কু মি ল্লা ৬-বিরামহীন প্রচারণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কু মি ল্লা ৬-বিরামহীন প্রচারণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : প্রতিনিধি
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ময়নামতি সেনানিবাস, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৬ সংসদীয় আসন গঠিত। আসন বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবশালী সম্ভাব্য চার প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। এখানে অনুসারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি-হুইপ মো. মনিরুল হক চৌধুরী, আরেক উপদেষ্টা সাবেক এমপি আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া বিগত সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সিটির টানা দুইবারের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু আটঘাট বেঁধে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি এ আসনের পাঁচবারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আকবর হোসেনের ফুফাতো ভাই। দল থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা আসন্ন এ নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন এবং না পেলেও প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। তারা তিনজনই এ আসনের প্রভাবশালী সম্ভাব্য প্রার্থী। এ অবস্থায় মনিরুল হক সাক্কুকে স্থানীয় বিএনপি তাদের গলার কাঁটা হিসেবে দেখছেন। এদিকে, বিএনপি’র নেতায়-নেতায় অনেকটা প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও ভোট ভাগাভাগির প্রেক্ষাপটে আসনটিতে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত। এখানে অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী হিসেবে মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নাম ঘোষণা করায় দলের নেতৃবৃন্দ তাকে নিয়ে দিন-রাত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীদের ঢিমেতালে প্রচারণা চলছে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর দলটির মহানগর সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ অনুসারী নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি এবং দখলে নিতে জামায়াত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন। তিনি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, বিগত সময়ে ইয়াছিন দলটাকে আগলে রেখেছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে। এছাড়া বিলুপ্ত কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবার এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক বিগত সময়ে এমপি থাকাকালে সদর দক্ষিণ উপজেলা, পৌরসভা ও থানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের কথা আজও সকলের মুখে মুখে। তার হাত ধরে সদর দক্ষিণ একটি সম্ভাবনাময় মডেল উপজেলায় রূপ নেয়। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে কুমিল্লা পৌরসভার সীমানা ঘেঁষে সদর দক্ষিণ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে সরকার দুইটি পৌরসভা একত্রিত করে ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে বিগত সরকারের সময় বিএনপি অধ্যুষিত কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) আসনটি বিলুপ্ত করে দেয় নির্বাচন কমিশন এবং আসন এলাকাটি কখনো তিন ভাগে, আবার কখনো দুইভাগে বিভক্ত করে পার্শ্ববর্তী একাধিক আসনের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নাঙ্গলকোট আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বৃদ্ধ বয়সে তিনি একাধিক মামলায় কারাগারে ছিলেন। বর্তমান কমিশন সদর দক্ষিণ উপজেলাকে কুমিল্লা-৬ অর্থাৎ সদর আসনের সাথে যুক্ত করে আসন বিন্যাস করে। এবার তিনি সদর আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে বেশ প্রচারণা রয়েছে। আসনটিতে দলীয়ভাবে তার বেশ প্রভাবও রয়েছে। তিনি অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে আসন এলাকার পাড়া-মহল্লায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং দলের মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে জানান। এদিকে, এ আসনে জামায়াত কয়েক মাস আগেই সংগঠনের মহানগর শাখার আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি প্রতিদিনই এ আসন এলাকার বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, পথসভা, লিফলেট বিতরণসহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পক্ষে দোয়া ও ভোট চেয়ে আসন এলাকায় পোস্টার ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় জামায়াতের পক্ষে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জয়ের ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী। এখানে এনসিপির তৎপরতা এখনো শুরু হয়নি। ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলাম, এবি পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রচারণা এখনো জোরালোভাবে শুরু হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মো. মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা সদর আসনের লোক আমি আগেও ছিলাম। আমার আসন থেকে গলিয়ারা ইউনিয়নকে সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে কামাল সাহেব (সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল) আমার ভোট কমানোর জন্য আমার আসনের ৮টি ওয়ার্ড শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল। সদর দক্ষিণ এবং কোতোয়ালি একটা আসনে ছিল। পৌরসভা তো আগে থেকেই আছে। সে হিসেবে আমি সদর আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো। অন্যান্যদের মধ্যে আমি সিনিয়র। কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার সকল রাস্তাঘাট করেছি। দলের মধ্যে আমার কোনো বদনাম নেই। দল এবার সদর আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আশা করি। সেই লক্ষ্যে দিন-রাত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে অব্যাহত রেখেছি। একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লা সদর আসন বিএনপি’র একটি ভোট ব্যাংক। আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, সে হিসেবে আমি আত্মবিশ্বাসী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। বিএনপি এত বড় দল, এখান থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইবে, তাতে রাগ করার কিছুই নেই। বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমি। আমার দল ২০১২ সালে আমাকে একবার বহিষ্কার করেছিল, পরে আবার নিয়েছে। ২০২২ সালে সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়। এটা জাতীয় নির্বাচন না, আমি যদি দলের নির্দেশ অমান্য করে কোনো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতাম তাহলে আমি জাতীয় বেঈমান হতাম। আমি আমার নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। তারেক রহমানের সঙ্গে আমার কয়েক দফায় কথা হয়েছে। বহিষ্কৃত হয়েও বিএনপি’র প্রতিটি প্রোগ্রাম আমি সফলভাবে করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে আমার একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। আমি চাই, আমার দল আগামী নির্বাচনে একজন শিক্ষিত ও ভালো লোককে মনোনয়ন দিক। কিন্তু হাজী ইয়াছিনকে মনোনয়ন দিলে আমি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবো। ইয়াছিনকে ছাড়া যে কাউকে মনোনয়ন দিক আমি মেনে নিবো।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সদর আসনটি কুমিল্লার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ভালো। ইনশাআল্লাহ্‌ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামীর জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ্‌ আগামী নির্বাচনে এ আসনের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নেবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ