সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে ঢাকায় দুই মহানগরে জামায়াতের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্ব ঘোষিত সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে গতকাল ঢাকায় দুই মহানগরে পৃথক পৃথক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার প্রতিবাদে আগামী ৬ই আগস্ট রোববার দেশের সকল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। মিছিলটি মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলাপুর রেল স্টেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার ষড়যন্ত্রে বিভোর। সরকার জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে বাইরে রাখার অপকৌশলের অংশ হিসেবে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক রেখেছে। উচ্চ আদালত থেকে বারবার জামিন পাওয়া সত্ত্বেও সরকার তাদের মুক্তি দিচ্ছে না। সরকার তাদের মুক্তি না দিয়ে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আমরা অবিলম্বে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ আলেম ওলামাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। এ সময় নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন সেøাগানে রাজপথ মুখরিত করেন তোলেন তারা। মিছিলটি মিরপুর ১নং থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেকনিক্যালে এসে সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এই দাবি পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। আর দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ এই জুলুমবাজ পতনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। যতদিন এই সরকারের পতন না হয় ততদিন রাজপথ ছাড়বে না। সরকারকে হঠকারিতা পরিহার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে জনতার কাতারে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় গণদাবি জনগণ রাজপথেই আদায় করবে ইনশাআল্লাহ্।
এরআগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আজকের সমাবেশ বাস্তবায়নে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। আমরা বারবার বলে আসছি, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের সংঘাত ও সংঘর্ষে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু প্রশাসন সহযোগিতার পরিবর্তে একটি সংঘাতমুখর পরিবেশের অবতারণা করেছে। তাই আমরা শুক্রবারের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত করছি। এর প্রতিবাদে ৬ই আগস্ট বাংলাদেশের সকল বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ্। আমরা আবারো প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার বিরোধী কর্মকা- বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো দল বিশেষ নয়, দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সভা ও সমাবেশ করা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। সংবিধানের ৩৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে সভা ও সমাবেশ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। এই অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসন বারবার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। আমরা তীব্র ভাষায় এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ধরনের আচরণ অগণতান্ত্রিক, অন্যায় ও অনৈতিক। আর আমাদের সঙ্গে বার বার অন্যায় করা হচ্ছে। দেশের সংবিধান বলেছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সরকারি দল যখন তখন অনুমতি ছাড়া সভা ও সমাবেশ করবে। আর আমাদের বেলায় অনুমতি লাগবে? এই দ্বৈত নীতি কেন?
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুর রহমান মুসা, উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল দেলওয়ার হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, মহানগর মজলিসে শূরা সদস্য আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ