চট্টগ্রামের ৫টি আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্তরা শান্তিতে নেই - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৫৩, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের ৫টি আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্তরা শান্তিতে নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১০টিতে। সময় যত গড়াচ্ছে মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ততবেশি প্রকাশ পাচ্ছে। এর মধ্যে ৫টি আসনে বিদ্রোহ মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। যেকারণে শান্তিতে নেই বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্তরা।

মিরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা এবং বাঁশখালী আসনে বিএনপি’র একাংশ দলের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। কোন কোন আসনে বিদ্রোহটা প্রকাশ্যে এসে গেছে। আবার কোন কোন আসনে সাংগঠনিকভাবে মনোনয়ন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। মূলত দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্তরা এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এক পক্ষ মশাল মিছিল কিংবা অন্য কোন শোডাউন দিলে তার পাল্টা হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকেও তার পাল্টা কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে। যা মনোনয়ন প্রাপ্তদের সামনে ভোটযুদ্ধের আগে নিজ দলের একাংশের সাথে আরেক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সামিল।

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই

এই আসনে দলের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এই চিঠি দেন।
তারেক রহমানকে দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানাবিধ অপরাধের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়ায় দলটির তৃণমূল নেতারা বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যার দরুণ এই আসনটি আগামী নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিএনপি নেতারা ওই চিঠিতে আরো লিখেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, জবরদখল, চাঁদাবাজি এবং পতিত আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যবসা বাণিজ্য হাতবদলের মতো অপরাধে যুক্ত ছিলেন দলের মনোনয়ন পাওয়া নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আলিউল কবির ইকবাল, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্য জিয়াদ আমিন খান, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জামশেদ আলম, সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম লিটন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন ও সদস্য সচিব জসিম উদ্দীন।চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি

এই আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন নীরব ছিল। মনোনয়নপ্রাপ্ত সরোয়ার আলমগীর সবার সাথে যোগাযোগ করে মান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করেছেন। ৭ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কর্ণেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার এবং বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর পৃথক কর্মসূচি পালন করে। সেদিন থেকে বাহারের অনুসারীরা প্রার্থী পূনর্বিবেচনার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে। আজিম উল্লাহ বাহারের অভিযোগ হল, দল যখন চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করবে তখন তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর সাথে কাজ করবেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের আগ পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তার নেতৃত্বে হতে হবে। সরোয়ার আলমগীর সেটা করছেন না। তাই তার অনুসারীরা ক্ষেপেছে।

চট্টগ্রাম-৩ সীতাকুণ্ড

এই আসনে মনোনয়ন ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাণ্ডব চালায়। কয়েকদিন পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে। তবে এই ঘটনায় বিএনপি’র বিএনপি’র সাত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। সেসময় আসলাম চৌধুরী আত্মবিশ্বাসের সাথে তার অনুসারীদের আশ্বস্থ করেন এটা প্রাথমিক মনোনয়ন। চূড়ান্ত মনোনয়ন তিনিই পাবেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই তিনি নির্বাচন করবেন। তবে সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রাপ্ত কাজী সালাউদ্দিনের প্রচার-প্রচারণার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ক্রমান্বয়ে বিপরীতমুখী কিছু নেতাকর্মীও তার কাছে ভিড়ছে।
চট্টগ্রাম- ১৩ আনোয়ারা

এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামকে প্রার্থী ঘোষণার পরপর বিপরীত কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে কয়েকদিন না যেতেই দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারীরা প্রার্থী পূর্নবিবেচনার দাবি জানায়। ১২ নভেম্বর রাতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশালমিছিল এবং সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এবিষয়ে সরোয়ারা জামাল নিজাম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কুচক্রী মহল দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা নষ্টের পাঁয়তারা করছে। তবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আনোয়ারা-কর্ণফুলির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী

এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। তার প্রার্থীতা ঘোষণার কয়েকদিন পর ৬ নভেম্বর ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর অনুসারীরা মশালমিছিল করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তারা বাঁশখালী আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তোলেন।
তাদের অভিযোগ দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠের রাজনীতির সাথে লেয়াকত আলীর সম্পর্ক। তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন তার অনুসারীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ