ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক – জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২১, সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

 

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ
লন্ডন, ৪ এপ্রিল ২০২৬।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তচিন্তার মানুষ, প্রগতিশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো—ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। সেই আদর্শ থেকেই স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত করা এবং ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখা।

কিন্তু পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন। এর ফলে ধর্মীয় দল ও সংগঠনগুলো আবারও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ছিল মূলত তার শাসনকে বৈধতা দেওয়া এবং জনসমর্থন অর্জনের একটি রাজনৈতিক কৌশল। এভাবেই বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটে।

এরপর দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও কেউই এই বিষয়টি সমাধানের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে যে সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ছিল, তারাও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বাস্তব উদ্যোগ নেয়নি। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা বা পদক্ষেপ বাস্তবিক অর্থে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না; কারণ এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং সময় প্রয়োজন।

বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা দুই-তৃতীয়াংশ আসন এবং প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের প্রতিফলন। তাই জনগণের এই সমর্থ ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে আরও গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক পথে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়।

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার বিষয়; কিন্তু যখন ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তখন তা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং অসহিষ্ণুতার জন্ম দেয়। ইতিহাস দেখিয়েছে, ধর্মের নামে রাজনীতি প্রায়ই সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে।

অতএব, একটি আধুনিক, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্মের ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখা গেলে সমাজে সহনশীলতা, সাম্য এবং সম্প্রীতির পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার জনগণের দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক, ন্যায়ভিত্তিক এবং শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

 
 
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com