দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ১:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ১:০৩ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে দলের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটি মেয়র কিংবা কাউন্সিলর যে পদের ভোটই হোক না কেন। এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না হাইকমান্ড। তাই পদধারী কোনো নেতা নির্বাচন করলে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। আর প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের পদধারী কোনো নেতা ইন্ধন দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং বুধবার সাংগঠনিক সম্পাদকদের ভার্চুয়াল সভায় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করার আগে তিনি যাতে নির্বাচনে প্রার্থী না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থায়ী কমিটিতে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আমরা অংশগ্রহণ করব না। আর সিটি করপোরেশন বলতে মেয়র এবং কাউন্সিলর দুটি পদের ভোটকেই বোঝানো হচ্ছে।

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে, ১২ জুন খুলনা ও বরিশাল এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটির ভোট গ্রহণ হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হবে ইভিএমে। এর আগে ২০১৮ সালে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচটির মধ্যে কেবল সিলেট সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তখন কাউন্সিলর পদে বিএনপির স্থানীয় নেতারা নির্বাচন করেছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা বিএনপির কাউন্সিলরও নির্বাচিত হন। তবে পরে এসব বিএনপির কাউন্সিলরের মধ্য থেকে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গত বুধবার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়। সেখানে সাংগঠনিক সম্পাদকদের আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান জানানো হয়। হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ ভোটে অংশগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেটি মেয়র পদে হোক কিংবা কাউন্সিলর। দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে আর প্রত্যাহার করা হবে না। এ সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করায় চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সিটি নির্বাচন নিয়ে দলের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে বৈঠক সূত্র জানায়।

জানা গেছে, আন্দোলনমুখী দল হিসেবে বাধ্য না হলে কোনো নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে চায় না বিএনপি। তাই গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিটি নির্বাচন ইস্যুতে কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করার আগে তিনি যাতে প্রার্থী না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কাউন্সিলর নিয়ে এতদিন দলীয় অবস্থান পরিষ্কার না করায় পাঁচ সিটির ১৯০টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৬৩টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ভোট করতে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক জায়গায় তারা প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এমন কয়েকজন জানান, তারা মনে করেছিলেন দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে ভোটে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় কাউন্সিলর পদে ভোটে দলের কোনো বাধা নেই; কিন্তু মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদের ভোটেও

বিএনপি অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত কী করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তপশিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গতকাল ২৭ এপ্রিল, বাছাই ৩০ এপ্রিল এবং ৮ মের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে এবং ২৫ মের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৩ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, বাছাই ২৫ মে এবং ১ জুনের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। এটাই আমাদের দলের সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও প্রযোজ্য।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিএনপির হাইকমান্ডকে ‘অলআউট আন্দোলনের’ প্রস্তাবনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ