আবু সাঈদ হত্যা মামলায় যারা যে দণ্ড পেলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৪:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৪:১২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছে। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন ও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুজন হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। উভয়েই গ্রেপ্তার রয়েছেন।
মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার এবং ২৪ জন পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেরোবি সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ও আনোয়ার পারভেজ।
যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিন আসামি হলেন— রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।
এছাড়া বেরোবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বেল্টু, গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ও তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়া ১০ বছর কারাদণ্ড পেয়েছেন।
৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সাবেক ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম) মো. আবু মারুফ হোসেন টিটু (পলাতক), সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন (পলাতক), বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, ছাত্রলীগ বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী দিশা, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান বাবু এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন আমু, সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ।
এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে একটি অভিযোগে খালাস এবং অন্য দুটি অভিযোগে যথাক্রমে ৫ বছর ও ৩ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাসের সময়কাল সম্পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ