচ্ছা এবং পরীক্ষা দিয়ে পাস করার বিষয়টি আমাদের ভাইবোনদের অনেক আনন্দ দিচ্ছে। আমরা এ থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারি। লজ্জা নয়, শিক্ষার কোনো বয়স নেই।

এই সাংবাদিক দম্পতি বিয়ের আগে এসএসসি দিতে না পারলেও কয়েকবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংসারিক চাপে শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। তবে মনের জোর এবং স্বজনদের উৎসাহে পড়াশোনা করে এবার এসএসসি পাস করেছেন।

এ বিষয়ে কাইসার হামিদ বলেন, লেখাপড়ার জন্য দুঃখবোধ কাজ করতো। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে দুজন ভর্তি হয়ে গেলাম মাদরাসায়। এবার আল্লাহ আমাদের মনের আশা পূরণ করেছে।

কাইসার হামিদের বাড়ি কুলিয়ারচরের গোবরিয়া গ্রামে। রোকেয়া আক্তারের বাড়ি জেলার কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের মেয়ে। তারা আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৯৪ সালের ১৬ মার্চ বিয়ে করেন। দু-জনের বাবা পেশায় শিক্ষক ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ