স্ত্রীর পরকীয়া: বাঁধা দেওয়ায় স্বামীর ফাঁসি, মূল আসামি গ্রেফতার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্ত্রীর পরকীয়া: বাঁধা দেওয়ায় স্বামীর ফাঁসি, মূল আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

 

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেওয়ার জেরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক কর্তৃক স্বামী মনসুরকে পিটিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যাকান্ডের মূল আসামী জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক।

গ্রেফতার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৯) নওগাঁ জেলারর মান্দা থানার কালিকাপুর গ্রামের মোঃ মোজাহার মন্ডলের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, মৃত মনসুর রহমান নওগাঁ জেলার মান্দা এলাকার বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীর তার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। মনসুর ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। মনসুর দুইটি বিয়ে করে তাদের নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করত। প্রথম স্ত্রী হাসিনার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সে মেঘনা নামে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে। তার প্রথম স্ত্রী হাসিনা এলাকার বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিল। সর্বশেষ হাসিনা পাশের গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়ায়। মনসুরের অনুপস্থিতিতে তারা মেলামেশা করতো।

‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মনসুরের নিজ বাড়িতে সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ তার কয়েকজন বন্ধু হাসিনার সাথে দেখা করতে আসে। বন্ধুদের পাশের ঘরে বসিয়ে হাসিনা এবং জাহাঙ্গীর মনসুরের শয়নকক্ষে সময় কাটাতে থাকে। এক পর্যায়ে মনসুর এসে তার স্ত্রীকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখে জাহাঙ্গীরের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে। তারপর তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এমন সময় জাহাঙ্গীরের বন্ধুরা চলমান বিবাদ মিমাংসার কথা বলে মনসুরকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়।’

র‌্যাব আরো জানায়, মূলত এ ঘটনাটির পেছনে সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ আরো কয়েকজন মিলে একটি নীলনকশা সাজিয়েছিল। হাসিনার সাথে মেলামেশা করে মনসুরকে উস্কে দিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাকে বাগানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটি আগে থেকেই সাজানো ছিল। এ ঘটনার পেছনের কারিগর এক অপরাধী- কাকতালীয়ভাবে তার নামও জাহাঙ্গীর। তার পিতার নাম মোজাহার। তার গ্রাম কালিকাপুর। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বন্ধুদের মধ্যে পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর ছিল না। সে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাগানে অপেক্ষা করতে থাকে।

র‌্যাব আরো বলে, এই জাহাঙ্গীরের সাথেও কিছুদিন পূর্বে হাসিনার পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং মনসুর বিষয়টি জেনে যায়। এতে হাসিনা এবং জাহাঙ্গীরের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হাসিনা সাহেব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। সে এই সুযোগটি গ্রহণ করে। পূর্ববর্তী প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মোজাহারের ছেলে জাহাঙ্গীর অন্যান্যদের নিয়ে ১১ নভেম্বর মনসুরকে হত্যার নীলনকশাটি সাজায়। তবে কৌশলে সে অপর জাহাঙ্গীরকে নায়ক বানিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দুই তিনদিন যাবৎ মনসুরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং ১৫ নভেম্বর সুযোগটি কাজে লাগাতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর জানায়, ঘটনার সময় সে বাগানে অপেক্ষায় ছিল। মনসুরকে বাগানে নিয়ে যাওয়ার পর তার নেতৃত্বে সকলে মিলে বাঁশ এবং গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। পেটানোর একপর্যায়ে মনসুর মৃতপ্রায় হয়ে যায়। সে মারা যায়নি দেখে জাহাঙ্গীরের প্রচন্ড রাগ হয়। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর তার মাফলার মনসুরের গলায় পেঁচিয়ে গাছের ডালের সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মনসুরের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর জাহাঙ্গীর ও তার অন্য সহযোগিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন সকালে মৃত মনসুরের ২য় স্ত্রী মেঘনা খোঁজাখুজির একপর্যায়ে বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় মনসুরের মরদেহটি আবিষ্কার করে। এই ঘটনায় ১৭ নভেম্বর নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় মৃত মনসুরের বাবা মোঃ বদের আলী ওরফে বুদু কবিরাজ বাদী হয়ে সাহেব আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ