আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আরিফ বার্তায় সিলেটে জল্পনা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আরিফ বার্তায় সিলেটে জল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ৩, ২০২৩ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ৩, ২০২৩ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নিশ্চুপই ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাকে ঘিরে সিলেটে রহস্য দানা বাঁধে। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি শোডাউন করলেন নগরে। বক্তব্যে নির্বাচনকন্দ্রিক নানা বিষয় সামনে তুলে আনলেন। তার এই বক্তব্য ঘিরে নেট দুনিয়ায় চলছে জল্পনা। নগরবাসীর মধ্যেও নানা হিসাব নিকাশ। বিশ্লেষণ চলছে তার বক্তব্যকে ঘিরে। আরিফ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি বিষয় সামনে তুলে এনেছেন। তার বক্তব্য নিয়ে ভাবছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এবারের মে দিবস সিলেট নগরে সরবেই পালিত হয়েছে।

সচরাচর অন্য কোনো বছর এমন সরবতা লক্ষ্য করা যায় না। মে দিবস পালনে মাঠে সরব ছিলেন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা মাঠে নেমে মে দিবসের দিন অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। বলতে গেলে মে দিবসের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নির্বাচনকেন্দ্রিক শোডাউন হয়ে গেল সিলেট নগরে। বাদ যাননি সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও।
এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শ্রমিক লীগের ব্যানারে শোডাউন করেছেন। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নেতারা শ্রমিক দলের ব্যানারে শোডাউন করেন। এতে যোগ দিয়েছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে মেয়র আরিফের দিকে নজর ছিল সবার। আরিফ শ্রমিক দলের নেতাদের নিয়ে নগরে আলাদা শোডাউন করেন। শোডাউনের আগে তিনি বক্তৃতা করেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে আরিফ এই প্রথমই প্রকাশ্যে বক্তৃতা করলেন। যদিও ঈদের দিন সকালে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে নিয়ম অনুযায়ী সিটি মেয়র হিসেবে বক্তৃতা করেন। রমজানে ছিলেন লন্ডনে। মে দিবসের র‌্যালি শুরু হওয়ার পূর্বে আরিফ তার বক্তৃতায় বলেছেন- ‘আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে; সিলেটের সব রাজনৈতিক দল সিলেটকে যেন এমন একটি অবস্থায় নিয়ে গেছেন; সিলেটে যেন কোনো মানুষ নেই। সিলেটে যেন কোনো নেতৃত্ব নেই। আমাদেরকে সবক দেয়ার জন্য বাইরে থেকে এনে নেতৃত্ব দেয়া হচ্ছে।’ মেয়র আরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন- ‘বাইরে থেকে এসে কেউ নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে দাস বানাতে পারবে না। আমরা কারও দাস হতে চাই না।

আমাদেরকে রক্তচক্ষু দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। কর্তৃপক্ষ যা-ই থাকেন না কেন আমরা বলতে চাই- মানুষ ফুঁসে উঠেছে।’ আরিফের এই বক্তব্য ঘিরে নানা বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক মহলও এ নিয়ে ভাবছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও আরিফের কথা নিয়ে গভীর চিন্তায়। তাদের মতে; মেয়র আরিফ বক্তৃতায় শুধু তার নিজের কথা বলেননি। তিনি শুধুমাত্র বিএনপি ঘরানার মেয়র প্রার্থী হিসেবে এ বক্তব্য রাখেননি। তার বক্তব্যের সারমর্ম অনেক গভীরে। এ কারণে মেয়র আরিফের বক্তব্য শোনার পর অনেক মহল চিন্তায় মগ্ন হয়েছেন। তাদের মতে; বিষয়টি নিয়ে সবারই ভাবা উচিত। সিলেটের সামাজিকতা, সম্প্রীতি ও সর্বোপরি উন্নয়ন-সবকিছু বিবেচনায় রাখলে মেয়র আরিফের বক্তব্য সত্য। এ নিয়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। সিলেটের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রতির বিষয়টিও গত সোমবার দেয়া তার বক্তব্যে উঠে আসে। পাশাপাশি কর্তাব্যক্তিদেরকেও সিলেটের এসব বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তারা। সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন জানিয়েছেন- ‘সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটি সঠিক। অতীতে দেখা গেছে; ভোট রাতেও হয়। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয় তাহলে সিলেট নগরের মানুষ ভোট দিয়ে লাভ কী-প্রশ্ন রাখেন এডভোকেট শাহীন।’

জানান- ‘সিলেট নগরে সিটি নির্বাচনে অতীতে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা অতীতে জনপ্রতিনিধি ছিলেন। যেমন কামরান ও আরিফ দু’জনই কাউন্সিলর নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর তারা মেয়র পদে প্রার্থী হন। সুতরাং মেয়র হওয়ার আগেই ভোটাররা তাদেরকে যাচাই করার সুযোগ পেয়েছিলেন। হঠাৎ করে কেউ এসে প্রার্থী হলে তাকে তো যাচাই করার সুযোগ নেই।’ জেলা বারের সিনিয়র এ আইনজীবী আরও জানান- ‘গত ১০ বছরে সিলেটে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এই সময়ে যদি পরিকল্পিত উন্নয়ন হতো তাহলে অনেক অপচয় কমানো যেতো। এরপরও উন্নয়নের সুবিধা সিলেটের মানুষ গ্রহণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।’ সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সোমবার দেয়া বক্তব্য অনেকবার শুনেছেন সিলেটের সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তবে কাছে মেয়রের বক্তব্যকে ঘিরে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও জানিয়েছেন- ‘বাইরে থেকে কাউকে এনে প্রার্থী করায় অনেকেই অপমানিতবোধ করছেন। সিলেট আওয়ামী লীগের ভেতরে কী প্রার্থী হওয়ার মতো যোগ্য মানুষ নেই। পরীক্ষিত নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধি প্রার্থী হলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হতো।’ তিনি বলেন- ইভিএম নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটি শুধু একক কোনো নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধির নয়। সিলেটের আপামর মানুষের চিন্তাভাবনায় আছে ইভিএম। নগরের বেশির ভাগ মানুষই ইভিএমে ভোট দিতে অভ্যস্ত নয়। নির্বাচন কমিশন চাইলে এখনো সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালট ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে জানান তিনি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ