নদীর একটি মন আছে, তাকে দুঃখ দিলে সে কান্না করে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নদীর একটি মন আছে, তাকে দুঃখ দিলে সে কান্না করে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ১১:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ১১:১০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

নদীর একটি মন আছে, তাকে দুঃখ দিলে সে কান্না করে। এখন আমরা যে দূষণ করি, ময়লা ফেলি তাতে নদীর কষ্ট হয়। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য উঠে আসে।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব নদী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নদী সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), রিভার অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ (আরএসডিবি) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। ‘নদীর কান্না’ শিরোনামে শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা এবং নদীর সুরক্ষাবিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদী দখল ও দূষণমুক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে এই আয়োজন করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বুয়েটের ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট-এর অধ্যাপক ড. সারা নওরিন।

রিভার অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে রিভার অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল গাজীর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ডরপ’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এ এইচ এম নোমান; এডুক্যান ইন্টারনেশনাল লিমিটেডের পরিচালক এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের একাডেমিক এডভাইজার মেজর মো. সারওয়ার মোরশেদ (অবঃ); স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদা পারভিন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর সাবেক সভাপতি ফজলে রেজা সুমন, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, খুলনা’র সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মোল্লা এবং গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী আমিরাহ্ ফাতেমা আন্জুম।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমদ পানির দূষণের কারণে মানব বসতির হুমকির দিকটি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশকে হাইড্রলিক দেশ ঘোষণা দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রিভার বাংলা’র সম্পাদক এবং ধরা’র সদস্য ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নদীর একটি মন আছে। তাকে দুঃখ দিলে সে কান্না করে। এখন আমরা যে দূষণ করি, ময়লা ফেলি তাতে নদীর কষ্ট হয়। বাচ্চারা যেন নদীর সুন্দর চিত্র দেখতে পায়, সেই শিক্ষা পরিবার থেকেই দিতে হবে যে- ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না।’

ফজলে রেজা সুমন বলেন, ‘নদীর কান্না আটকানোর দায়িত্ব নিতে হবে নতুন প্রজন্মকে। ঢাকার নদী বা খালের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য পরিকল্পনাকারীরা দায়ী। আমাদের এখন নাগরিক সমাজ থেকে আওয়াজ তুলতে হবে। নীল নদ বা টেমস নদীও কিন্তু দূষিত ছিল, জনগণের আন্দোলনের ফলে আজকে এই দুইটা নদী সুন্দর হয়েছে। তাহলে আমরা কেন নয়।

এ এইচ এম নোমান তার বক্তব্যে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এক সময় নদীর পানি খেয়েছি। আজকে বোতলের পানি ছাড়া বা ফিল্টার ছাড়া খাইতে পারি না।’

এ সময় মাহমুদা পারভিন প্রশ্ন রাখেন, নদী পৃথিবীর সবখানে আছে, তাহলে নদীর জন্য আলাদা দিবস কেন লাগবে? তার মানে নদীকে আমরা যেমন দেখতে চাই তেমন নাই। আমাদের নদীকে নিয়ে কাজ করতে হবে।

সারা নওরিন বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোবাসি কিন্তু ভালোবাসার জন্য কী করতে হবে সেটা আমরা জানি না। আমাদের জানতে হবে এবং আমাদের পরিবেশ ঠিক করতে হবে।’

আলোচনা সভার পর তিনটি ভিন্ন বিভাগে ৫ জন করে এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্যাটাগরিতে ৩ জন মোট ১৮ বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিশুদের আঁকা রঙতুলির ক্যানভাসে উঠে আসে নদীর প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ