দেশ ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ জিয়া কেমন ছিলেন - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২০, শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশ ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ জিয়া কেমন ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬ ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

পর্ব সংখ্যা —- ৫.
” রোজ কিয়ামত পর্যন্ত শহীদ জিয়া নাম টি সৌদি আরব সহ সমগ্র আরব জাহানে বেঁচে থাকবে ” —–
সুবহানআল্লাহ ———-
বিস্তারিত দালিলিক তথ্যের বিবরন আজকের পঞ্চম পর্বে তুলে ধরছি।
সন্মানিত পাঠক বৃন্দ, আজ থাকছে দৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বীন আবদুল আজিজ ও সৌদির রাজ পরিবারে শহীদ জিয়া কতখানি সমাদৃত হয়েছিলেন তা নিয়েই আমার লেখার মূল লক্ষ্য।
প্রথমে সবার জ্ঞাতার্থে বিশেষ করে ১৯৮১ ‘র পরবর্তীকালেে প্রজন্ম ও বর্তমান প্রজন্মের জন্য যে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই তা হলো – সৌদি আরব বাংলাদেশ কে রাষ্ট্রিয় ভাবে স্বীকৃতি নিয়ে।
১৯৭৫ সালের ১৬ই অগাষ্ট স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিল।
১৯৭৭ সালে সদ্য স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে মহা এক দুর্দশায় ভুগছিল।
যা ছিল ভন্ডুল এক অর্থনৈতি।
ঠিক ঐ সময়তে ( ১৯৭৭ সালে) তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবের বাদশাহ্ ফাহাদ বীন আবদুল আজিজের বিশেষ আমন্ত্রণে এক ঐতিহাসিক সরকারী সফরে সৌদি গমন করছিলেন। ঐ সফরে বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরব সহ সমগ্র ইসলামী বিশ্বেের উন্নয়ন এবং মধ্যেপ্রাচ্যে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানি তথা শ্রমবাজারের সৃষ্টির ক্ষেত্র তৈরী ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক।
সৌদি আরব সফরকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপডৌকন হিসাবে সৌদির বাদশাহ্’র জন্য বেশকিছু নিম গাছের চারা নিয়ে গিয়েছিলেন।
সেই নিম গাছের চারা উপহার গ্রহনের মুহুর্তে বাদশাহ্ কিছুটা থমকে যান। তিনি বলে উঠলেন , পৃথিবীর নানান দেশ থেকে নানা ধরনের দামী দামী উপহার পেয়েও এমন অসাধারণ ও গভীর অর্থবোধক উপহার আমি এবং আমার দেশ কখোনো পায়নি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৃদু হেসে বলেছিলেন , গরিব মানুষের দেশের গরিব রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আপনার ও আপনার দেশের জন্য এই সামান্য উপহার।
পবিত্র আরাফাতের ময়দান সহ পবিত্র মক্কা — মদিনার এবং আপনার দেশের প্রতিটি শহরে , গ্রামে৷, গঞ্জে এই গাছ রোপন পরবর্তী কালে গাছটি বড় হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে পড়লে যেননি দেশের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি পবিত্র হজ্জ্ব করতে আসা মহান আল্লাহ সুবহানু ওয়া তালার মেহমান ( হাজ্জ্বী সাহেব গন) বৃন্দ প্রখর রোদ্রে ক্লান্তিতে গাছের ছায়ার নিচে বসে বেশ স্বস্তি পাবে। তা ছাড়া এই গাছটি ঔষধী গুনে খুবেই ভরপুর। এমন কি বিষাক্ত কোন পোকা মাকড় নিমগাছের আশেপাশে আসেনা। এই গাছ পাকাপোক্ত হলে ফার্নিচারের জন্য খুবেই উপযোগী। ফার্নিচারে অনন্তকাল কোন পোকামাকড় ধরার কোন সম্ভাবনা নেই।
সৌদি বাদশাহ্ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে শহীদ জিয়া কে বুকে জড়িয়ে ধরে এমন মহা মুল্যবান উপহারের জন্য হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এক পর্যায়ে বাদশাহ্ ফাহাদ বীন আবদুল আজিজ পবিত্র আরাফাতের মাঠে শহীদ জিয়াকে তাঁর নিজ হাতে একটি নিম গাছ রোপন করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হৃদয় ভরপুর অনন্দে বাদশাহ্ সহ পবিত্র আরাফাতের মাঠে নিম গাছ রোপন করেন। যে গাছটির পাশে বাদশাহ্ ” জিয়া সাজারাহ্ ” নামের ফলক লাগিয়ে দেন। পাঠকবৃন্দ ” সাজারাহ্” শব্দটি আরবি শব্দ। “সাজারাহ্ ” নামের বাংলা অর্থ হলো গাছ।
বর্তমানে নিম গাছ শুধু মুরুভুমীর দেশ সৌদি আরবের হজ্জ্বের মাঠে ময়দানে , মক্কা , মদিনায় নয়, সৌদি আরবের প্রতিটি শহরের আনাচকানাচে সহ সমগ্র আরব দেশের প্রন্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
মুরুভুমির দেশ সৌদি সহ গোটা আরব বিশ্বের হৃদয়ে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তাঁর দেশ – বাংলাদেশ ” সাজারাতুল জিয়া ” নামকরনে ধারন করে আজো বেঁচে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবে।
সুবহানআল্লাহ – বাংলাদেশের জন্য এমনটি কত নিয়ামত তা ভাবলে গর্বে হৃদয়টা ভরপুর হযে যাবে।
সন্মানিত অগ্রজ ও অনুজ বর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি — শহীদ রাষ্ট্র্রপতি সৌদি আরব সফরকালে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির দ্ধার সৌদি আরব সহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্চে কি ভাবে উন্মোচন করেছিলেন তা নিয়ে আসচে পঞ্চম পর্বে তুলে ধরবো ইনশাহআল্লাহ্।
( লেখাটি সবার পড়ার সুবাধার্থে দীর্ঘায়িত করছি না। তাই সৌদি আরব ও শহীদ জিয়াউর রহমান কে নিয়ে আরেকটি পর্ব যদি না করি তা হলে লেখাটি অসম্পূর্ণ হয়ে পড়বে। আশাকরি সবাই ৬ষ্ঠ পর্বের সাথে থেকে কৃতার্থ করবেন)
—————————— চলবে
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
সাবেক সভাপতি ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

সাবেক প্রচার সম্পাদক ফেনী জেলা বি এন পি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ