ঠাকুরগাঁও ৩-বিএনপিতে জট, জামায়াতসহ অন্যান্য দলে একক প্রার্থী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁও ৩-বিএনপিতে জট, জামায়াতসহ অন্যান্য দলে একক প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২, ২০২৫ ১:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২, ২০২৫ ১:১১ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও। সীমান্তঘেঁষা রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ উপজেলার দু’টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে জোটগত কারণে বরাবরই জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছাড় দেয় দলটি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ২৭ বছর পর ২০১৮ সালে আসনটি দখলে নিয়েছিল বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান। তবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এজন্য দলটি থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করণে জটিলতা রয়েছে। আর জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো একক প্রার্থী ঘোষণা করে রয়েছেন স্বস্তিতে।

ইতিমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিচ্ছেন। সবমিলে জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশের এ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ও নতুন ভোটারদের যেন আশা-আকাঙ্ক্ষা, আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নাই। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে উঠে এসেছে কয়েকজন নতুন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ঠাকুরগাঁও বারের সভাপতি, জেলা বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যন জিয়াউল ইসলাম জিয়া, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর (আলিফ) এবং সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান।

দলটির নেতাকর্মীরা জানান, নতুনদের মধ্যে এডভোকেট জয়নাল আবেদীন ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি-জামায়াত নেতাদের মামলা মোকদ্দমা বিনা পয়সায় চালিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। ব্যক্তি হিসেবে তিনি সজ্জন এবং খোলামেলা। এককথায়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ওবায়দুল্লাহ মাসুদ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে সমগ্র মিছিল সমাবেশে সুবক্তা হিসেবে পরিচিত। দলেও তার গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট। প্রার্থী হিসেবে জিয়াউল ইসলাম জিয়াও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রযেছেন। তিনি ভদ্র, নম্র ও মিষ্টভাষী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনসাধারণের কিছু কাজ করেছেন। তাই এ উপজেলার জনসাধারণ তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবশে আবদ্ধ। একজন ভালো মানুষ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহাম্মদ রাজপথে থেকে অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। জেলও খেটেছেন। এবার এ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদীয়মান তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর (আলিফ) ছাত্রাবস্থা থেকে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জকে একটি আধুনিক ও উন্নত জীবনযাত্রার উপযোগী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি এ জেলার সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে তাদের সংগঠন মজবুত করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ বছর এ উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। এ আসনে তারা দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থী হিসেবে রাণীশংকৈল উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মাস্টার (অবসরপ্রাপ্ত)। বিপুল ভোটে টানা দু’বার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় দুই উপজেলার সর্বত্র তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রযেছে। দলের একক প্রার্থী হওয়ায় তার জন্য দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মী সমর্থকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গণঅধিকার পরিষদের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলা কমিটি ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে মনোনীত করেছে। তবে প্রভাষক আব্দুস সুবহান এ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে পোস্টার ব্যানারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির কোনো সাড়াশব্দ নেই। ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে এমপি হওয়া অধ্যাপক ইয়াসিন আলীও বেশ নিষ্ক্রিয়। তাদেরও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নেই। তবে মাঠে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। জেলা শাখার নেতা এডভোকেট আবু সায়েম দলীয় কার্যক্রমে সরগরম করে রেখেছেন মাঠ। দলটির ওয়ার্ক ছাড়া নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো প্রচার- প্রচারণা নেই বললেই চলে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ