লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী নৌযানে ২২ জনের মৃত্যু, ১৮ জনই বাংলাদেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে যাত্রা করা একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা গ্রিস উপকূলরক্ষী বাহিনীকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, ক্রিট দ্বীপের উপকূলের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিক।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে ক্রিটের হেরাক্লিয়ন শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধারপ্রাপ্তদের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দরনগরী তবরুক থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।
উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, যাত্রাপথে যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং খাবার ও পানির অভাবে ছয় দিন সমুদ্রে আটকা থাকেন। এতে চরম দুর্ভোগের কারণে ২২ জনের মৃত্যু ঘটে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এক পাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মানবপাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
নৌযানটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়ারাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থান করছিল। উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে দীর্ঘ এই যাত্রায় চরম ক্লান্তিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জনতার আওয়াজ/আ আ