আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার জিয়াউর রহমান মানুষের হৃদয়ে আজও অম্লান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১৭, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার জিয়াউর রহমান মানুষের হৃদয়ে আজও অম্লান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৪:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আগামী ৩০ মে শনিবার। ১৯৮১ সালের ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। তখন ক্ষণজন্মা এ রাষ্ট্রনায়কের বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

এবার এমন এক প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে, যখন তার হাতে গড়া দল বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এর আগে গত ১৭ বছরে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর এই দিনটি পালন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিল দলটি। তবে বিএনপির দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনের পথ ধরে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

জিয়াউর রহমান তার ঘটনাবহুল কর্মময় জীবন দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন অলংকৃত করে আছেন। নানা কারণে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণাবলি এ দেশের গণমানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক। তা সত্ত্বেও সাধারণ

মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ঈর্ষণীয়। মাত্র ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এই সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ তার ওপর ছিল প্রচণ্ড আস্থাশীল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার ওপর মানুষের এ আস্থায় কোনো চিড় ধরেনি।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মনসুর রহমান কলকাতায় একজন কেমিস্ট (রসায়নবিদ) হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। শৈশব ও কৈশোরের একটি সময় গ্রামে কাটিয়ে তিনি বাবার সঙ্গে কলকাতায় এবং দেশ বিভাগের পর করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন। সামরিক জীবনে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি একের পর এক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার কোম্পানি যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি খেতাব লাভ করে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য তিনি নিজেও একটি পিস্তল উপহার পান। সৈনিক জীবনে তিনি যেমন চরম পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, জাতীয় সব সংকটকালেও শক্ত হাতে হাল ধরেছেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, জিয়াউর রহমান তখন চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মানুষের এ ন্যায়সংগত সংগ্রামে সমর্থনের আবেদন জানান। ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রামে তিনি একটি সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে সমরনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন বীরউত্তম খেতাব।

১৯৭৫ সালে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। জাতির ভাগ্যাকাশে তখন এক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসের সেই বিশেষ মুহূর্তে সিপাহি-জনতার মিলিত প্রয়াসে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং নেতৃত্বের হাল ধরেন। এর পর থেকে জিয়াউর রহমানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি শুধুই এগিয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত সততা, পরিশ্রমপ্রিয়তা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা, নির্লোভ, নির্মোহ, গভীর দেশপ্রেম প্রভৃতি গুণ দিয়ে তিনি জাতির মধ্যে নতুন করে জাগরণের সৃষ্টি করেন।

জিয়াউর রহমান সারা দেশ চষে বেড়াতেন। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল তিনি বাংলাদেশের মানুষের উপযোগী একটি স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটান। দেশে সমন্বয়ের রাজনীতি চালু করে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপিতে একদিকে যেমন চরম বামপন্থিরা স্থান পান, তেমনি চরম ডানপন্থিরাও জায়গা করে নেন। একটি উদার ও মধ্যপন্থি দল হিসেবে বিএনপিকে গড়ে তোলেন। নিজে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হলেও তিনি এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রাখেন। জিয়াউর রহমান বিভক্তির রাজনীতি দূর করে ঐক্যের রাজনীতির ডাক দেন। রাজনীতিবিদদের তিনি জনগণের দোরগোড়ায় যেতে বাধ্য করেন। বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করে জনগণের মধ্যে তিনি সাড়া জাগান। ছয় বছরের শাসনামলে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন এবং তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে এ জাতিকে মুক্ত করেন। স্বজনপ্রীতি, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনসহ নানা অপকর্মে জাতির যখন ত্রাহি অবস্থা, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান শক্ত হাতে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জোগান তিনি।

কর্মসূচি: জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। এ উপলক্ষে গত ১৮ মে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সাত দিন এই কর্মসূচি পালিত হবে।

কর্মসূচির মধ্যে আছে ৩০ মে বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন এবং তারা উলামা দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। ৩১ মে দুপুর ২টায় রমনার ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ এবং আলোচনা সভা করবে। ৩০ মে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে বিভিন্ন থানায় দুস্থদের মধ্যে চাল-ডালসহ ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া জেলা, মহানগর, উপজেলাসহ সব ইউনিটে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দুস্থদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পোস্টার প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ, ভোর ৬টায় দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত। মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ। এ ছাড়া দেশব্যাপী অনুরূপভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সারা দেশে জেলা, মহানগরীসহ সব ইউনিটে দোয়া মাহফিল/দুস্থদের মধ্যে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে উল্লিখিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান।

কৃষক দলের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ৩০ মে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব জেলা ও মহানগরে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, একই দিন বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ, কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা (তারিখ ও স্থান পরে জানানো হবে), ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণসহ দেশব্যাপী সব জেলা ও মহানগরে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ