জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে যোগদান করেছে মুসলিম লীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৩৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে যোগদান করেছে মুসলিম লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৩ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৩ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

এবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগে (বিএমএল) ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। দলে পাল্টাপাল্টি কারণ দর্শাও এবং বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে যোগদান করেছে মুসলিম লীগ-বিএমএল।

এ বিষয়ে মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিম খান সমমনা জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের কাছে চিঠি লিখেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের যে ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তার সমর্থনে গণতান্ত্রিক এই আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে আমাদের দল বাংলাদেশ মুসলীম লীগ রাজপথে থেকে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। এ বিষয়ে আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

ব্যারিস্টার নাসিম খান কালবেলাকে বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম এএইচএম কামরুজ্জামান খান মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এটিএম ফখরুজ্জামান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে মুসলিম লীগ-বিএমএল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ থেকে যুগপৎ আন্দোলন করবে।’

এদিকে ১১ দলের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ কালবেলাকে বলেন, ‘মুসলিম লীগ জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে যুক্ত হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে থেকে যুগপৎভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবে।’

১৯০৬ সালের ২৮-৩০ ডিসেম্বর ঢাকাতে সর্বভারতীয় শিক্ষা সম্মেলন ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ নামে একটি দল তৈরি হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতের বিভাজন ও পাকিস্তান স্বাধীনতার পর, অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ পাকিস্তান মুসলিম লীগ হয়ে ওঠে। ওই সময়ে পূর্ব-পাকিস্তানে পাকিস্তান মুসলিম লীগ ক্ষমতায় আসে। ১৯৬০-এর দশকে মুসলিম লীগ দুটি পৃথক দলে পরিণত হয়। এই দলটি হলো- পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন) এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগে বিভক্ত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কনভেনশন) এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগসহ সব ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলসমূহের জন্য অধ্যাদেশ অনুসারে উভয় পক্ষকে বৈধতা করে দেয়। এই বছরের ৮ আগস্ট উভয় পক্ষ একত্র হয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ গঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছিল।

এর একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুস সবুর খান, অপর ভাগটি ছিল শাহ আজিজুর রহমান। আজিজুর রহমান বিএনপির সাথে যোগ দিলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতৃত্বে চলে আসে সবুর খানের কাছে।

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুস সবুর খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ সংসদ নির্বাচনে ২০টি আসন জয় লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।

সবুর খানের মৃত্যুর পর, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এর ভেতরে প্রধান ভাগটি বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নামেই পরিচিত। ২০১৩ সালের ২ জুন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ‘বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল’ নামে নিবন্ধিত হয় এই দলের একটি অংশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী।

সর্বশেষ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুসলিম লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী সভাপতি ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ