ভোট ডাকাতি পাকাপোক্ত করতেই আসছে ইভিএম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:১৮, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভোট ডাকাতি পাকাপোক্ত করতেই আসছে ইভিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১০:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

 

আমিরুল ইসলাম কাগজী
এক।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দুই লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন দিতে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। ধারণা করা হচ্ছে ১৭ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক-এর সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি-বিএমটিএফ এসব ইভিএমের যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করবে।
নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট নিতে চায়। এ জন্য ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার তথা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার-এর প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে তারা। যদিও ইভিএমে ভোট গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। আবার অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ইভিএম কেনা ও এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এই ইভিএম এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখানো হয়েছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন-এ নেমেছে। আইএমএফ-এর হিসাবে এখান থেকে বাদ যাবে ইডিএফ ফান্ডের ৭ বিলিয়ন ডলার, তাহলে রিজার্ভ আছে প্রকৃতপক্ষে ২৫ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে ইভিএম কেনার জন্য এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলে রিজার্ভ দাঁড়াবে ২৪ দশমিক ৫৭ ডলারে। তাতে মাত্র আগামি তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
দুই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছেন ২০২৩ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে, তাই সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। ঘরের উঠোনে কিংবা বাগানের এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখা যাবে না। উৎপাদন বাড়াতে হবে। কিন্তু গম কি উৎপাদন করা যাবে? ৭৫ লক্ষ টন গম, ২৫ লক্ষ টন ভূট্টা, ২৫ লক্ষ টন চাল, সয়াবিন, চিনি এসব নিত্যপণ্য তো আমদানি করতে হবে। এর জন্য লাগবে ডলার। এফবিসিসিআই এর সভাপতি জসীম উদ্দিনকে সেদিন টিভি টকশোতে বলতে শুনলাম তারা ডলারের অভাবে নিত্যপণ্য আমদানি করতে পারছে না। সামনে রমজান এবং ঈদ। এসময়ের পণ্য সরবরাহ একটা জরুরি বিষয়। বাণিজ্যমন্ত্রী ৬টি নিত্যপণ্য আমদানিতে ডলার ছাড়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন। দেশে এমন অর্থনৈতিক সংকট চলছে, এই সময়ে তড়িঘড়ি করে কেন ইভিএম কেনা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অমূলক নয়। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আপত্তি জানিয়ে আসছে। ইভিএমে নির্বাচনের ফল যে জালিয়াতি করা যায়, তা–ও বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন-উপনির্বাচনে উঠে এসেছে। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে কার স্বার্থে ইভিএম কেনা হচ্ছে, তা জানা দরকার।
তিন।
ইভিএম কেনা হচ্ছে ১৫০ আসনের নির্বাচন করার জন্য। ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ নাকি ত্রুটিযুক্ত সেটা প্রশ্ন নয়। বিএনপির মতো একটি বড় দল এই ভোটিং মেশিনের বিরুদ্ধে ঘোর আপত্তি দিচ্ছে। তারপরও নির্বাচন কমিশন ইভিএমে ভোট করতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানিক অধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেটা সংরক্ষন করা ইসির সংবিধানিক দায়িত্ব। ১৫০ আসনের ভোটারগণ ইভিএম নামক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করবে আর বাকি ১৫০ আসনের ভোটারগণ মান্ধাতার আমলে সিল মারবে তা কি হয়? এটা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন জেনেশুনে এই সংবিধান লঙ্ঘন করার মতো অপরাধ করবে কিনা সেটা আরও ভেবে দেখার অনুরোধ করবো। আমি এদেশের নাগরিক। নির্বাচন কমিশন আমার নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে কি?
চার।
সরকার কেন ইভিএম কেনার জন্য মরিয়া ,তাও আবার ১৫০ আসনের জন্য, ৩০০ আসনের জন্য নয় কেন? বিশেষজ্ঞ মানুষের তৈরি এই ইভিএম। এ বিষয়ে আরেকজন বিশেষজ্ঞ তার নাড়িনক্ষত্র খুঁজে বের করতে পারবেই। ফলে এই ১৫০ আসনের ফলে কারচুপি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। তাহলে কি সরকার ১৫০ আসন নিশ্চিত করার জন্যই এত তড়িঘড়ি করে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে যাচ্ছে? সরকার এখন ইসির কাঁধে অস্ত্র রেখে যা কিছু করবে তা কেবলই তাদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য। আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে ভুগছে। তাতে দেশের অর্থনীতি রসাতলে যাক তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। তার চাই সোনার হরিণ। তারা চায় ক্ষমতা, চায় প্রশাসনের শক্তি, বিচার বিভাগের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। সেখানে নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করতে পারে এমন কোনো সম্ভবনা থাকলে সেটা কেন করবে আওয়ামীলীগ সরকার? যে দলটি বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশ করতে দেয় না, গণঅবস্থানের মতো নির্দোষ কর্মসূচির দিনেও পাল্টা সমাবেশ ডাকে, উঠতে বসতে বিএনপিকে গালিগালাজ করে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড সন্দেহের উর্দ্ধে নয়।
পাঁচ।
নির্বাচন কমিশন আজকে সরকারের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে যদি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ইভিএম কিনে সেটা আবার তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করে তাহলে জনগণ কিন্তু রুখে দেবে। ইতোমধ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে যেসব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছে, সেইসব ক্ষেত্রে এই মেশিন সফল হয়নি বরং চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনরত দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে শতভাগ অবস্থান নিয়েছে। দেশের সকল জনগণের জন্য একই পদ্ধতিতে তথা ব্যালটে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় তা সংবিধানের ৭ নং অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হবে। সেখানে বলা হয়েছে, “৭(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। ৭(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্ব্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসঙ্গত হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।”
অতএব সাধু সাবধান!

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ