রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা দেখতে যাচ্ছেন রাখাইন পরিস্থিতি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা দেখতে যাচ্ছেন রাখাইন পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ৩, ২০২৩ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ১৪, ২০২৩ ২:৩০ অপরাহ্ণ

 

রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা দেখতে যাচ্ছেন রাখাইন পরিস্থিতি

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দুই দফায় তারিখ চূড়ান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবারও প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের প্রায় ছয় বছরের মাথায় মিয়ানমার এই প্রথমবারের মতো তাদের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলকে রাখাইনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাখাইন পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য কতটা অনুকূল তা দেখতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের আগামী শুক্রবার রাখাইনের মংডুতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ মাসে প্রথম ধাপে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিনিধিদলটি রাখাইনে যাবে। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৮ এপ্রিল কুনমিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর পরিবেশ কতটা অনুকূল তা দেখতে তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আগামী শুক্রবার রাখাইনে যাবেন। ওই সফরের এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবে। সব ঠিকঠাক এগোলে চলতি মাসে ১ হাজার ১৭৬ জন রোহিঙ্গার প্রথম দলটি নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় চীন ও মিয়ানমার।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের পর প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও দুই দফা তারিখ চূড়ান্ত করে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। বিশেষ করে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ এবং মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাবের কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাজি করানো যায়নি।

মিয়ানমার এ মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি ছলচাতুরী হতে পারে কি না, সেটি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কভাবে এগোনোই সংগত হবে।

এমন একটা সময়ে মিয়ানমার হঠাৎ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাইছে, যখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে। ২৪ মে আইসিজেতে মিয়ানমারের বক্তব্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী জুনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে চীনকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সব৴শেষ এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে মনে করেছেন আন্তর্জাতিক–সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চীন কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের বিশেষ দূত দেং সি জুন মিয়ানমার সফর করেন। গত মাসের শুরুতে তিনি ঢাকা সফর করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দেখা করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ