আমরা চিৎকার করলেও আওয়ামী লীগ ভয় পায় : মির্জা আব্বাস - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আমরা চিৎকার করলেও আওয়ামী লীগ ভয় পায় : মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

 

বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এই পদযাত্রা আওয়ামী লীগের পতন যাত্রা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কমলাপুর স্টেডিয়াম সামনে থেকে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির গণ পদযাত্রা পূর্ব মুহূর্তে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কিন্তু পায়ের আওয়াজ পেয়ে গেছে। ওই যে আসছে, ওই যে আসছে, এরা কারা? ওরা গণতন্ত্র চায়। ওরা ভোটের অধিকার চায়। ওরা এ দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পেতে চায়।’

ভোট কেন্দ্রে কুত্তা ঘুমিয়ে আছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘পুলিশ আজ ভোটারদের ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে মাইকে ডাকতেছে। এটাই এই সরকারের চিত্র।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আমরা বলতে চাই গণতান্ত্রিক সরকারের হুকুমের দেশ চলবে, অন্য কারো হুকুমে নয়। এখনতো সরকার নেই, এখন অবৈধ দানব আমাদের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে এই দানবকে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। এই দানবকে ঘাড়ে রেখে দেশের কোনো উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ বলছে সংবিধানের বাইরে কোনো নির্বাচন হবে না। এই সংবিধানকে কেটে ছিড়ে আপনারা যা করেছেন; এই সংবিধানের অপমান করেছেন। আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী মিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। তারা বলেছিল এই মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আজকের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সারা জীবনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।’

তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে রিজভীকে কোর্টে আনা যায়নি। যদি আর দুএকদিন থাকতাম তাহলে আমাদের ও রিজভীর অবস্থা হতো।’

আমরা চিৎকার করলেও আওয়ামী লীগ ভয় পায় দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা চুপ থাকলেও আওয়ামী লীগ ভয় পায়। তারা টের পেয়ে গেছে বেশি দিন আর ক্ষমতায় নেই। তাই এ মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা আমাদের বলে বিএনপি জামায়াত। আমি বলি আওয়ামী জামায়াত।’

আব্বাস বলেন, ‘এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় মানুষ। কিন্তু তারা প্রয়োজনে এমন শক্ত হয় তখন তাদের মতো আর কেউ নেই। এই সরকারকে এখন মানুষ বিশ্বাস করে না। হাসিনা সরকার আগে বলেছে ঘরে ঘরে চাকুরি দিবে। এখন দিচ্ছেন উপদেশ, ব্যবসা করেন।’

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সালাম বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে নেমে আসবো। এই ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ভোট চোরের বিচার হবে। আগের মতো আর ছাড় দেওয়া হবে না। দিনের ভোট আর রাতে হতে দেওয়া হবে না। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনিও প্রস্তুত হয়ে যান কারাগারে যেতে। আপনি ভুয়া, আপনার দলও ভুয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে জেলে নিয়েছেন আমরা জেলে যেতে ভয় পাই না। আমরা সফল হবো আমাদের আন্দোলনে। আমরা শৃঙ্খলিতভাবে আমাদের কর্মসূচি শেষ করবো।’

পদযাত্রা কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

পদযাত্রা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, ডা. রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নবী উল্লাহ নবী, কাজী আবুল বাশার, রবিন, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, সাইফুল আলম নীরব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জেলানী, রাজিব আহসান, নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মৎসজীবি দলের আবদুর রহিম, কৃষকদলের কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে চার দিনের পদযাত্রা কর্মসূচির আজকে শেষদিন। এর আগে গত শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডা থেকে রামপুরা হয়ে মালিবাগ হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এরপর সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়ে শ্যামপুর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। পরে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) গাবতলি থেকে শুরু হয়ে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্ত্বর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ