শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ, চরম দুর্ভোগে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ গৃহবধূ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ, চরম দুর্ভোগে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২৭, ২০২৫ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২৭, ২০২৫ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

 

চাঁদপুর প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
গৃহবধূর স্বামী থাকেন প্রবাসে। গ্রামের বাড়িতে শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস। কিন্তু তাদের দুজনের মধ্যে বনিবনা নেই। এতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন গৃহবধূর দুই সন্তান।

তারমধ্যে একজন প্রতিবন্ধী, অন্যজন স্কুল পড়ুয়া। বৌ-শাশুড়ির টানা দীর্ঘদিনের বিরোধ মিমাংসা না হওয়ায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ। এমন ঘটনা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের কমলাকান্দি গ্রামে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ওই গ্রামের গণি বেপারী বাড়ির মৃত শহিদ উল্যাহ ও রাবেয়া বেগমের ছেলে মনির হোসেন ও জহির হোসেন।

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের বড় ছেলে প্রবাসী মনির হোসেন ও ছোট ছেলে জহির হোসেনের টাকায় টিন শেডের আধাপাকা একটি বসতঘর নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে সবার সঙ্গে এই দুই ভাইয়ের মধ্যে সুম্পর্ক থাকলেও বসতঘর এবং সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ।

অভিযোগ রয়েছে, ২ ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে স্থানীয় একটি মহলের প্ররোচনায় প্রবাসী ছেলে জহির হোসেনের স্ত্রী সালমা বেগম সাথীর সঙ্গে শাশুড়ি রাবেয়া বেগম ও ননদ নাছিমা বেগমের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে হামলা ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর ঘর ভাঙচুর করে তাকে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ বসতঘর থেকে বের করে দেন তার শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুরের লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বাপের বাড়িতে থাকার পর গতকাল শুক্রবার বিকালে সালমা বেগম সাথী তার প্রতিবন্ধী সন্তানসহ স্বামীর বাড়িতে যান। এসময় শাশুড়িসহ অন্য লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই নিয়ে শুক্রবার রাতেই ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করে সালমা বেগম সাথী।
সালমা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ গভীর রাতে তাকে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

কিন্তু শনিবার সকালে শাশুড়ি ও ননদ মিলে সালমা বেগমকে মারধর করে ওই বসতঘর থেকে আবারো বের করে দেয়। বর্তমানে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তিনি। এতে প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। তারমধ্যে আরেক শিশু সন্তান স্কুলপড়ুয়া। দাদির সঙ্গে মায়ের এমন বিরোধে তারও পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে।

ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী মালোয়েশিয়া প্রবাসী জহির হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ সালমা বেগম সাথী বলেন, আমার স্বামী ও ভাসুর মিলে বসতঘরটি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু এখন আমার ভাসুরের প্ররোচনায় শাশুড়ি ও ননদ মিলে আমাকে মারধর করে বসতঘর থেকে বের করে দিয়েছে। প্রবাসে থেকে জহির হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর যে অন্যায় হচ্ছে। আমি এর বিচার চাই। প্রয়োজনে আমাদের বসতঘরটি সমানভাবে ভাগ করে আপাতত তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান প্রশাসনসহ বিচার বিভাগের কাছে।

এদিকে, শাশুড়ি রাবেয়া বেগম বলেন, বউয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। আমার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে মামলা করছে। তাই একসঙ্গে থাকলে ঝামেলা হবে। এখন তারা অন্যত্র গিয়ে থাকুক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, আমি চেষ্টা করেছি তাদের বিরোধ মিটিয়ে দিতে। কিন্তু একপক্ষ মানলে অপর পক্ষ মানছে না। তাই সমাধানও হচ্ছে না।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে রাতে ওই নারীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। তবে আবারো তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা শুনেছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ