নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শরীয়তপুরে ঝাটকা নিধন বিক্রি চলছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শরীয়তপুরে ঝাটকা নিধন বিক্রি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ সরকারী বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে শরীয়তপুরে বিভিন্ন হাট বাজার ও মোকামে হরদমে ইলিশ ও ঝাটকা ইলিশ নিধন ও বিচা বিক্রি চলছে। কেউ যেন দেখার নেই।মঃস্য বিভাগ এ ব্যাপারে নিরব ভুমিকা পালন করছেন।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়।মন্ত্রনালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে ঝাটকা সংরক্ষনের জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দু, মাস শরীয়তপুর জেলা সহ ৬টি জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশ সহ সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাদপুর, লক্ষীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রম ও সংশ্লিষ্ট নদ নদী রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাদপুর জেলার মধ্যে অবস্থিত সীমানা পর্যন্ত।
সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একশ্রেনীর অসাধু মাছ ব্যবসায়ী জেলেদেরকে দাদন দিয়ে মাছ শিকারে বাধ্য করছে। ঐ সব ব্যবসায়ীরা অভয়াশ্রম এলাকায় প্রতিনিয়ত ইলিশ ও ঝাটকা শিকার করে বাজারে ও বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করছে। স্থানীয় লোকজন ও নাম না বলা শর্তে আলুর বাজার ফেরী ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান , কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও অন্যান্য পেশার লোকজনদের সাথে চুক্তি করে প্রতিনিয়ত ইলিশ ও ঝাটকা নিধন সহ বাজারে ও বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করছে। এ সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলুর বাজার এলাকার লাদেন ওরফে খোরশেদ, আলী হোসেন ও নান্নু সরদার প্রতিদিন রাত ২টার পর সখিপুরের ঈদগাহ বাজার থেকে ৪টি বড় পিকআপ গাড়িতে করে মাদারীপুর, মঠেরহাট, মোক্তারপুর, টেকেরহাট ও খুলনা মোকামে সরবরাহ করে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে প্রতিটি পিকআপ গাড়িতে ২০ থেকে ২৫টি ব্যারেল থাকে। প্রতি ব্যারেলে কমপক্ষে ২ কেজি ঝাটকা থাকে। হরদমে তারা সরকারের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধভাবে ঝাটকা ও ইলিশ নিধন ও বিক্রি করে আসছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
আলুর বাজার ফেরী ঘাটের এক মৎস্য ব্যবসায়ী না না বলা শর্তে বলেন, সরকার ১মার্চ থেকে ২ মাসের জন্য আমাদের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাঝ শিকার করা ও বিক্রি বা পরিবহন করা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। এরপরে কতিপয় ব্যবসায়ী লাদেন ওরফে খোরশেদ, আলী হোসেন ও নান্নু সরদার প্রতিদিন রাত ২টায় ৪টি পিকআপ করে বিভিন্ন মোকামে ঝাটকা সরবরাহ করছে। আমরা গোপনে পুলিশ মৎস্য বিভাগ ও অন্যান্য দায়িত্বশীল পেশার লোকজনেদের কে অবহিত করলেও কোন ফয়দা হয়নি। ব্যবসাীয়রা বলে সবাইকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছে। এ কারনে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা তারা।
এব্যাপারে আলুর বাজার ফেরীঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী লাদেন ওরফে খোরশেদ বলেন, আমি বিভিন্ন জায়গায় মাছ সরবরাহ করি কে বলছে। আমি শরীয়তপুরে কোর্টের কাছে কিছু মাছ বিক্রি করে থাকি।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার কর্মকার বলেন, আমি জানিনা এ সব ঝাটকা পরিবহন বিক্রি বা সরবরাহের খবর। আমি জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার এর সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
সখিপুর থানার ওসি মোঃ অসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, আমি খবরশোনার পর সুনিদিষ্ট ভাবে কিছু তথ্য না পাওয়ার করনে ধরতে পারিনি। আবার চেষ্টা করছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ