হাবিব উন নবী খান সোহেল: রাজপথের আপসহীন এক জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীর প্রতিচ্ছবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৫২, বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হাবিব উন নবী খান সোহেল: রাজপথের আপসহীন এক জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীর প্রতিচ্ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ২৭, ২০২৬ ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ২৭, ২০২৬ ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমে নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তেমনই এক নাম হাবিব উন নবী খান সোহেল। আত্মপ্রচারবিমুখ এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো ক্ষমতার মোহে কখনো সুবিধাবাদী রাজনীতির প্রবাহে গা ভাসাননি। বরং নিরন্তর সংগ্রাম, ত্যাগ এবং দলের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজপথের একজন আপসহীন সৈনিক হিসেবে।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়জুড়ে শত শত মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে কখনো আত্মগোপনে, কখনো কারাগারে, কখনো দিনের পর দিন রিমান্ডে কাটাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারেনি। দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারির নেতৃত্বে। যেন এক হার না মানা বিপ্লবীর প্রতিচ্ছবি।

রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই কেটেছে জীবনের অধিকাংশ সময়। ব্যক্তিগত জীবনের আরাম-আয়েশ কিংবা বৈষয়িক হিসাব-নিকাশ কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। সংসার, মামলার খরচ, জেলজীবনের চাপ—সবকিছুই অনেকটা নীরবে সামলাতে হয়েছে তার পরিবারকে। পরিবার তাকে খুব কমই কাছে পেয়েছে। আর যখন পেয়েছে, তখন হয়তো হাসপাতালে বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় কিংবা অসুস্থ শরীরে।

বুলেটের ক্ষত শুকানোর আগেই আবার শুরু হয়েছে প্রশাসনিক হয়রানি। করোনা মহামারীর সময়ও তিনি রেহাই পাননি। করোনায় আক্রান্ত ও গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আদালতে হাজির হতে হয়েছে তাকে। এমন বাস্তবতা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার গল্প নয়, বরং এক নিবেদিত সংগ্রামীর জীবন্ত ইতিহাস।

অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি শুধু রাজনীতির ময়দানেই নয়, বক্তৃতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায়ও ব্যাপক জনপ্রিয়। তার সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং আশাবাদ রাজনীতির কঠিন সময়েও নেতা-কর্মীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অন্ধকার সময়েও তিনি আশার আলো দেখাতে জানেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার দিনসহ প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে দেখা গেছে রাজপথে। যখন অনেকেই নীরব কিংবা অনুপস্থিত ছিলেন, তখনও তিনি ছিলেন কর্মীদের সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক। তার নেতৃত্ব ও সাহসিকতা তৎকালীন সময়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বসহ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এমনকি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও তার সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শঙ্কা নিয়েও কখনো আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। কারাগার, আদালত আর রাজপথ—এই তিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে গেছে তার রাজনৈতিক জীবন। তবুও দলের প্রতি তার আনুগত্য ও কমিটমেন্টে কখনো ভাটা পড়েনি।

তার জীবনের একটি ঘটনাই হয়তো তার আত্মত্যাগের গভীরতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারে বন্দি। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের জন্য নানা জটিলতা পেরিয়ে তাকে আদালত ও জেলখানার মধ্যে আনা-নেওয়া করা হয়। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা হলেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। দৃঢ়চেতা এই মানুষটিকেও সেদিন অনেকটা ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলেছিলেন, “নো কমেন্টস।”

কিন্তু এরপরও দলের প্রতি তার আনুগত্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আগের মতোই দল ও আদর্শের জন্য কাজ করে গেছেন নীরবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ এমন ত্যাগী, আদর্শবান ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো নেতারা প্রমাণ করেন—রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি আদর্শ, আত্মত্যাগ ও মানুষের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রামের নাম।

লেখক: কবি রুদ্র অহম।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ