সামরিক সংঘাতে স্থবির আমিরাতের নিয়োগ, প্রযুক্তি খাত ছাড়া সবখানেই মন্দা - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৪২, শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সামরিক সংঘাতে স্থবির আমিরাতের নিয়োগ, প্রযুক্তি খাত ছাড়া সবখানেই মন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

 

এম এনাম হোসেন, ইউএই
ছবিঃ প্রতিনিধি

আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার প্রভাব সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরির বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। নকরি গাল্ফ হায়ারিং ইনডেক্স–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে নিয়োগ কার্যক্রম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কম বেতনের চাকরিগুলোতে, যদিও প্রযুক্তি নির্ভর পদ গুলো এখনো তুলনা মূলক ভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসিক ১০ হাজার দিরহাম পর্যন্ত বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন ২৬ শতাংশ কমেছে। ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার দিরহাম বেতনের পদে নিয়োগ কমেছে ২২ শতাংশ, আর ২১ হাজার থেকে ৪০ হাজার দিরহাম বেতনের চাকরিতে হ্রাস পেয়েছে ১৯ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতনের ৪১ হাজার থেকে ৮০ হাজার দিরহাম বেতনের পদে নিয়োগ কমেছে মাত্র ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে, ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ দিরহাম বেতনের উচ্চপদে নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি; এ ধরনের চাকরি মাত্র ৫ শতাংশ কমেছে। যদিও দেড় লাখ দিরহামের বেশি বেতনের পদে নিয়োগ ২৩ শতাংশ কমেছে, নকরিগাল্ফ বলছে, এ ধরনের চাকরির সংখ্যা স্বাভাবিক ভাবেই কম হওয়ায় সামান্য ওঠানামাও শতাংশের হিসাবে বড় দেখায়। তবুও এসব উচ্চ পদে দক্ষ কর্মী খোঁজা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে ভ্রমণ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে। ফলে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ কমিয়ে দেয় বা নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।

সব খাতের মধ্যে প্রযুক্তি শিল্প সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আইটি ও ডিজিটাল খাতের চাকরি কমেছে মাত্র ৬ শতাংশ, আর প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পদে হ্রাস মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা বিশ্লেষণ–সম্পর্কিত চাকরির চাহিদা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও তুলনা মূলক ভাবে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বিক্রয় ও বিপণন খাতে নিয়োগ ৪২ শতাংশ, মানবসম্পদ ও অর্থায়ন খাতে ৩৪ শতাংশ করে কমেছে। শিল্প ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ৩০ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্পে নিয়োগ কমেছে ২৪ শতাংশ, আর রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতে কমেছে ২০ শতাংশ।

প্রতিবেদনটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানের ৭ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি চাকরির বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয়তার বিষয়েও একটি প্রবণতা উঠে এসেছে। আমিরাতের ৬৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেয় না। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান পছন্দ নির্ধারণ করে, তাদের মধ্যে আরব প্রার্থীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যা মোট বিজ্ঞাপনের ২১ শতাংশ। ইউরোপীয় ও দক্ষিণ এশীয় প্রার্থীদের চাহিদা প্রায় ৬ শতাংশ।

নকরি গাল্ফের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিজনেস প্রধান শারদ সিন্ধ ওয়ানি বলেন, সামগ্রিক নিয়োগ কিছুটা ধীর হলেও প্রযুক্তি খাত এখনো শক্তিশালী রয়েছে। একই সঙ্গে কাতারে আর্থিক সেবা, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এবং ওমানে শিল্প ও ভোক্তা কেন্দ্রিক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ