সিলেট-৪ আসন : ‘অনিচ্ছুক’ আরিফে ৮ নেতার স্বপ্নভঙ্গ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:৫৩, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট-৪ আসন : ‘অনিচ্ছুক’ আরিফে ৮ নেতার স্বপ্নভঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ৭, ২০২৫ ১০:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ৭, ২০২৫ ১০:২৫ অপরাহ্ণ

 

ইয়াহইয়া ফজল
ছবি: প্রতিনিধি
সিলেটের রাজনীতিতে জল্পনা, কল্পনা, নাটকীয়তা, উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা থাকবে না, তা কোনোভাবেই হতে পারে না। সিলেট-১ আসন চেয়ে ছিলেন, দল চাইলো সিলেট-৪-এ। একদিকে অনিচ্ছা, অন্যদিকে দলের নির্দেশ—শেষ পর্যন্ত দলীয় আদেশেই মাঠে নামছেন আলোচিত জনপ্রিয় নেতা সিলেট সিটি করর্পোরেসনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে ‘অনিচ্ছুক’ আরিফুল হক চৌধুরীই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী সিলেট-৪ আসনে। এতে একদিকে উল্লাস বিএনপির শীর্ষ মহলে, অন্যদিকে গভীর হতাশা আট মনোনয়নপ্রত্যাশীর মনে। হঠাৎ রাতের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে আলোচনায় সরগরম পুরো সিলেট। নগর থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কী পারবেন আরিফুল হক দলীয় ভেতরের এই চ্যালেঞ্জ সামলে ভোটের মাঠে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে?

বিগত সিসিক নির্বাচনেও মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন, কি হচ্ছেন না—তা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় ছিল নগরবাসী। যদিও দলের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। এবারও সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একই পরিস্থিতি। আরিফ চান সিলেট-১, দল তাকে চায় সিলেট-৪ আসনে। শেষ পর্যন্ত সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরকে প্রার্থী করায় আরিফ অনেকটা আড়ালে, চুপচাপ। এবার নতুন খবর সিলেট-৪ আসনে ‘দলের ইচ্ছায়’ প্রার্থী হচ্ছেন ‘অনিচ্ছুক’ আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। সিলেট-৪ ও ৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নানা মনে নানা প্রশ্ন। কে হচ্ছেন এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী। নাকি শরিক দলের জন্য এ দুটি তুলে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ বলছিলেন, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হককে দিতে চায় দল, কিন্তু আরিফ নগর ছাড়তে নারাজ। তাতে ঝুলে রয়েছে প্রার্থিতা। আরিফ না হলে কে পাবেন মনোনয়ন? কারণ এ আসনে তৎপর ১১ প্রার্থীর আটজনই বিএনপির।

সিলেটজুড়ে এমন আলোচনার মধ্যে বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে হঠাৎ খবর ছড়ায় সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচনে ‘অনিচ্ছুক’ আরিফুল হক দলের নির্দেশ মেনে প্রার্থী হচ্ছেন। দলটির কোনো পর্যায় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা না হলেও খবরটি রাতেই ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপার্সনের বাসায় আরিফুল হককে তলব করা হয়। সে অনুযায়ী বুধবার রাত ৯টায় তিনি সেখানে যান। চেয়ারপার্সনের উপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আরিফুলকে সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার নির্দেশনা দেন। এতে নির্বাচনে সম্মত হন তিনি।

তারেক রহমানের নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলের চেয়ারপার্সনও আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার জন্য। উনার নির্দেশ আমি কখনো অমান্য করিনি, করব না। তাই সিলেট-৪ আসনেই নির্বাচন করব। সব আল্লাহর ইচ্ছ।’ তিনি আরো বলেন, ‘চেয়ারপার্সন আমাদের জাতীয় মুরব্বি। অতীতেও দলের প্রয়োজনে আমি বারবার নির্দেশ পালন করে এসেছি। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।’

তবে দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তিনিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি।’

কঠিন চ্যালেঞ্জে আরিফুল হক : সিলেটের সবকটি নির্বাচনী এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৎপর। কিন্তু সিলেট-১ আসনে মনোযোগী হওয়ায় সিলেট-৪ আসনে তৎপরতা ছিল না আরিফুলের। এ কারণে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।

সিলেটের সীমান্তবর্তী ও পর্যটনকেন্দ্রিক তিন উপজেলা গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে সিলেট-৪ আসনের বিস্তৃতি। এ আসনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ দুই হাজার ৬৫২। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটে সবচেয়ে বেশি দুই লাখ ৪১ হাজার ৮৬০। জৈন্তাপুরে এক লাখ ৩৯ হাজার ৯০৮ এবং কোম্পানীগঞ্জে এক লাখ ২০ হাজার ৮৮২। এই বিপুল ভোটারের কাছে পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সিলেট-৪ আসনে মাঠে তৎপর ১১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আটজনই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল উদ্দিন আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী জেবুন্নাহার সেলিম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অ্যাডিশনাল পিপি আল আসলাম মুমিন ও প্রবাসী বিএনপি নেতা আব্দুল হক।

আগে থেকে মাঠে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আব্দুল হাকিম চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মিফতাহ সিদ্দিকী ও জৈন্তাপুর উপজেলায় সামসুজ্জামান জামানের ব্যাপক তৎপরতা ছিলেন। মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও গত এক বছর ধরে মাঠে তৎপর। ফলে তাঁদের ‘ম্যানেজ’ করা এবং ভোটারের কাছে নিজেকে তুল ধরা আরিফুল হকের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জেলা বিএনপি ও তিন উপজেলা বিএনপির নেতারা।

নাম প্রকাশ না করে সিলেট জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আরিফুল হকের জন্য নির্বাচন সহজ হবে না। দলের প্রায় আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশী শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন। এখন তাঁদের ‘ম্যানেজ’ করা তাঁর প্রদান কাজ।’ যদিও আরিফুল হকের সেই ম্যাকানিজম জানা আছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গোয়াইনঘাটে সবচেয়ে বেশি ভোট। এখানে জিততে হলে আব্দুল হাকিম চৌধুরীকে পাশে পেতে হবে তাঁকে। যদিও কোম্পানীগঞ্জে তাঁর আগে থেকেই পদচরণা ছিল, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সুবাদে সেখানকার সঙ্গে আরিফের যোগাযোগ পুরনো। তবে জৈন্তাপুরে ভোট পাওয়া কঠিন হবে তাঁর জন্য।’

মহানগর বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতাও এর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘বড় ভোট ব্যাংক গোয়াইনঘাটে। সেটা পেতে তাঁর আব্দুল হাকিম চৌধুরীকে লাগবেই। তবে জৈন্তাপুরে তেমন সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হয় না। এখানে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন জনপ্রিয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ভালো। যে কারণে এখানে ভোট বার করা কঠিন হবে।’
সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ