সিলেটে ছয়টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহের দাবানল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৫৮, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটে ছয়টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহের দাবানল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ৬:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ৬:০১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও ‘স্বঘোষিত’ ও ‘প্রত্যাশিত’ প্রার্থীদের চলছে তুমুল লড়াই। চারটি আসনে কেন্দ্র প্রার্থী মনোনীত করলেও মাঠে তাদের অনেককে নিয়ে চলছে নানা খিস্তিখেউর।

সিলেট-১ ও ২ আসন ছাড়া বাকি দুটিতে দল মনোনীত প্রার্থী বদল, রিভিউর দাবিতে তৃণমূলের আন্দোলন তুঙ্গে। দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ, বিদ্রোহের দাবানল। একঝাঁক মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড় থেকে মনোনয়ন বাগিয়ে নিলেও তৃণমূলে তারা এখনো অনেকটা উপেক্ষিত। প্রার্থী বদল, রিভিউর দাবি জোরেশোরে উচ্চারিত হওয়ার পর অনেকটা আতঙ্ক-আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। কখন কোন ঘোষণা আসে-এ নিয়ে।

তৃণমূলের দাবি, স্থানীয় রাজনীতিতে নিবেদিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া প্রভাবশালী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রবাসী অথবা দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন না এমন নেতাদের। এমন অভিযোগ তুলে দল মনোনীতদের সঙ্গ না দিয়ে উলটো বঞ্চিত-বিদ্রোহীদের সঙ্গেই মাঠে আছেন পদবিধারীরাও।

এমন পরিস্থিতিতে সিলেটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকটা প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে দল প্রার্থী মনোনীত করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিককে। মাঠের নেতা রেখে প্রবাস থেকে আসা নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ। তৃণমূলের দাবি, এ আসনের শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। যিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরীক্ষিত স্থানীয় নেতাকে বঞ্চিত করে প্রবাসী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠের কর্মীরা হতাশ।

শুধু কাইয়ুম নন, মালিককে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যরিস্টার আব্দুস সালামও হতাশ। দল মালিককে মনোনয়ন দেওয়ার পরও তিন উপজেলার সাংগঠনিক পদধারীদের অনেকেই সালামের সঙ্গে।

ব্যারিস্টার সালাম ইতোমধ্যে দলের নির্যাতিত-হয়রানির শিকার নেতাকর্মী ছাড়াও নিরীহ জনগণের সেবায় একটি আইনি সহায়তা সেল করেছেন। এ সেলের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই রাজন। তিনি জানান, মনোনয়ন বা নির্বাচনি জয়-পরাজয় যাই হোক, এই সেলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে-এটা নির্বাচন সামনে রেখে মৌসুমি কোনো সেল নয়।

কাইয়ুম ও সালামের অনুসারীদের দাবি-মনোনয়নই যেখানে বেহাত হয়েছে, সেখানে নির্বাচনি ফলাফল বেহাত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

সিলেট-৪ আসনের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন দাবি করে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন সিলেটের সাবেক মেয়র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। কিন্তু মাঠে থাকা দলের অন্যরা কেউই মাঠ ছাড়ছেন না। মনোনয়নযুদ্ধে থাকা নেতাদের কেউ কেউ মাঠে গিয়ে বলছেন, আরিফের গ্রিন সিগন্যাল রেড সিগন্যাল না হওয়া পর্যন্ত তারা সবাই মাঠে থাকবেন। আরিফেরও আর ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। কারণ, দীর্ঘদিনের সাজানো তার সিলেট সদর-১ আসন চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দখলে। ওই আসনে রিভিউর দাবি, দেনদরবার না করেই সিলেট-৪ আসনে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কেন্দ্রেরও নির্দেশ ওই আসনের মাঠে থাকার।

সিলেট-৪ আসনে মনোনয়নের দাবিতে মাঠে আছেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। যিনি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়। হাকিমের অনুসারীরা আরিফকে ইঙ্গিত করে ‘স্থানীয় না বহিরাগত’ স্লোগানে মাতিয়ে রেখেছেন পুরো আসনটি। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীও মাঠেই আছেন। সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রবাসী হেলাল উদ্দিন নিজেকে এ আসনের ‘সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী’ দাবি করে মাঠে আছেন। মাঠে আছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও।

বিএনপি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর অদ্যাবধি বিএনপিতে না ফিরলেও বহুল আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান ওই আসনে অনেকটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলে ফিরিয়ে মনোনয়ন দেওয়া না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথেই হাঁটবেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত।

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। কিন্তু মনোনয়ন পাওয়ার পরও এমরান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী কারও মন জোগাতে না পারায় এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অন্য প্রার্থীদের সঙ্গ না ছাড়ায় অনেকটা বিপাকে। দলের মাঠের নেতারা জোর দাবি তুলেছেন রিভিউ প্রার্থী বদলের। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কাহের শামীম, সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি কমরুদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান পপি, চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ আরও কয়েকজন।

সিলেট-১ সদর আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ-সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। তিনি নিজের মতো করে নিরাপদেই গণসংযোগ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেট-২ আসনেও নিরাপদে কাজ করে যাচ্ছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা।

সিলেট-৫ আসনে জোটের সমীকরণে ঝুলে আছে বিএনপির মনোনয়ন। স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপি এ আসনটি শরিক দল, সমমনাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কথাই শোনা যাচ্ছে। দলের প্রধান উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রার্থী হতে পারেন বিএনপির সমর্থন পেলে। আবার কোনো সমর্থন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন ফুলতলীর পীরের পরিবারের কেউ একজন। তবে বিএনপি, জমিয়ত, ফুলতলীর পীরের দলসহ জামায়াতবিরোধী অন্য ইসলামি দলগুলো জোটবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দল ও মত ভিন্ন হলেও তাদের সবার লক্ষ্য অনেকটা এক-এ আসন যেন জামায়াতের দখলে না যায়। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চাকসুর সাবেক নেতা মামুনুর রশিদ মামুন। তাকে নিয়ে স্থানীয় বিএনপিও ঐক্যবদ্ধ। মামুনকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন গত কদিনের সমাবেশে। এ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা চৌধুরীও মনোনয়নপ্রত্যাশী।সূত্রঃ যুগান্তর

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ