আনুষ্ঠানিক ঘোষণা : তুরস্কে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২৮ মে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ১৫, ২০২৩ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ১৫, ২০২৩ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে কোনো প্রার্থীই একক সংখ্যাগরিষ্ঠা না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ২৮ মে রান-অফ বা দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির উচ্চ নির্বাচনী বোর্ড (ওয়াইএসকে)। নির্বাচনী সংস্থাটির মতে, কোন প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং তার নিকটতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবেন।
সোমবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ৩টায় ওয়াইএসকে’র প্রধান আহমেদ ইয়েনার রান-অফের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘শতভাগ ব্যালট বাক্সের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে দেশে ৮৮.৯২ শতাংশ এবং বিদেশে ৫২.৬৯ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন।’ দেশটির গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম নির্বাচন, যা কি-না দ্বিতীয় দফায় গড়ালো।
তার্কিশ নির্বাচন নীতিমালা অনুসারে, কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে নির্বাচন রান অফ বা দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত প্রায় সব ভোটই গণনা শেষ করা হয়েছে এবং এরদোয়ান ৪৯.৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৪.৮৯ শতাংশ ভোট। এদিকে, ডানপন্থী প্রার্থী এটিএ জোটের সিনান ওগান ৫.১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি এবং মুহাররেম ইনসে ০.৪৪ শতাংশ পেয়েও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী লড়াই থেকে বাদ পড়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম নিরাপত্তা সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই) এর পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি তুরস্কের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পর তাদের ফলাফল ঘোষণা করেছে। যদিও সংস্থাটি তুর্কি জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে, কিন্তু তারা বলছে ক্ষমতাসীন একে পার্টি অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুবিধা নিয়েছে।
৫৭ সদস্যের এই পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি বলছে, তুর্কি সংবাদ মাধ্যমগুলো নির্বাচনকালীন এরদোয়ানের পিপলস অ্যালায়েন্সের প্রতি অন্যায়ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। রবিবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১০০-শক্তিশালী মিশনের দুই দুই আইনপ্রণেতাকে বাধা দেওয়ার বিষয়েও সংস্থাটি হতাশা প্রকাশ করেছে। অবশ্য, তুর্কি কর্তৃপক্ষ ডেনিশ এমপি সোরেন সোন্ডাগার্ড ও সুইডিশ এমপি কাদির কাসিরগাকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এরদোয়ানের দল একে পার্টি নেতৃত্বাধীন পিপলস অ্যালায়েন্স সংসদ নির্বাচনে ৩২১টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে একে পার্টি একাই ২৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স জয়ী হয়েছে ২২৩ আসনে। অন্যদিকে, অ্যালায়েন্স অব লেবার এন্ড ফ্রিডম জোট পেয়েছে ৬৬টি আসন।
এদিকে, আঙ্কারায় নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে এরদোয়ান (৬৯) বলেছেন, জনগণ যদি দ্বিতীয় দফার কথা বলে তবে আমরা তাতে অংশ নেবো এবং জয়ী হবো। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশা করছেন কামাল কিলিচদারোগ্লু (৭৪)। তিনি বলেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মানুষের আস্থা ভোট অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রবিবারের নির্বাচনে এরদোয়ানের পেছনে শক্তি রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি কারকোগ্লু বলেন, এরদোয়ান আনাতোলিয়ার কেন্দ্রস্থলে তার সমর্থনের ভিত্তি মজবুত রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও তিনি দক্ষিণ-পূর্বে কিছুটা সমর্থন হারালেও আনাতোলিয়ার প্রদেশগুলোতে সমর্থন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও বড় শহরগুলোতেও আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ