জয়পুর হা ট ১-আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি প্রথমবারের মতো জিততে চায় জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জয়পুর হা ট ১-আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি প্রথমবারের মতো জিততে চায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং করে নিজেদের প্রার্থী বলে দাবি করছেন। এ কারণে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মাঝে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। ভোটারদের মাঝেও চলছে নানা ধরনের সমীকরণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের তারিখ ধরেই ইতিমধ্যে নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জয়পুরহাট-১ আসনটি পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট সদর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সংসদীয় আসন ৩৪ জয়পুরহাট-১ আসনটি মূলত বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করলে এডভোকেট সামসুল আলম দুদু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। একইভাবে ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের ‘ডামি’ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সারা দেশের নেতাদের মতো তিনিও পলাতক রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর দেশে এখন পুরোপুরি নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে দেশের সবচাইতে বড় দল বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি দলটি। বর্তমানে দলটিতে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অনেক আগেই তারা তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তিনিও পুরো নির্বাচনী এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপি: বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে যারা দৌড়ঝাঁপ করছেন তারা হলেন- বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক মন্ত্রী মরহুম আব্দুল আলীমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলীম, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সাবেক এমপি মরহুম মোজাহার আলী প্রধানের সন্তান ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল গফুর মণ্ডল। তারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ বলয়ের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ তারেক জিয়া ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার সমর্থনে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করে নিজের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন যাকেই দেয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন জানান তারা।

জামায়াতে ইসলামী: জয়পুরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিপুলসংখ্যক কর্মী সমর্থক রয়েছে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থী মরহুম আব্বাস আলী খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৪৩ ও ৩৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি’র সঙ্গে জোটভুক্ত নির্বাচন করেন তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির ওপর নানা দমন-নিপীড়ন নির্যাতন চললেও কৌশলে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। অপরদিকে ত্রয়োদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও অন্যান্য দলের কোন্দলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো আসনটি নিজেদের কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে কাজ করছেন কর্মী সমর্থকরা। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ডা. ফজলুর রহমান সাঈদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনিও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত বিরামহীনভাবে পথসভা, জনসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাপা: আসনটিতে একবার ১৯৮৮ সালে জাপা থেকে খন্দকার ওলিউজ্জামান আলম জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে আর কোনো সাফল্য নেই তাদের। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের দোসর হিসেবে বেশ চাপে রয়েছে দলটি। রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল না হওয়ায় এখন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নিশ্চুপ রয়েছেন। তবে নির্বাচন করার সুযোগ পেলে এ আসনে জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জাপা মনোনীত প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন দু’জনেই দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. আমিনুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিচিত হচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদের নামও শোনা যাচ্ছে। এনসিপি জেলা কমিটি গঠন করলেও এখনো এ আসনে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ