ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার : আইসিটি মন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১১, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার : আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ২৩, ২০২৬ ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ২৩, ২০২৬ ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সমাজের সব মানুষ সমানভাবে তা ব্যবহার করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা অডিটরিয়ামে গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। সহআয়োজক ছিল ফ্রেন্ডশিপ ও সাইটসেভার্স।

মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে— এই নীতিকে সামনে রেখে অভিগম্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এখন থেকে সব ডিজিটাল সেবার নকশা করা হবে। এটি দয়ার বিষয় নয়, এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চায় সরকার। প্রযুক্তিকে মানুষের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

তিনি বলেন, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তে সার্বজনীন ডিজিটাল অভিগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সব নাগরিক যেন সহজে ডিজিটাল সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার সঙ্গে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।’

স্বাগত বক্তব্যে এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আব্দুর রফিক বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করলেও তারা এখনও ডিজিটাল সেবার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। এ কারণে সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরও অভিগম্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এটুআই বর্তমানে এআই-ভিত্তিক সাইন ল্যাংগুয়েজ টুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ই-কমার্স ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্‌ম এবং ডিজেবিলিটি ইনোভেশন নলেজ প্ল্যাটফর্‌ম তৈরির কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে অ্যাক্সেসিবিলিটি কনসালট্যান্ট দৃষ্টিজয়ী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘ডিজিটাল অ্যাকসেস কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

তিনি জানান, এটুআই-এর ডিজেবিলিটি ইনোভেশন ল্যাব সরকারি ওয়েবসাইট, শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল সেবাগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কাজ করছে।

এ সময় সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ সেক্টরের ঊর্ধ্বতন পরিচালক আয়েশা তাসিন খানও বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অভিগম্যতায় অবদানের জন্য পাঁচটি উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের থেরাপি সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট ও ডিজেবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেম, বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস, স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম আদালত মোবাইল অ্যাপ এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ইবিএলের স্কাইব্যাংকিং উদ্যোগ।

পরে প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মে মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে পালিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য হলো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবাগুলোকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও ব্যবহারবান্ধব ও সহজলভ্য করে তোলা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ