শহীদ জিয়ার বিএনপি বনাম জিয়া-পরবর্তী বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শহীদ জিয়ার বিএনপি বনাম জিয়া-পরবর্তী বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ২২, ২০২৫ ৬:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ২২, ২০২৫ ৬:৩২ অপরাহ্ণ

 

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ লন্ডন, ২২ আগস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য নাম। এ দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন জাতিকে নতুনভাবে সংগঠিত করার প্রতীক। স্বাধীনতার পর বিভক্ত ও হতাশাগ্রস্ত জাতিকে তিনি নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছিলেন।

শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদান

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় শাসনে যেসব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ও নির্যাতিত হয়েছিল, শহীদ জিয়া তাদের আবার রাজনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন। এভাবে তিনি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তার শাসনামলে কৃষি, শিল্প, কূটনীতি, শিক্ষা, সামরিক আধুনিকায়নসহ প্রতিটি খাতে গতি সঞ্চারিত হয়। দেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ১৯৮১ সালে শহীদ হন জিয়াউর রহমান। জাতির জন্য এটি ছিল অপূরণীয় ক্ষতি।

জিয়া-পরবর্তী বিএনপি

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। তীব্র প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তিনি বিএনপিকে নতুন শক্তিতে পরিণত করেন। অবশেষে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসায়।

তবে তখনকার আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের কৌশল পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি বিএনপি। বিএনপির কিছু ভুল সিদ্ধান্তের সুযোগ নেয় আওয়ামী লীগ এবং ১৯৯৬ সালে তারা পুনরায় ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতার শেষ তিন বছরে তারা সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রীয় রূপ দেয়, যা দেশের জন্য ছিল ভয়াবহ এক দৃষ্টান্ত।

অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও ভুল সিদ্ধান্ত

বিএনপি ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামী লীগের অপরাধ ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিচার করতে ব্যর্থ হয়। কেয়ারটেকার সরকার বিল, ইয়াসমীন হত্যা মামলা, সার কেলেঙ্কারি ইত্যাদি ইস্যুতে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনগণ হতাশ হয়।
রেন্টুর স্বীকারোক্তিতে “র” ও শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হলেও বিএনপি তা কাজে লাগাতে পারেনি। এমনকি শহীদ জিয়ার হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও সাজেদা চৌধুরীকে বিচারের মুখোমুখি আনার সুযোগও হাতছাড়া হয়।

১/১১ ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন

বেগম জিয়াকে ভুল বোঝানো হয়েছিল, ফলে আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচার থেকে তিনি বিরত থাকেন। এর মাশুল জাতিকে দিতে হয় ১/১১-এর সেনা-সমর্থিত সরকার এবং শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

বিএনপির উল্টো পথে যাত্রা

আজকের বাস্তবতায় বিএনপির উচিত ছিল অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে বিএনপি আবারো উল্টো পথে চলছে। সংকটকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে বিভাজন বাড়ছে। অথচ বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী কোনো দল বাংলাদেশে নেই। বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তই নতুন বিকল্প শক্তি তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে।

করণীয়

(১) দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী ও ভিন্ন উদ্দেশ্যের লোকদের চিহ্নিত করে তাদের সরাতে হবে।
(২) নীতি ও নেতৃত্বে যেন কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
(৩) ভিন্নমত থাকলেও সেগুলোকে ঐক্যের পথে আনার মাধ্যমে অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।

উপসংহার

শহীদ জিয়া সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই চেতনায় ফিরে গিয়ে বিএনপির উচিত আবারো জনআকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠা। ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়—দৃঢ় নেতৃত্ব, দূরদর্শী কৌশল ও শক্ত হাতে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই বিএনপিকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ