রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৩১, শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘গতানুগতিক’, ‘জনতুষ্টিমূলক’ এবং ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বাজেট নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কখনোই অর্জিত হয়নি এবং ধারাবাহিকভাবে তা নিম্নমুখী।

আরও পড়ুন
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ মাসের তথ্য অনুযায়ী, বছর শেষে রাজস্ব আহরণ সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটেও এর চেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের ঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাজেটের দর্শন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, বাজেটের আয় ও ব্যয়ের যে বিশাল ফারাক দেখানো হয়েছে, তা মূলত অতিরিক্ত ঋণনির্ভর। বাজেট বাস্তবায়নে যে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জিএম কাদেরের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা কমানোর সুযোগ নেই। ফলে রাজস্ব আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ধরলে সরকারের পরিচালন খরচেই ঘাটতি থাকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এর সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা যোগ করলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অত্যধিক নির্ভর হয়ে পড়বে, যা অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

জি এম কাদের বলেন, বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় এবং রপ্তানি আয় নিম্নমুখী। এরই মধ্যে প্রায় ৪০০টি মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার বেশিরভাগই শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল।

সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলেও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি তা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে এবং তাদের সমর্থকদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম ও সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজেটে এই সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকির পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে বিনিয়োগ আসবে না, আবার ভর্তুকি না দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং দরিদ্র মানুষ আরও বিপাকে পড়বে। কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত না করলে খাদ্য সংকটেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ