দুবাই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চরম ভোগান্তি - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৪৪, শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দুবাই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

 

ইউএই প্রতিনিধি
ছবিঃ সংগৃহীত
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইট বিলম্ব, ত্রুটিপূর্ণ সমন্বয় এবং যাত্রীসেবার ঘাটতির কারণে প্রায় ১৬০ জন যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গেটে ফেরার পর প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় যাত্রীদের বিমানের ভেতরে বসিয়ে রাখা হয়। এ সময় যাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ জানানো হয়। কখনো বলা হয় ইঞ্জিনিয়ার আসতে দেরি হচ্ছে, কখনো বলা হয় সিঁড়ি সরানোর জন্য দায়িত্বরত কর্মী না থাকায় সিঁড়ি সরানো যাচ্ছে না।

পরবর্তীতে জানানো হয়, দীর্ঘক্ষণ রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে এবং রিফিউলিং প্রয়োজন। কিন্তু রিফিউলিংয়ের সময় শিফট পরিবর্তনের অজুহাত দেখিয়ে আরও বিলম্ব করা হয়। কখন নতুন শিফট এসে জ্বালানি সরবরাহ করবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য যাত্রীদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

রাত ২:২০ মিনিটের নির্ধারিত ফ্লাইটটি ভোর ৫:৪০ মিনিট পর্যন্ত ছাড়তে পারেনি। এ সময় বিমানের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। ফলে তীব্র গরমে ১৬০ জন যাত্রীকে দম বন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

এই বিলম্বের ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ শুধু বিমানবন্দরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা বহুস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বজনদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি- যাত্রীদের গ্রহণ করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বজনরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই হাজার হাজার টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করেছেন। এই অনির্দিষ্ট বিলম্বে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় ও শারীরিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কানেক্টিং ফ্লাইট মিসের আশঙ্কা- দুবাই থেকে আসা অনেক যাত্রীর ঢাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অন্য গন্তব্যে কানেক্টিং ফ্লাইট রয়েছে। এই বিলম্বের কারণে সেই ফ্লাইটগুলো মিস হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে টিকিট বাতিল, নতুন টিকিট ক্রয় এবং সময় নষ্টের মতো বড় আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন যাত্রীরা।

পেশাগত ও ব্যক্তিগত ক্ষতি- অনেক যাত্রীর পরদিন জরুরি অফিস মিটিং, চাকরির ইন্টারভিউ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজ রয়েছে। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে সেই কর্মসূচিগুলো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা অপূরণীয় পেশাগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগের দিনও ইউএস-বাংলার আরেকটি ফ্লাইট প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়ে। পরপর দুই দিন একই বিমানবন্দরে একই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে এ ধরনের ঘটনা যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইন্সের কাছে যাত্রীরা সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম সেবার মান আশা করেন। টেকনিক্যাল ত্রুটি একটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও, ত্রুটি পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের সঠিক তথ্য প্রদান, বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানবিক আচরণই একটি এয়ারলাইন্সের পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে। এক্ষেত্রে তার ঘাটতি স্পষ্ট।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন যাত্রীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ