আগামীকাল জাগপা প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধান-এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১৪, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আগামীকাল জাগপা প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধান-এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ২০, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ২০, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আপসহীন দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মজলুম জননেতা শফিউল আলম প্রধান-এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ২১ মে, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)। ২০১৭ সালের এই দিনে ঢাকার আসাদগেটের নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই সাহসী জননেতার মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দেশের সকল সাংঠনিক জেলায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

শফিউল আলম প্রধান ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টোকরাভাষা গ্রামের প্রধান পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়, বোরহান উদ্দিন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন কাটে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের স্বতন্ত্র জিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের এই অগ্রনায়ক ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পরাধীন বাংলায় দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন শফিউল আলম প্রধান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজ দল আওয়ামী লীগের ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের তালিকা (শ্বেতপত্র) প্রকাশ করে তিনি এক ঐতিহাসিক ও সাহসী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এর মাত্র ৫ দিনের মাথায় ৪ এপ্রিল ১৯৭৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রহস্যজনক ৭ খুন সংঘটিত হয়। বাকশালী কায়দায় তৎকালীন সরকার শফিউল আলম প্রধানকে প্রথমে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম এবং পরে এই ৭ খুনের মামলায় প্রধান আসামি করে। ১৯৭৫ সালে তড়িঘড়ি করে প্রহসনের বিচারে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বাকশাল পতনের পর মামলার পুনঃতদন্তে আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ৪ বছর পর ১৯৭৮ সালে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকার রমনা গ্রিন চত্বরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রতিষ্ঠা করেন শফিউল আলম প্রধান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন লড়াই করে গেছেন। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ও বেরুবাড়ী লংমার্চ, দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যার বিচার, ভারতীয় অপসংস্কৃতি ও আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলন, ফেলানি হত্যাসহ সীমান্ত হত্যাবিরোধী আন্দোলন এবং ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার প্রতিবাদে তিনি ছিলেন রাজপথের আপসহীন কণ্ঠস্বর।

এছাড়াও পিলখানা গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার, শহীদ সেনা দিবস পালন এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকার কারণে ‘কারাগার’ ছিল শফিউল আলম প্রধান-এর দ্বিতীয় বাড়ি। স্বাধীন বাংলাদেশের সব সরকারের আমলেই তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সর্বমোট ২৭ বার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে এবং দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করতে হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ