বাংলাদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেমন হওয়া উচিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেমন হওয়া উচিত
ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন, ৬ এপ্রিল ২০২৬।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো দক্ষ, সংবেদনশীল এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষার্থীদের উপর, আর শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বহন করেন শিক্ষকগণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে এখনো শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান, যা শিক্ষার মান ও পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।
বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা (সংক্ষেপে):
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকলেও তা এখনো সর্বজনীন নয়। অনেক শিক্ষকই নিয়োগের পর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান না। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু অনেক ক্ষেত্রে যুগোপযোগী নয় এবং ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা খাতে প্রশিক্ষণের ঘাটতি প্রকট।
শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে আচরণ:
শিশুদের সাথে আচরণে শিক্ষককে হতে হবে সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল এবং বন্ধুসুলভ। একটি শিশু তার শিক্ষককে আদর্শ হিসেবে দেখে। তাই কঠোরতা নয়, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে শিক্ষাদানই হওয়া উচিত মূলনীতি। শিশুর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক পরিবেশ অপরিহার্য।
প্রহার না করে শাসনের উপায়:
শিক্ষার্থীদের শাসন করার জন্য শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং বিকল্প হিসেবে –
ক. পরামর্শ ও বোঝানোর মাধ্যমে সংশোধন
খ. ইতিবাচক উৎসাহ প্রদান
গ. আচরণগত সমস্যা চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং
ঘ. অভিভাবকদের সাথে সমন্বয়
এই পদ্ধতিগুলো অধিক কার্যকর এবং মানবিক।
প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষকতা নয়:
যতদিন পর্যন্ত একজন শিক্ষক যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করবেন, ততদিন পর্যন্ত তাকে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত না করার বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক কেবল পাঠদানেই নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও শিশুনির্যাতন:
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষকরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষাদান করছেন। এর ফলে শিশুদের সাথে আচরণে অসচেতনতা দেখা যায় এবং তুলনামূলকভাবে শিশুনির্যাতনের ঘটনাও বেশি ঘটে।
কওমী মাদ্রাসার পরিস্থিতি:
কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এই খাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
উপসংহার:
বাংলাদেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট বিনীত আহ্বান – শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর, আধুনিক ও বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। প্রতিটি শিক্ষক যেন প্রশিক্ষিত হন, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে—এটাই হওয়া উচিত আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।
জনতার আওয়াজ/আ আ