উদ্ধার হয়নি অপহৃত ৮ বাংলাদেশি, পাহাড়ে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

উদ্ধার হয়নি অপহৃত ৮ বাংলাদেশি, পাহাড়ে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৭:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৭:০৬ অপরাহ্ণ

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরার পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত ৮ বাংলাদেশিকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি। গত চার দিনেও তারা উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন স্বজনরা। অপহৃত আটজনের মধ্যে জেলে ছাড়াও রয়েছেন কলেজছাত্র। এক এলাকা থেকে এক সঙ্গে আটজনকে অপহরণের ঘটনা এটাই প্রথম।

অপহৃতরা হলেন- বাহারছডা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাজপুরা এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহ, মোস্তফা কামাল, মো. রিদুয়ান, সেলিম উল্লাহ, করিম উল্লাহ,নুরুল হক ও শিক্ষার্থী আবছার।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টেকনাফের তিনটি পাহাড় ঘিরে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। ড্রোন উড়িয়ে অপহরণকারীদের আস্তানা ও অপহৃত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, অস্ত্রধারীরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হতে পারে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসার (আগের নাম আল-ইয়াকিন) নাম ব্যবহার করে অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো বাঙালিও রয়েছে। এমনকি মাদক বা মানব পাচারের টাকার লেনদেন নিয়ে কোনো ঝামেলা তৈরি করেও এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে আটকে মুক্তিপণ দাবি করছে। গত এক মাসে বাহারছড়া এলাকায় সাত-আটটি অপহরণের ঘটনা ঘটে। তবে সব ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে যান না। অনেক সময় স্থানীয়রা দেনদরবার করে পণ দিয়ে স্বজনকে মুক্ত করেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি পাহাড়ের উপর ড্রোন উড়িয়ে অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জঙ্গলে বড় ও ঘন গাছগাছালির কারণে ড্রোন থেকে স্পষ্ট কিছু ধরা পড়েনি। স্বজনের পক্ষ থেকেও মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য অপহৃতদের উদ্ধার করা। এরপর কেন, কারা, কী কারণে তাদের অপহরণ করেছে, তা বিশদভাবে তদন্ত করে দেখব।’

জানা গেছে, টেকনাফে সদর থেকে ৪১ কিলোমিটার দূরে বাহারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় নোয়াখালীপাড়া। এর পাশেই মারিশবুনিয়া, ডেইলপাড়া, বাঘগুনা ও কোনাপাড়া। এসব এলাকায় অন্তত ২০ হাজার মানুষের বাস। তাদের বসতি অধিকাংশ পাহাড়ি অঞ্চলে। হঠাৎ অপহরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত ৩১ জুলাই সকালে ওই এলাকায় ইলিয়াছ ও সৈয়দ আহমদ নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। এর আগের দিন নোয়াখালীপাড়ার মোহাম্মদ মুবিনুল ও মোহাম্মদ নুর নামে আরও দুইজনকে অপহরণের পর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ দাবি করে। পরের দিন মুক্তিপণ দিয়ে
ফেরত আসেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর কবির ও মো. আয়ুব বলেন, ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এখন পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা নিরাপদ স্থান হিসেবে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করছে। এ কারণে হঠাৎ করে মাদক পাচারসহ অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। অনেকে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে।’

অপহৃত নূর মোহাম্মদের শ্বশুর মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ভয়ে আছি। বাড়ি থেকেও তেমন একটা বের হই না। মেয়েও শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার কাছে চলে এসেছে। মেয়ে আর ছোট্ট নাতনিকে শান্তনা দেওয়ার ভাষাও নেই। আমরা গরিব। চাইলেই তো টাকা দিয়ে অপহরণকারীদের কাছ থেকে নিয়ে আসতে পারুম না। দিনরাত বলতে গেলে নির্ঘুম কাটাচ্ছি।’

অপহৃত রিদুয়ানের বাবা মমতাজ বলেন, ‘অপহরণকারীরা ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। ছেলের জন্য দুশ্চিন্তায় আছি। বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের ২০ হাজারের বেশি মানুষ ভয়ে আছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম আমাদের সময়কে বলেন, ‘অপহরণের ঘটনার পর থেকে পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দিনরাত পাহাড়ে অভিযান চলছে, অতি শিগগিরই তাদের উদ্ধার করা হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ