চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির দুর্গ ভাঙতে মরিয়া জামায়াত-ইসলামী ফ্রন্ট - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির দুর্গ ভাঙতে মরিয়া জামায়াত-ইসলামী ফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ৬:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ৬:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্ট। এ দুই দলের অব্যাহত উঠান বৈঠক, প্রচার ও গণসংযোগের কারণে ভোটাররা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়কে সব দলের প্রার্থীই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে ভোটের দিন ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বিএনপি থেকে বের হয়ে এলডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৮ সালে তিনি এলডিপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এই আসনে দলটি প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখে। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে দলটিতে সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দলটি আসনটিতে তাদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিতে শুরু করে। একই সঙ্গে মাঠে সরব উপস্থিতি রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের।

এই আসনে এলডিপি থেকে দলটির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলাম থেকে ডা. শাহাদাৎ হোসেন ও ইসলামী ফ্রন্ট থেকে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সোলাইমান ফারুকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। আসনটি তারা এলডিপিকে ছেড়ে দিতে পারে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় প্রচার ও গণসংযোগ করে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।

এই আসনে বিএনপি থেকে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মহসিন জিল্লুল করিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এম এ হাশেম রাজু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাহী ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ ছাড়া সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ‘বৃহত্তর চট্টলা নাগরিক পরিষদ’ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ‘সার্বজনীন নাগরিক পরিষদ’র ব্যানারে এই আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোটারদের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করতে জামায়াতে ইসলামী ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তারা গ্রাম পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষ করে তরুণদের ভোটে প্রভাব বিস্তারের জন্য শিক্ষা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট একাধিক কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টও পিছিয়ে নেই। দলটির জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সম্মেলন ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ ছাড়া আলোচনা সভা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে দলটি। ইসলামী ফ্রন্টের এই সক্রিয়তা বিভিন্ন স্তরের ভোট ব্যাংকে এলডিপির একচ্ছত্র প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

সাতকানিয়া উপজেলার রাইজিং স্টার স্কুলের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এলডিপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের সক্রিয়তাই এই আসনটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। এলডিপি আগে থেকেই সংগঠন পুনর্গঠনে ব্যস্ত। কিন্তু একই সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রচার বাড়ায় ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’

দোহাজারী পৌর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলো নির্বাচনের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে। এসব ইস্যুতে তিন দলই মোটামুটি জোরালো অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াই ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহেদ হোসাইন বলেন, ‘এই আসনে এলডিপি যদি নিজেদের ঘাঁটি ধরে রাখতে চায়, তাহলে এখনই ব্যাপক গণসংযোগ, তৃণমূলে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের ধারাবাহিক মাঠ কর্মকাণ্ড যদি আরও জোরদার হয়, তাহলে এই আসনে যে কেউ চমক দেখাতে পারে।’

সব মিলিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে, তা ইতিমধ্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন শুধুমাত্র অপেক্ষা, কোন দল শেষ পর্যন্ত মাঠে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলা এবং সাতকানিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৪ আসন। এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৪২৪ জন। এর মধ্যে চন্দনাইশে ২ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ ও সাতকানিয়ার ১ লাখ ৬ হাজার ৫৫ জন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ