কালশী ফ্লাইওভার উদ্বোধন কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৮:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১০, ২০২৩ ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো দেখতে ২.৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মীরপুর-কালশী ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় কালশী বালুর মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন।
অনলাইন ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৪

ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো দেখতে ২.৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মীরপুর-কালশী ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় কালশী বালুর মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত থাকবেন- স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম।
ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী সার্কেলের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায়- ২৩৩৫ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ইসিবি স্কোয়ার থেকে কালশী পর্যন্ত ৩.৭০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।
একনেক ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেয়।
বিএনসিসি ও বাংলাদেশ আর্মি (২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) ১,০১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে।
প্রকল্প বিবরণী অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটি ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো। এই প্রকল্পে যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করার লক্ষ্যে আগের চার লেন বিশিষ্ট রাস্তাগুলোকে ছয় লেন করা হয়েছে।
প্রধান চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভারটি ইসিবি স্কোয়ার থেকে কালশী ও মিরপুরের ডিওএইচএস হয়ে গেছে। দুই-লেন বিশিষ্ট র্যাম্পটি কালশী মোড় থেকে শুরু হয়ে কালশী সড়কে যাবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পাবলিক রিলেশন অফিস জানায়, প্রকল্পটির আওতায় একটি পিসি গ্রিডার ব্রিজ, দুইটি ফুল ওভার ব্রিজ, একটি পাবলিক টয়লেট, দুটি পুলিশ বক্স, একটি ৭.৪০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, একটি ১৭৫৫ মিটার আরসিসি পাইপ ড্রেন, ৩৩৮৩ মিটার যোগাযোগ তার, পৃথক সাইকেল লেন ও ছয়টি বাস বে নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি হলে মিরপুর, ডিওএইচএস, পল্লবী, কালশী, মহাখালী, বনানী, উত্তরা ও বিমানবন্দর সড়কের যানজট লাঘব বলে বলে আশা করা হচ্ছে।
4Shares
শেয়ার করুন
১
যে কারণে বড় শাস্তির শঙ্কায় বার্সেলোনা
০২ মিনিট
২
ছাত্রী ও তার মাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার
০৩ মিনিট
৩
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াডের’ উদ্বোধন
০৪ মিনিট
৪
আন্দোলন আন্দোলন খেলা বন্ধ করুন
১৩ মিনিট
৫
২৪ মিনিট
৬
২৪ মিনিট
৭
মা চাই না, বাচ্চা চাই : সালমান খান
৩০ মিনিট
৮
বিপিএলে তরুণদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাবেকরা
৪৬ মিনিট
৯
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমান রেল জাদুঘর পার্বতীপুরে
৪৯ মিনিট
১০
যে পাহাড়ে গেলে কেউ ফিরে আসে না- সেখানেই গেলেন ছয় অভিযাত্রী
৫০ মিনিট
১১
রসগোল্লা খাওয়া নিয়ে মারামারি, বিয়েবাড়িতে খুন হলেন রণবীর সিং
৫৪ মিনিট
১২
৫৫ মিনিট
১৩
এবার পিএসএলের প্রস্তাব ফেরালেন তাসকিন
৫৮ মিনিট
১৪
২৫ ফেব্রুয়ারি জেলায় জেলায় পদযাত্রা
০১ ঘন্টা ০২ মিনিট
১৫
কক্সবাজারের হোটেলে নারী খুন, হত্যাকারী আটক
০১ ঘন্টা ০৮ মিনিট
এই পাতার আরো খবর

ছাত্রী ও তার মাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াডের’ উদ্বোধন



মুহীয়্যূদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
https://www.facebook.com/plugins/page.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fdeshrupantor%2F&tabs&width=360&height=214&small_header=false&adapt_container_width=true&hide_cover=false&show_facepile=true&appId=327496357725459
ছাত্রী ও তার মাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:১৫

অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক ছাত্রীর অশ্লীল ছবি তুলে তাকে জিম্মি করে অসামাজিক কাজের প্রস্তার এবং ছাত্রীর মা কেও মেয়ের সেই ছবি দেখিয়ে একইভাবে অসামাজিক কাজের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে মো. মামুন (৩১) নামের এক গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সুমি (ছদ্ম নাম) দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষক মামুন একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং এলাকায় টিউশনি করে থাকেন। সুমি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় গৃহশিক্ষক মামুন পাঠদানের ফাঁকে সুমির অজান্তে তার গোপন অঙ্গের (বুকের) ছবি মোবাইলের মাধ্যমে ধারণ করে রাখেন। ধারণকৃত ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কৌশলে মামুন বিভিন্ন সময় সুমির শরীরের গোপন অঙ্গের আরও ছবি তুলে নিজ মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখেন। সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ভয়ে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি। সুমির অষ্টম শ্রেণির রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে তার পরিবার অভিযুক্ত মামুনকে গৃহশিক্ষক হতে বাদ দেন। এরপর থেকে মামুন সুমির স্কুলে যাতায়াতের সময় সেই সব ধারণকৃত ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার কু-প্রস্তাব দেন। মামুনের দেওয়া প্রস্তাবে সুমি রাজি না হওয়ায় মামুন সুমির পরিবারের ছবি ব্যবহার করে সুমির মায়ের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলে। ওই ফেসবুক আইডি থেকে মামুন সুমির মায়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে তাকেও কু-প্রস্তাব দেন। সুমির মা মামুনের কু-প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তিনি সুমির গোপন অঙ্গের ছবি পাঠিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দিতে থাকেন। বিভিন্ন সময় মামুন ভুয়া ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জার থেকে সুমির মাকে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও পর্ণ স্থিরচিত্র ও ভিডিও পাঠাতে থাকেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গৃহশিক্ষক মামুনের ধারণকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে সুমির পরিবার সিআইডির সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। সিআইডির সাইবার পুলিশ ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সিআইডি প্রধান এডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল মোহাম্মদ আলী মিয়ার তত্ত্বাবধানে সিআইডির সাইবার পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গতকাল শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক মো. মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
শেয়ার করুন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াডের’ উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:১৪

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএ)-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো বছরব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড-২০২৩’-এর।
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের আবদুল্লাহ ফারুক কনফারেন্স হলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্দো-ইউরোপিয়ান চেম্বার অব স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের প্রেসিডেন্ট ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা রিসডা বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুজ্জামান মুন্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সন্তাষ কুমার দেব, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জহির উদ্দিন আরিফ এবং এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব মানিকগঞ্জের পরিচালক ড. মো. ফারুক হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোয়েব-উর-রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএ)-এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের পরিচালক (অপারেশন) কিশোর রায়হান। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড-২০২৩’-এর অ্যাম্বাসেডরবৃন্দ, বিটিইএ-এর পরিচালক ও উপদেষ্টাবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড ২০২৩’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিটিইএ-এর পরিচালক (অপারেশন) কিশোর রায়হান।
উল্লেখ্য, ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড ২০২৩ প্রশ্ন ব্যাংক’ নামে একটি তথ্যবহুল বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে বিটিইএ। বইটি পড়ার মাধ্যমে লাখো তরুণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পর্যটন সম্পর্কে নতুন নতুন জ্ঞান লাভ করতে পারবে। এই বইয়ের মাধ্যমে তারা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো তুলে ধরতে পারবে। প্রশ্ন ব্যাংক বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ওপর ১০০ প্রশ্ন, দেশীয় পর্যটন ও ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ৩০০ প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ১০০ প্রশ্ন স্থান পেয়েছে। বইটি পড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা পর্যটনশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং ২৩ সালের বছরব্যাপী কর্মকাণ্ডের কারণে ২৪ সালে নতুন করে ডোমেস্টিক পর্যটনে ১ কোটির বেশি পর্যটক বাড়বে যা অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে বিটিইএ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড ২০২৩ প্রশ্ন ব্যাংক’ শীর্ষক বইটির প্রশংসা করে বলেন, প্রায় ৮৬ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করবে বলে আমার ধারণা। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড ২০২৩’-এর আয়োজন করায় বিটিইএকে ধন্যবাদ জানান এবং অলিম্পিয়াডের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএ)-এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড ২০২৩’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অলিম্পিয়াড স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্তীদের পর্যটন সম্পর্কে অবহিত করতে সহায়তা করবে এবং এর সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশপ্রেমের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও সূচনা হবে।
শেয়ার করুন
ফের স্বস্থানে রবীন্দ্রনাথ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাশে ফের স্থাপন করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য। আজ শুক্রবার দুপুরে এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। এ সময় ভাস্কর্যের পাশে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং সকল ধরনের সেন্সরশিপ বন্ধ কর’ ও ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি’ লেখা সংবলিত দুটি ব্যানার দেখা যায়।
গত মঙ্গলবার বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং সব ধরনের সেন্সরশিপের ওপর প্রতিবাদ জানিয়ে এই ভাস্কর্য স্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের কিছু শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার ‘নীতিমালাবহির্ভূত’ উল্লেখ করে ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ভাস্কর্যের ভাঙা অংশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাওয়া যায়।
ভাস্কর্য স্থাপনের সাথে যুক্ত ও ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সভাপতি শিমুল কুম্ভকার বলেন, যেহেতু ভেঙে ফেলা হয়েছিল, সেটা প্রমাণ করে যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাকস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার স্বাধীনতার বিষয়টি সমর্থন করে না। ভাস্কর্যটা ভেঙে ফেলা তাদের সরকারের দালালিরই নামান্তর। সে কারণে আমরা ভাঙা রবীন্দ্রনাথকে আবার প্রতিবাদীরূপে স্থাপন করেছি।
ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ভাস্কর্যটি অবৈধ বলেই সরানো হয়েছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব তারা যেন এটি সরিয়ে ফেলে। শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়- এমন কিছু যেন তারা না করে। এটি নিয়ে তারা যদি ভবিষ্যতে কিছু করতে চায় তাহলে আমরা ধরেই নেব যে তারা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছে।
5Shares
শেয়ার করুন
মুহীয়্যূদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৪৩

ঢাকার নবাবগঞ্জে এম. মুহীয়্যূদ্দীন ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয়ের মাঠে এ অনুষ্ঠান হয়।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান ভূঞার সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাড. মো. সাফিল উদ্দিন মিয়া। এসময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পনিরুজ্জামান তরুন বলেন , দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা এবং সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা এমন একটি বিষয় যা মানুষকে জয়-পরাজয়ের মানসিকতা শিক্ষা দেয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্য, ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ বারী মোল্লা, আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহীন খান, ফজলুল হক ফজল, মো. দেলোয়ার হোসেন খান,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হক ফুয়াদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার রায় প্রমুখ।
শেয়ার করুন
স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় স্বামী
| ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:০৭

পারিবারিক কলহের জের ধরে দিনাজপুর শহরে স্ত্রীকে হত্যা করেছে স্বামী। হত্যা করার পর মনোয়ার হোসেন (৩৩) নিজে থানায় এসে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন বলে জানায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে সুমাইয়া আক্তার হাসির (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে মনোয়ার হোসেনের দেয়া তথ্য মতে ঘরের ওয়ারড্রব থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মনোয়ার।
গ্রেপ্তার মনোয়ার হোসেন দিনাজপুর শহরের ছোট গুরগোলা এলাকার মৃত শেখ আব্দুল আজিজের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শহরের ঘাসিপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নিহত সুমাইয়া আক্তার হাসি বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়েছে। এই বিয়েটি তাদের দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে সুমাইয়া আক্তার হাসিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মনোয়ার।এর পর মরদেহ ওয়ারড্রবের ভিতরে রেখে দেয়। সারাদিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাত ১০টার দিকে মনোয়ার হোসেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ওয়ারড্রপের ভিতরে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পায়। রাতেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিন্নাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইসহাক আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
25Shares
শেয়ার করুন
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
| ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:০৪

পবিত্র শবে মেরাজ আজ। শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে মসজিদে, নিজ গৃহে কিংবা ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআনখানি, জিকির-আজকার এবং ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপন করবেন।
ইসলাম ধর্মে শবে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই মেরাজের মধ্য দিয়েই সালাত বা নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয় এবং এ রাতেই প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ আদায় করার বিধান নিয়ে আসেন প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপন উপলক্ষে আজ দুপুর দেড়টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র শবে মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মহা. বশিরুল আলম। আলোচক হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল কাদির।
7Shares
শেয়ার করুন
ক্রিকেট কূটনীতিক সৈয়দ আশরাফুল হক
| ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৯

সৈয়দ আশরাফুল হক নিভৃতচারী। ক্রিকেট খেলেছেন, ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এখনো ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।
কিন্তু কখনো এ নিয়ে তাকে আত্মম্ভরী কথাবার্তা বলতে শোনা যায়নি। বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির পেছনেও সৈয়দ আশরাফুল হকের ক্রিকেট কূটনীতির অবদান অনেক।
অথচ নিভৃতচারী এই মানুষ বলতে গেলে হারিয়েই গেছেন দেশের ক্রিকেট অঙ্গন থেকে, যেখানে এখন শুধুই মৌসুমি ক্রিকেটপ্রেমীদের দাপট।আসলে সৈয়দ আশরাফুল হক মানুষটাই এমন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বন্ধু আব্দুল হালিম জুয়েলদের সঙ্গে তিনিও যেতে চেয়েছিলেন রণাঙ্গনে। কিন্তু মাত্র ফেব্রুয়ারি মাসেই বিয়ে করা আশরাফুলকে রণাঙ্গনে যেতে দেননি জুয়েল।
শেয়ার করুন
সকালে ৪০ মিনিট অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক
| ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৭

মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থানের আবারও নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক আদেশে সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে ও ২০১৯ সালে একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সম্প্রতি অনেক কর্মকর্তাকে যথাসময়ে অফিসকক্ষে উপস্থিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জনসাধারণ এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সংযোগ স্থাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ নাগরিকেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারি কাজের গতিও কমে যায়।
এ জন্য সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ও সমন্বয় বাড়ানোর জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অত্যাবশ্যকীয়ভাবে সকাল ৯টায় অফিসে এসে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
12Shares
শেয়ার করুন
দিল্লি টেস্টে আর খেলা হবে না ওয়ার্নারের
| ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:০৩

বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির চলমান দিল্লি টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। তার কনকাশন বদলি হিসেবে ম্যাচের বাকি সময়টা খেলবেন ম্যাট রেনশ।
শুক্রবার ম্যাচের প্রথম দিন ৪৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন ওয়ার্নার। এই ইনিংসের পথে মোহাম্মদ সিরাজের একটি বাউন্সার তার হেলমেটে লাগে।
পরে অবশ্য ব্যাটিং চালিয়ে যান ওয়ার্নার। তবে অস্ট্রেলিয়া ২৬৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর আর ফিল্ডিংয়ে দেখা যায়নি তাকে। কনকাশন টেস্টে উতরাতে না পারায় পুরো ম্যাচ থেকেই ছিটকে গেলেন এবার।
ভারত শুক্রবার বিনা উইকেটে ২১ রান তুলে দিন শেষ করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ার্নের ফর্ম নিয়ে অনেক আলোচন-সমালোচনা চলছে। গত ডিসেম্বরে যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি। তবে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে শেষ ১৭ টেস্টে এটিই তার একমাত্র শতক।
নাগপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়ার্নারের রান ছিল ১ ও ১০। ম্যাচটা ইনিংস ও ১৩২ রানে হারে ভারত।
ওয়ার্নারের বদলি রেনশ মোট ১৩টি টেস্ট খেলেছেন। প্রথম টেস্টে তিনি খেললেও দুই ইনিংসে তার রান ছিল ০ ও ২। তাই দিল্লি টেস্টের একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন।
7Shares
শেয়ার করুন
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
| ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:৪৬

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নাম দাখিল করেন।
সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী না দেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই ১৩ ফেব্রুয়ারি। প্রত্যাহার ১৪ ফেব্রুয়ারি। সংসদ ভবনে ভোট গ্রহণ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনেই একক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
সংবিধান অনুয়াযী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছরের জন্য পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সেই অনুযায়ী, তার ৫ বছরের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে।
পাবনার সন্তান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জন্ম ১৯৪৯ সালে। ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর উপর হামলা হয়। যাতে হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ওসব ঘটনার তদন্তে \কমিশন’ গঠন করেন, যার প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
214Shares
শেয়ার করুন
ভালো নেই সোনালি সাফল্যের অগ্রনায়ক
| ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০

২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা শহর ছেয়ে গিয়েছিল বড় বড় ব্যানার-ফেস্টুনে। অনেকটা লাফিয়ে বলে হেড করার ভঙ্গিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মণ। তার পাশেই কারিকুরিতে ব্যস্ত ভারত কাপ্তান বাইচুং ভুটিয়া। সাফ কাপের আগাম বার্তা দিতে দুদেশের দুই তারকার ছবি সেঁটে দেওয়া হয় দেয়ালে দেয়ালে। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্ট সফল করতে মানুষের ঢল নামে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। নিরাশ হতে হয়নি। রজনীরা ঠিকই উপহার দেন কাক্সিক্ষত শিরোপা। সেই সোনালি সাফল্যের অগ্রনায়ক রজনী হয়েছিলেন আসর-সেরা। অথচ এই দেশ রজনীকে মনে রাখেনি। ভুলে গেছে তার কীর্তি। তাই তো সব খুইয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে সাফজয়ী অধিনায়ককে।
রজনী ছিলেন ১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দলের সদস্য। এরপর আসে ২০০৩ সালের সেই স্মরণীয় সাফল্য। দেখতে ছোটখাটো গড়নের দেশসেরা সেন্টারব্যাকের হাতে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দেন সাফজয়ী দলের অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান। এই আস্থার প্রতিদান দিতে নিজেকে সেরা রূপে প্রকাশ করেন রজনী। এরপর দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালে শেখ রাসেলের সহকারী কোচের দায়িত্বও পালন করেন। সে ক্লাবেই খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলকে ইতি জানান। এরপর থেকে খোঁজ নেই তার। হঠাৎ খোঁজ মেলে সাবেক ফুটবল তারকা আবদুল গাফফারের মাধ্যমে। জানা যায়, রজনী ভালো নেই। জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার আঁধার। এক বছর আগে ভারতের হুগলিতে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রায় পঙ্গুত্বের পথে তিনি। ব্যয়বহুল চিকিৎসার পরও স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন না। গত নভেম্বরে হারিয়েছেন প্রিয়তমা স্ত্রী মৌসুমী বর্মণকে। হাজারো সুখ-স্মৃতির সঙ্গে রেখে যান ১৯ ও ১৮ বছরের দুটি মেয়ে ঋত্তিকা বর্মণ ও মহিমা বর্মণকে। ভারতে নানাবাড়িতে থেকে দুই বোন বর্ধমান কলেজে অনার্সে পড়ছেন। তাদের পড়ালেখা ও ভরণপোষণ, গাজীপুরে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে টিকে থাকতে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে সব জমিজমা। করোনার সময় ভিটেবাড়িটাও হাতছাড়া হয়েছে অভাবের তাড়নায়। তাই তার মনোজগতে এখন ফুটবলের ঠাঁই নেই। সেটা গ্রাস করেছে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার দুশ্চিন্তা।
১৯৯৩ সালে পাইওনিয়র লিগে লালবাগ কে আর বয়েজের হয়ে শুরু ক্যারিয়ার। পরের বছর সরাসরি প্রথম বিভাগের দল অগ্রণী ব্যাংকে সুযোগ পান। এরপর মোহামেডানে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, আবাহনী ও শেখ রাসেলে খেলেছেন। ২০১৬ সালে শেখ রাসেল তাকে সুযোগ দেয় মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার। অবসরের পর বাফুফে কখনোই তাকে ডেকে দেয়নি যোগ্য সম্মান। জানতে চায়নি কেমন আছে!
অথচ দেশকে সেরা সাফল্য এনে দেওয়া রজনীর জীবনটা হতে পারত অন্যরকম। তারকাখ্যাতি বেঁচে হননি প্রতিষ্ঠিত। বরং মাত্র ৪৭ বছর বয়সেই তার মনে ঠাঁই নিয়েছে রাজ্যের দুর্ভাবনা। এ থেকে মুক্তি পেতে রজনী তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। তার সহায়তার আবেদন নিয়ে কাজ করা সাবেক ফুটবল তারকা আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমরা রজনীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারিনি। এই দায় কেউ এড়াতে পারবে না।’
এত দুঃখের মাঝেও ফুটবলার হয়ে জন্ম নেওয়ার গর্বটা টিকে আছে সবুজ গালিচার এই নির্ভীক যোদ্ধার। তবে তার এখনকার যুদ্ধটা শুধুই বেঁচে থাকার।
2.5kShares
শেয়ার করুন
ঢাকার বায়ু আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’
| ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:২৩

বায়ুর মান সূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) আজ ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’। রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) স্কোর ১৭০ রেকর্ড করা হয়েছে। যার অর্থ হলো জনবহুল এ শহরের বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষক সংস্থা একিউএয়ারের তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাসে একদিনের জন্যও অস্বাস্থ্যকর অবস্থা থেকে নামেনি ঢাকার বায়ু। বরং বেশ কয়েকদিনই ঢাকার বায়ুমান ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। এর ধারাবাহিকতা চলছে ফেব্রুয়ারিতেও।
১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, যেখানে ৩০১ থেকে ৪০০ এর স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউএয়ারের তথ্য বলছে, ১৮১ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোর; ১৮০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই। ১৭৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় চীনের শেনিয়াং এবং চতুর্থ স্থানে থাকা উত্তর মেসিডোনিয়ার স্কোপজের স্কোর ১৭৫। পঞ্চমে চীনের বেইজিংয়ের স্কোর ১৭৪।
মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে বায়ুদূষণে। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো: ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।
বর্তমানে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণকাজ, রাস্তার ধুলা ও অন্যান্য উৎস থেকে দূষিত কণার ব্যাপক নিঃসরণের কারণে ঢাকা শহরের বাতাসের গুণমান দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।
9Shares
শেয়ার করুন
এক নজরে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
| ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:৩৯

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।
রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করে এ কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় সঙ্গে ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও।
পাবনার সন্তান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জন্ম ১৯৪৯ সালে। ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন।
বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়। যাতে হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ওসব ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন করেন, যার প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের মৃত্যুতে খালি থাকা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনীত করা হয়।
তিনি ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্র সন্তানের পিতা এবং তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব ছিলেন।
13Shares
শেয়ার করুন
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য থেকে মহামান্য
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদীয় দলের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা চলছিল। শোনা গিয়েছিল চমক আসতে পারে। আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীর নামও জানা হয়ে গিয়েছিল মানুষের। কিন্তু সেসবের ধারেকাছেও গেলেন না প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে ব্যক্তিটিকে এই পদে দলীয় মনোনয়ন দিলেন তার নাম কারও ধারণায় ছিল বলে জানা যায় না। বিস্ময় জাগিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনীত করেছেন।
নির্বাচনের বছর বলে রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগ কাকে বেছে নেয় এ নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহ ছিল। গত দুইবারের ধারাবাহিকতায় এ পদের জন্য সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনীত করে তার ওপর ভরসা রাখলেন দলটির প্রধান শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে মনে করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের উৎসাহিত করেছেন তিনি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি টানা দুই মেয়াদে এ পদে আছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
হামিদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পথে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরবর্তীকালে জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তিনি। জেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ করা কোনো নেতা এই প্রথম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে যাচ্ছেন। চুপ্পুকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে এমন আলোচনা চলছে যে, আবারও ছাত্রলীগের ‘গর্জিয়াসনেস’ স্পষ্ট হয়েছে। তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করার মধ্য দিয়ে কোনো সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন করারও দরকার হচ্ছে না।
গতকাল রবিবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। পরদিন প্রত্যাহার। আর কোনো প্রার্থী না থাকলে এবং চুপ্পুর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তিনিই হবেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগ সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। এ ছাড়া বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি পদে কাউকে প্রার্থী করবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। সে কারণে ধরে নেওয়া যায় যে, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সাহাবুদ্দিন চুপ্পু : বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য হওয়ার কথা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তার এক লেখায় জানিয়েছেন। ওই লেখায় তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্যাকবলিত মানুষকে বাঁচাতে পাবনায় ‘মুজিব বাঁধ’ উদ্বোধন করতে এসেছিলেন জাতির জনক। আমি তখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। স্বাগত বক্তব্যের দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর। বক্তৃতা দিলাম। ডায়াস থেকে যখন মুখ ঘুরিয়ে চলে যেতে উদ্যত হয়েছি, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু আমার হাত ধরে ফেললেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাঁড়িয়ে গিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কপালে চুমু এঁকে বললেন, ‘তুই তো ভালো বলিস।’ বঙ্গবন্ধুর বুকে লেপ্টে আছি; কী বলব কী বলা উচিত, বুঝতে পারছিলাম না। মুহূর্তের জন্য হতবিহ্বল হয়ে গেলাম। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম জাতির জনকের দিকে।
বঙ্গবন্ধুকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মধ্য দিয়ে যথারীতি অনুষ্ঠান শেষ হলো। বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারে উঠতে যাচ্ছেন, এমন মুহূর্তে আমার কাছে জানতে চাইলেন ঢাকা যাব কি না? আগপাছ চিন্তা না করে রাজি হয়ে গেলাম। প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টার ভ্রমণের সুযোগ হলো, তাও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। ঢাকায় হেলিকপ্টার থামল পুরনো বিমানবন্দর তেজগাঁওয়ে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে ডাকলেন বঙ্গবন্ধু। নির্দেশ দিলেন, ‘ওকে (আমাকে) বাসায় নিয়ে খেতে দাও, তারপর খরচ দিয়ে পাবনা পাঠিয়ে দিও।’
সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ওই লেখায় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল পঁচাত্তরে। ধানম-ির ৩২ নম্বরে। জেলা বাকশালের সম্পাদক ও ৫ যুগ্ম সম্পাদক মিলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই। জাতির জনক সেদিন তার স্বভাব ড্রেস কোড ‘হাফ-শার্ট’ ও ‘লুঙ্গি’ পরেছিলেন। এই সাক্ষাতের দু’মাস পরেই যে বঙ্গবন্ধু চলে যাবেন, কে জানত সেটা? ভবনে ঢুকে বঙ্গবন্ধুকে সালাম দিলাম। বাকশাল কমিটিতে স্থান দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। তিনি আমাদের নানা দিকনির্দেশনা দিলেন। চলে আসব, ঠিক এই মুহূর্তে ডাকলেন বঙ্গবন্ধু। বললেন ‘কিরে, আমার সঙ্গে তো ছবি না তুলে কেউ যায় না; তোরা কেন যাস।’ তাৎক্ষণিক ক্যামেরাম্যান ডাকলেন। ফটোবন্দি হলাম ‘রাজনীতির কবি’র সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে নেওয়া সেই ছবি আজও আমি আগলে রাখি। তার কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ স্মৃতিচিহ্ন যে এটাই!
কী কারণে চুপ্পুকে মনোনয়ন : আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনীতি ছাড়াও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন চুপ্পু। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ায় জেল খাটতে হয়েছিল তাকে। এ বিষয়টি স্মরণ করে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বব্যাংকের তোলা কথিত পদ্মা সেতুসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ খুব ভালোভাবেই সামাল দিয়েছিলেন চুপ্পু। সরকার ও আওয়ামী লীগ যখন খুব মুষড়ে পড়েছিল তখন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে শক্ত অবস্থান নেন তিনি। এটাও তার প্রতি শেখ হাসিনার সুনজরের কারণ।
সূত্রমতে, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় সেটা চুপ্পুর নিজের হাতে করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর অপর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কানাডার আদালতে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়িত্ব পালনকালে অবসরে যান তিনি।
ওই নেতা বলেন, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে। নির্বাচন ঘিরে রাষ্ট্রপতি পদটি খুব গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র ও চক্রান্ত নড়েচড়ে বসবে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন মানুষ দরকার যিনি আস্থা-বিশ্বাস ও কমিটমেন্টের জায়গায় শতভাগ অবিচল থাকবেন। যিনি চাপের কাছে, লোভের কাছে ও ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। আবার দক্ষতাও লাগবে। এই বিবেচনাবোধ থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে বিকল্পহীন মনে করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের একজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল বিষয় হলো ওই ব্যক্তি কতখানি আস্থা ও বিশ্বাসের, সেটি। এসবই আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কাছে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে এগিয়ে গেছেন তিনি।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার কারণ ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পরবর্তীকালে তার প্রণীত প্রতিবেদন সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এই কাজটিও তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে অনেক দূর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সততা-দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের প্রশ্নে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে অবিচল তিনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত চুপ্পু নির্মম ওই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল।
মনোনয়নপত্র দাখিল : গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সমর্থক হিসেবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ স্বাক্ষর করেন।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আসে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রে সই করেন চুপ্পু। বেলা ১১টা ও ১১টা ৫ মিনিটে তার নামে দুটো মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় অন্য নেতারা। চুপ্পুর একমাত্র ছেলে ও দুই নাতিও উপস্থিত ছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নতুন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর পরিচিতি তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদীয় দলের নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তিনি সে অনুযায়ী এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এক ছেলের বাবা। তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের যুগ্ম সচিব ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, দুটি মনোনয়নপত্র আগামীকাল (আজ সোমবার) দুপুর ১টা থেকে বাছাই করা হবে।
সচিব বলেন, ‘আগামীকাল বাছাইয়ের পর বৈধ মনোনয়ন যেটা হবে তার নাম ঘোষণা করা হবে। আইনানুগভাবে প্রত্যাহারের শেষ তারিখে আমরা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করব কে বাংলাদেশের পরবর্তী মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।’
গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
পাবনা ছাত্রলীগ নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে : সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৭১ থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগ ছাড়ার পরই জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি পাবনা জেলা কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাবনার একটি থানায় অস্ত্র লুট করতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে তাকে সামরিক আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় তিন বছর জেলা খাটেন তিনি। কারাবন্দি অবস্থায় বিভিন্ন ইন্টারোগেশন সেল জিজ্ঞাসাবাদের নামে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় চুপ্পুকে। মুক্ত হয়েই তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি দেশমাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে যান। ফিরে এসে পাবনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশ নেন।
এ ছাড়া সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব পদে থেকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পাবনা জেলা পরিবার-পরিকল্পনা সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। পেশাগত জীবনে প্রথম দিকে সাংবাদিকতা করা চুপ্পু পাবনা জেলা প্রেস ক্লাব ও অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির জীবনসদস্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের জুবিলি ট্যাঙ্কপাড়ায় (শিবরামপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শরফুদ্দিন আনছারী ও মাতা খায়রুন্নেসা। তিনি ১৯৬৬ সালে পাবনার রাধানগর মজুমদার একাডেমি থেকে এসএসসি পাস করে এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে এইচএসসি ও ১৯৭১ সালে (অনুষ্ঠিত ১৯৭২ সালে) বিএসসি পাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে তিনি মনোবিজ্ঞানে এমএসসি এবং পাবনা শহিদ অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ওই বছর বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সহকারী জজ পদে যোগ দেন। বিচারিক কাজের পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে ২০০৬ সালে অবসরে যান। এরপর পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তার একমাত্র সন্তান মো. আরশাদ আদনান রনি দেশে ও বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুপ্পু শতভাগ আস্থাশীল ও বঙ্গবন্ধুপ্রেমী একজন ব্যক্তি। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্বও পালন করেছেন বিশ্বাসের সঙ্গে। সেই সময় ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখেছিলেন।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে বহুমুখী প্রতিভার ব্যক্তি খুঁজছিল দলীয় হাইকমান্ড। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মধ্যে এর সবকিছুই আছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ : সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস জানান, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গণভবনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
1.1kShares
শেয়ার করুন

জনতার আওয়াজ/আ আ