ইংল‍্যান্ডে শিক্ষক হওয়ার ধাপসমূহ: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইংল‍্যান্ডে শিক্ষক হওয়ার ধাপসমূহ: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:২৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

 

ফখরুদ্দীন আহমদ
শিক্ষকতা সবদেশেই একাধারে কঠিন আবার রিওয়ারডিং, সম্মানিত পেশা। বৃটেনে শিক্ষাদান ও শিক্ষকতা তার চেয়েও সম্মানজনক। তবে শিক্ষক হওয়ার জন্য উত্তীর্ণ হতে অনেকগুলো ধাপ- যা’ ৩য় বিশ্বের অনেক দেশেই অনুপস্থিত!

বলাবাহুল্য, UK-তে সব পেশাই মর্যাদাশালী, highly paid wages. যেকোনো পেশার লোক, যেকোন বয়সে উপযুক্ত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মাঝ‍্যমে শিক্ষকও হতে পারবেন। তবে এখানে বিসিএস বা অন্যান্য পাবলিক বডির কোন অস্তিত্ব নেই।

মূলত বৃটেনের মত উন্নত বিশ্বে শিক্ষক হতে হলে প্রাথমতঃ সংশ্লিষ্ট দেশ বা বৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট হতে হবে। নূন‍্যতম ২:১ (overall average score of 60–69%) ডিগ্রি হওয়া বাধ্যতামূলক যা’ আমাদের দেশের উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণীর অনার্স ডিগ্রির সমতুল‍্য। উল্লেখ‍্য, যারা এদেশের রেসিডেন্ট বা সিটিজেন তাদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও maintenance fee সরকারের Student finance শাখা দিয়ে থাকে – যাহা উপযুক্ত চাকুরি পাওয়ার পর অল্প অল্প করে পরিশোধ করতে হয়।

অতঃপর সরেজমিনে প্রশিক্ষণের ধাপ হিসেবে PGCE/ECT1-ECT2 সম্পন্ন করতে হবে, যার অর্ধেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। আর বাকি অর্ধেক সময় নির্দিষ্ট সরকারি প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দুটি বিদ্যালয়ে Placement করতে হয় – যাহা ন্যূনতম এক/দুই বছর ব‍্যপী mentor/senior mentor এর অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং বাধ্যতামূলকভাবে পাশ করতে হয়। অনুরূপ উদাহরণ, যেমন একজন ব‍্যারিষ্টার হতে হলে প্রথমে LLB পাশ, তারপর Solicitor-এরকম বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সবশেষে Barrister হওয়া! একদম সেইম স্টেপ হলো Qualified শিক্ষক হওয়ার জন্য।

অতঃপর রয়েছে NQT Year. Head of year এর তত্ত্বাবধানে অন্তত ২-৩ বছর High quality professionalism, lesson planning, সন্তোষজনক পাঠদান ইত্যাদি নতুবা যেকোনো সময় চাকুরিচ‍্যুতির সম্ভাবনা থেকেই যায়। উল্লেখ‍্য, বিদ‍্যালয়ে কর্মরত সবাই শিক্ষক নন! শিক্ষকদের সাথে রেয়েছন য়োগ‍্যতাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত Teaching, Assistant, Supply teachers, SEN Support staff, dinner ladies, cleaning staff etc. সহ এক বিশাল জনবল।

সর্বোপরি, শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শ্ক্ষকদের “The UN Convention on the Rights of the Child (UNCRC)” এর নীতিমালা প্রতিটি পদে অনুসরণ করতে হয়। Equality act 2010, Safeguarding issues, Data protection act, Maintaining confidentiality, DBS check ইত্যাদি বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের হাত দিয়ে টাচ করা, হাগ দেয়া, Bullying, discrimination সবই অবৈধ এবং এসবই শিক্ষক প্রশিক্ষণ ম‍্যানুয়াল ও DfE আইনে বলা আছে – যাহা অক্ষরে অক্ষর পালন করিতে হয়। তার ওপর আধুনিক যুগোপযোগী Curriculum and Assessment বাস্তবায়ন করতে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের গুণগত মান বজায় রাখতে Ofsted (Estyn in Wales) এর ৩-৫ বছর অন্তর ইন্সপেকশন রয়েছে – যাহা শিক্ষকদের জন‍্য খুবই stressful! আর এজন্যই হয়তো শিক্ষকদের পেশায় retention rate কম, ক্রমাগত চাপের মুখে অনেকেই অন‍্য পেশায় চলে যায়! যদিও শিক্ষকরা এসব দেশে highly paid যা গরীব দেশে সম্ভব নয়।

অবশ্য যতটুকু জানা গিয়েছে, ৯০-এর দশকে লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটে কিছু স্কুলে বাংলা ভাষা শিখানোর জন্যে বাংলাদেশের গ্রাজুয়েট কিছু বাঙালি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছিলেন – যা’ ২০০০ সালের পরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে (যেকোন তথ্য সংশোধনে স্বাগতম)। অবশ্য এশিয়ার জাপান, চীন, হংকং, সিংগাপুরসহ কিছু দেশের Graduation degree এখানে acceptable but NOT Bangladesh! এর কারণ হিসেবে যতটুকু জানা গেছে – আমাদের DU, BUET, Medical সহ গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানর Curriculum (syllabus) and Assessment প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশে অতীতের তুলনায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটা স্বচ্ছ কিন্তু শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়নে তথাকথিত নীতি নির্ধারকরা আধুনিক শিক্ষা কারিকুলাম বিষয়ে নিজেরা কতটুকু ওয়াকিবহাল? রাজনীতি দিয়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়! যেখানে শিক্ষকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ অত‍্যবশ‍্যক, তা না করে সেখানে মাননীয় নকল প্রতিরোধে ক‍্যমেরা বসানো আর পরীক্ষার সময় ম‍্যাজিস্টেট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া কি অত‍্যাবশ‍্যক নাকি উপরোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচ‍্য – তা গবেষণার বিষয়?

সমন্বিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রবর্তন করতে হলে সর্বপ্রথম এ পেশাকে আকর্ষণীয় করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক জবমার্কেটের উপযোগী দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের আনন্দের সাথে শিক্ষাগ্রহনের সুযোগ থাকলে নকলপ্রবণতা কমে আসতে পারে। এক্ষেত্রে GCSE এবং A-Level এর সিলেবাস, পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতির অনুসরণ করা উচিত। বিশেষত: প্রশ্নপত্রও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে সহজেই নকল প্রবনতা রোধ সম্ভব।

পরিশেষে, বূটেনে বসবাসকারী ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের শিক্ষাকতা পেশায় আরো বেশি করে আসতে উৎসাহিত করছি। আমাদের এশিয়ান কমিউনিটির চেয়ে আমরা এপেশায় বেশি করে আসা দরকার বলে মনে করি। এখানে skilled-gap আছে, বিশেষত core subjects যেমন Maths, English & Science এর Qualified teacher-এর অনেক পদ শূন্য রয়েছে। তাই EU এর অনেক ডাক্তার, নার্স এর মত শিক্ষকরা এখানে কর্মরত আছেন।

আগেই উল্লেখ করেছি, গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি থাকলে এবং প্যাশন, কমিটমেন্ট ও ডিটারমিনেশন থাকলে যুক্তরাজ্যে যেকোনো বয়সে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষককতা পেশায় আসা যায়। এ পেশায় অনেক সম্মান ও মর্যাদা পাওয়া যাবে। আমি নিজেও যেহেতু আমার early 50-তে qualified শিক্ষক হয়ে শিক্ষকতা পেশা enjoy করছি, তাই তোমরাও আরো সাফল্য মন্ডিত হবে এবং এতে আমাদের কমিউনিটির মুখ আরো উজ্জ্বল হবে। শুভকামনা নতুন প্রজন্মের জন্য।

লেখকঃ ফখরুদ্দীন আহমদ সাবেক অধ‍্যক্ষ জুড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মৌলভীবাজার। বর্তমান শিক্ষক, সেকেন্ডারি স্কুল ইংল্যান্ড।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ