১১-দলীয় জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৪২, শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

১১-দলীয় জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
কওমি-ঘরানার দলগুলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বে ফের ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলও রয়েছে। জোট থেকে এসব দল বের হয়ে কওমি ধারার দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্যের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাতটি দলের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ১০ দিনের মধ্যে হেফাজত আমিরের কাছে রূপরেখার প্রস্তাবনা জমা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আহ্বানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি দলের তিনজন করে নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে কয়েকটি কওমি-ঘরানার দলকে বের করে বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। তবে এ নিয়ে দলগুলো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত ঘোষণা দেয়নি। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইসলামি দলগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের বৈঠকেও কওমি-ঘরানার দলগুলোর ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী খবরের কাগজকে বৈঠকের কথা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে সবাই যে যার মতো মতামত তুলে ধরেন। সবাই একমত হন দলগুলো হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তবে ঐক্যের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে আরও আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুফতি সাজিদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় দেশের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া স্বার্থ ও মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী হেফাজতে ইসলামের সহ-শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কাজির হাট এমদাদুল ইসলাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল খবরের কাগজকে জানান, প্রত্যেক দল থেকে তিনজন করে শীর্ষ নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জোট গঠনের বিষয়ে সার্বিক আলোচনা হয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি করার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও বৈঠকের মাধ্যমে রূপরেখা ঠিক করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী জোটে থাকা কওমি-ঘরানার দলগুলো কি উভয় জোটে থাকবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকার তো কথা না।

তিনি জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া সাতটি দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি।

বৈঠকে হেফাজত আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মুফতি সাজিদুর রহমান, মাওলানা মামুনুল হক, হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির মাওলানা জসিম উদ্দিন ও মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীসহ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ