বগুড়া-৭ আসন: খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৫৪, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বগুড়া-৭ আসন: খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ২:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ২:১৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগেও এ আসনে তিনি পাঁচবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শ্বশুরবাড়ি এ আসনের গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মানে এ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না বলে ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রার্থী হিসেবে মো. গোলাম রব্বানীকে মনোনীত করেছে। দীর্ঘদিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত গোলাম রব্বানী এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী রাফিয়া সুলতানা রাফি গণমাধ্যমকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বগুড়া-৭ আসনে সংগঠন কোনো প্রার্থী দেবে না। সে কারণেই তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। বগুড়া-৭ আসনে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯৯১ সালে। ভোট পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৮৫৪টি। ওই নির্বাচনে পড়া ভোটের ৬৬ শতাংশের বেশি পান বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালে তিনি ওই আসনে ১ লাখ ৭ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৭২ শতাংশ ভোট পান। ২০০১ সালে একই আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫২ ভোটে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুন নাহার পুতুলকে হারিয়ে জয়ী হন। ৭৯ শতাংশেরও বেশি ভোট পান খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালে বগুড়া-৭ আসনে নির্বাচনে যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টি মনোনীত অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলতাফ আলী। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া পান ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট। মোহাম্মাদ আলতাফ আলী পান ৯২ হাজার ৮৩৩ ভোট। ওই নির্বাচনে ৭১ শতাংশ ভোট পান খালেদা জিয়া।

উইকিপিডিয়ার তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে বগুড়া-৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মো. ফজলে রাব্বি। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৬৭৮টি। তবে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ওই আসনে প্রার্থী শুধু বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের গোলাম রব্বানী। তবে নির্বাচনি পরিবেশের ওপর নির্ভর করছে প্রার্থী সংখ্যা আরও বাড়বে কি না।

জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, আগামী নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে ১৭৩ কেন্দ্রে ভোট দেবেন ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৪ জন। ভোটার তালিকা অনুযায়ী নারী ভোটার আছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৩ আর পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৬জন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ নির্বাচিত হলে তিনি ওই আসন ছেড়ে দেন। পরে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ওই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিগত নির্বাচনগুলোর ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থীরা সব সময়ই ভোট পেয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেক বেশি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না। নিজে ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কিছু শুভানুধ্যায়ীর ভোটকে ভরসা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন রেজাউল করিম বাবলু।

শাজাহানপুর উপজেলার এ বাসিন্দাকে বিএনপি ভোটের আগের দিন রাতে সমর্থন দিলে তিনি মহাজোট প্রার্থী মোহাম্মাদ আলতাফ আলীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। রেজাউল করিম বাবলু পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খান পেয়েছিলেন ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট।

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ইতোমধ্যে দলীয় প্রচারে নেমেছেন নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সমর্থকরাও। উঠান বৈঠকের পাশাপাশি ঘরে ঘরে যাচ্ছেন বিএনপির কর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, বেগম খালেদা জিয়া দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন বগুড়া-৭ আসনে। খালেদা জিয়ার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি এলাকায় উঠান বৈঠকে উপস্থিত ভোটাররা কথা দিয়েছেন, নির্বাচনে তারা ধানের শীষে ভোট দেবেন। ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার বলেন, নশিপুর ইউনিয়নের সব কেন্দ্রে বেগম খালেদা জিয়া ভোট পাবেন বেশি। জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শুরু করেছে। অনেক এলাকায় তাদের সমর্থনও ভালো আছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ