আদ-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, যা বলেছে কর্তৃপক্ষ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪১, রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আদ-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, যা বলেছে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩০ মে) রাতে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকের যাতায়াতের ফলে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কর্মী ও সেবা নিতে আসা রোগীরা নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হন।

এতে বলা হয়, শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রবেশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা-কাটাকাটি হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দা বি করা হয়, এ সময় এক সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করলে তারা অপমানিত বোধ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদ-দ্বীন হাসপাতাল সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

এতে বলা হয়, হাসপাতালের কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

গতকাল শনিবার ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে একটি বেকারির সন্ধান পাওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা বেকারিতে যেতে চাইলে তাদের ওপর হামলা করেন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে তিনজন আহত হন।

হাসপাতাল ভবনের উপরের একটি তলায় ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়া গেছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেখানে ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি হতো। তবে এখানে কোনো ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি। এ কারখানা থেকে এমন কিছু গ্যাস তৈরি হতে পারে কিনা, যেটা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে সেটি দেখা হবে। এটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকাল হাসপাতালে আবার বিশেষজ্ঞ দল আসবে।

রুটির কারখানার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আসলে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাদের স্বজন থাকার কথা। এমন জায়গায় রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। আমাদের পরিদর্শন বা ইন্টিলিজেন্সের অভাব, তাই এমন হয়েছে। ভবিষ্যতে নজরদারি করা হবে এসব।

তিনি বলেন, এখানে আরও একটা জায়গায় অনেক পানি জমা ছিল। পানি, রুটির কারখানাসহ এসব থেকে এমন কোনো পদার্থ বা গ্যাস বের হয়ে শিশু মৃত্যুর কারণ হতে পারে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে গত ২৭ মে সকালে হাসপাতালটিতে এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ