সরকারের কর্মকাণ্ড ও মনোভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের কর্মকাণ্ড ও মনোভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও রাজনীতিকে ‘স্পর্শকাতর’ বিবেচনা করে এই ইস্যুতে কৌশলী অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সে কারণে এই ইস্যুতে সরকার ও সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের কোনো জবাব দেবে না দলটি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও নির্বাচন করতে পারা না পারা নিয়ে মন্ত্রীদের আলোচনায় ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, এখানে সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাই এই ইস্যুতে সরকারের কর্মকাণ্ড ও মনোভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি।

দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চলমান আন্দোলন থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি ভিন্নদিকে ফেরানোর জন্য এটি সরকারের একটি কূটকৌশল। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ও মানবাধিকার নিয়ে বিদেশিদের চাপ থেকে বের হতে অন্য একটি দেশের পরামর্শে ক্ষমতাসীনরা এমনটি করতে পারে বলেও মনে করেন তারা। নীতিনির্ধারকরা আরও মনে করছেন, এই ইস্যুটি সামনে নিয়ে এসে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে চায় সরকার। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের এই ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি। তারা এখন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলার মধ্যে দুটিতে সাজা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেদিনই কারাবন্দি হন তিনি। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। তার আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রীর সাত বছরের সাজা হয়। আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়ায় পরে পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেয়। পরের দিন তিনি কারামুক্ত হয়ে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন। এদিকে সাময়িক মুক্তির পর সরকারের পক্ষ থেকে দুটি শর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা জানানো হয়েছিল। এর একটি ছিল বাসায় চিকিৎসা নেওয়া এবং দ্বিতীয়টি ছিল তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘ অসুস্থতা এবং আইনি বাধ্যবাধকতায় খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজনীতির মাঠের বাইরে রয়েছেন। এ কারণে দল পরিচালনায় কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন না তিনি। তবে রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনিই দলের ঐক্যের প্রতীক। দলের মহাসচিব দু-এক মাস পরপর ফিরোজায় গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও অন্য নেতাদের সেই সুযোগ সীমিত। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১, বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। তবে সাজার কারণে তিনটিই বাতিল হয়ে যায়। উচ্চ আদালতে গিয়েও নিজের পক্ষে আদেশ আনতে পারেননি তিনি। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। সেইসঙ্গে সাজা ভোগ শেষে পাঁচ বছর পার করার পরই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজনীতির বাইরে থাকলেও সম্প্রতি সরকারের দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্যে তার রাজনীতির প্রসঙ্গটি ফের আলোচনায় আসে। গত রোববার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই, তবে নির্বাচন করতে পারবেন না।’ পরদিন সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া যদি রাজনীতি করতে চান, সেক্ষেত্রে যে শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেটি মেনে তাকে করতে হবে। নো ওয়ে।’ এর আগে ক্ষমতাসীনরা দাবি করে আসছেন, রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়েই সাজা স্থগিত পেয়েছেন খালেদা জিয়া। যদিও তাদের এ দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন বিএনপি নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা কখন কী বলেন তার কোনো ঠিক আছে? তবে এটা (খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য) অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ