পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের মনে আনন্দ নেই : রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের মনে আনন্দ নেই : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৮, ২০২২ ১:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৮, ২০২২ ৪:০৩ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের মনে আনন্দ নেই মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলীয় লোকদেরকে লুটপাটের লাইসেন্স দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেলে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। পরে একই স্থানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসাসের উদ্যোগে গরিব মানুষের মাঝে খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন রুহুল কবির রিজভী।

দোয়া মাহফিলের পূর্বে দেয়া বক্ত্যবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদেরকে নতুন প্রেক্ষাপটে শবেবরাত পালন করতে হচ্ছে। আগে সারারাত নামাজ পড়ে ইবাদত করতাম আনন্দের সাথে। কিন্তু আজ সেই আনন্দ তিরোহিত। দেশে দুঃসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এখানে কোনোকিছু স্বাভাবিক না। স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা যায় না।

তিনি বলেন, সরকার দেশে আতংকের পরিবেশ তৈরি করেছে। এখন জাতি গোষ্ঠী ভেদে উৎসব পালন করতে গেলেও ভয় হয়। এখন মানুষের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষের নাগালের বাইরে।

রিজভী বলেন, মানুষ ভাত ও তরকারীর বিকল্প খুঁজছে। এখন আগের ৫ টাকার বনরুটি ১০ টাকা। কলা ১০ টাকা। এগুলো হচ্ছে দুর্ভিক্ষের লক্ষণ। মানুষ বিকল্পও খুঁজে পাচ্ছে না। ভরা মৌসুমেও পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা যে কৃত্রিমভাবে করা হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি আরো বলেন, হাট-ঘাট, বাজার-বন্দর সবই সরকারের লোকজনের সিন্ডিকেটের কবলে। শেখ হাসিনা তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন। তাদেরকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য লাইসেন্স দিয়ে রেখেছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উদ্যোগ নেই। বরং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। তারা এসি রুমে বসে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। অন্যদিকে দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এজন্য দায়ী অবৈধ সরকার ও তার মন্ত্রীরা। সরকার ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। মানুষের ভাত তরকারি কেড়ে নিয়েছে। শিশুদের দুধ কেড়ে নিয়েছে।তারা নিজেদের লোকদের দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাজিয়েছেন। কিন্তু জনগণের ক্ষোভের কাছে কামানও টিকতে পারেনা। আপনাকে যেতে হবে এটা অবশ্যম্ভাবী।

রিজভী বলেন, তারা দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার ধ্বংসের পর মানুষের কায়িক উপার্জন ধ্বংস করছে। ফলে আজকে এই যে পরব বলেন শবেবরাত বলেন মানুষ হালুয়া রুটির ব্যবস্থা করবে কী করে? তাদের মনে তো আনন্দ নেই। তাই আসুন আমরা আজকে বিশেষ এই মহিমান্বিত রাতে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি যেন এই অবৈধ সরকার বিদায় নেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা কারাগার থেকে মুক্তি পান, দেশনায়ক তারেক রহমান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং মানুষ ঠিকমতো খাবার ও বেচে থাকার সুযোগ পায়।

দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোঃ আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ, নাজিম উদ্দিন আলম, কাজী রফিক, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মোঃ নেছারুল হক, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, শ্রমিকদলের কাজী মোঃ আমীর খসরু, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, বাদল হাওলাদার, কৃষক দলের সাবেক নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মেহবুব মাসুম শানিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ