এক দফার আন্দোলনের আগে মাঠ গরম রাখবে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এক দফার আন্দোলনের আগে মাঠ গরম রাখবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ১২, ২০২২ ২:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ১২, ২০২২ ২:১০ অপরাহ্ণ

 

সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন শুরুর আগে নেতাকর্মীকে চাঙ্গা রাখতে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছে বিএনপি। জন-ইস্যুভিত্তিক এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন ও কাছে টানতে চাচ্ছে দলটি। গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন এবার বিভাগীয় পর্যায়ে গণসমাবেশ কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে, যা চট্টগ্রামের সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। দেশের ১০টি বিভাগে ব্যাপক লোকসমাগমের মাধ্যমে গণসমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগে গণসমাবেশ শেষে ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।

জানা গেছে, ৮২ সাংগঠনিক জেলা ও এর অধীনের ইউনিটে এসব সমাবেশ সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ১০টি শক্তিশালী টিম। যেখানে সংশ্নিষ্ট বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি, সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা নেতাদের রাখা হয়েছে। এর আগে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ৩০ লাখ লিফলেট ও পোস্টার তৈরি করে সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। ‘একদলীয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শিরোনামে লিফলেট ও পোস্টারে পুলিশের গুলিতে নিহত নুরে আলম, আব্দুর রহিম, শাওন প্রধান, শহিদুল ইসলাম শাওন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে নিহত আব্দুল আলমের ছবিও রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পর ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর এবং ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং সব শেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। ১ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৮২ সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ দুই নেতাকে নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতা বলেন, গণসমাবেশে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যা যা দরকার, তা করতে নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। ওই সভার পর সব সাংগঠনিক জেলার নেতারা নিজ এলাকায় ইতোমধ্যে চলে গেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিমগুলোও বিভাগে প্রস্তুতি সভা করছে। জেলা শাখার নেতারা সংশ্নিষ্ট থানা, উপজেলা, পৌর ও ওয়ার্ডে কর্মিসভাও শুরু করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যুত্থানে প্রকাশ ঘটবে। সরকার এতে ভীত হয়ে ইতোমধ্যে তাদের সমাবেশে যাতে লোকসমাগম কম ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে দিয়ে হুমকি, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিন্তু এতে কোনো কাজ হবে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমাবেশ উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে ২০ লাখ লিফলেট ও ১০ লাখ পোস্টার সব সাংগঠনিক জেলায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জেলার নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও স্থানীয়ভাবে পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করবেন। সমাবেশের আগে জনসচেতনতার জন্য পোস্টার লাগানো হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির মিডিয়া সেলেরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সব সমাবেশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
জানা গেছে, ১০ বিভাগে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষিত হলেও এসব সমাবেশ বাস্তবায়নে কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের উঠান বৈঠক, কর্মিসভা, মতবিনিময় সভার আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল বিএনপিকে আরও সংগঠিত করতে, তাদের চাঙ্গা রাখতে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বলা হয়েছে। ফলে সমাবেশ সফল করতে দলের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে সমন্বয় হচ্ছে। অন্যদিকে, উঠান বৈঠকের মতো নির্দেশনায় সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাদের সংযোগ ঘটবে বলে মনে করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করছে তাতে তাঁরা অনেক আশাবাদী। বিভাগীয় গণসমাবেশেও অংশ নেবেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ