মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুন ৭, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জুন ৭, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল করেন। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ জেলা নেতারা অংশ নেন।
মিছিল শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদলের অভিযোগ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। তাদের অভিযোগ, হামলার সময় এলাকার একটি মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যার ফলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষের দিকে গড়ায়।
অন্যদিকে, মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
হামলা ও সংঘর্ষে শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটে আমাদের কর্মসূচি শেষ করে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনি।’
এদিকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।’
তবে হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনতার আওয়াজ/আ আ