এক পরিবার থেকে ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান যারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:০৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এক পরিবার থেকে ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই একাধিক আসনে মনোনয়ন চাইছেন। তাদের কেউ আপন ভাই, কেউ স্ত্রী আবার কেউবা ছেলে-মেয়ের জন্য এই মনোনয়নের আশা করছেন। তবে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যের বাইরে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের জন্যও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

তবে একই পরিবারের দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি এখনো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিবেচনাধীন আছে। তবে যেকোনো একজন নেতার পরিবারকে একাধিক আসন দেওয়া হলে অন্য নেতারাও একই দাবি তুলবেন, এমন আলোচনা যেমন আছে; পাশাপাশি একই পরিবারের হলেও প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ মনোনয়ন বোর্ডের বিবেচনায় থাকবে এমন ধারণাও করছেন কেউ কেউ।

জানা গেছে, একই পরিবারের একাধিক আসনে মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে দলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, যেসব নেতার পরিবারের সদস্যরা আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। তবে সিদ্ধান্তের জন্য সবাই এখন তাকিয়ে আছেন তারেক রহমানের দিকে।

জাতীয় রাজনীতির একজন প্রভাবশালী নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপি তিন মেয়াদে সরকার গঠন করলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে কুমিল্লা-১ (দেবিদ্বার) ও কুমিল্লা-২ (মেঘনা) আসনে নির্বাচন করেছিলেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি নিজ এলাকা কুমিল্লা-১ বা যেকোনো আসনে নির্বাচন করলে তার মনোনয়ন শতভাগ নিশ্চিত। তবে এর বাইরে তার ছেলে নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. খন্দকার মারুফ হোসেনকে দেখা যেতে পারে কুমিল্লা-২ আসনে। বাবা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই দুই আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন মারুফ হোসেন। ইতোমধ্যে এলাকায় সুনাম কড়িয়েছেন তিনি।

বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা ১৪ বছর সফলতার সঙ্গে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১৮ সালের বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর তিনি ছিলেন দলের মূল কান্ডারি। এই সময়ে অনেকবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। হাসিনা সরকার তার বিরুদ্ধে ১০০-এর বেশি মামলা দিয়েছে। তিনি সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী। এবার ঠাঁকুরগাও-১ আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত। ২০১৮ সালেও এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আরেক আসন বগুড়া-৬ এ জয়লাভ করলেও নিজের ইমেজ ও দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় শপথ নেননি তিনি। এই ঘটনায় তার নির্লোভ ভাবমূর্তি জনমনে স্পষ্ট হয়। তবে আসন্ন নির্বাচনে তার আপন ভাই ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মির্জা ফয়সাল আমিন। তিনি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামেও মির্জা ফয়সাল ছিলেন সামনের সারিতে ছিলেন।

ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরশনের মেয়র এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী। ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আসছেন। শুধু ২০০৮ সালের নির্বাচনে মামলার কারণে নির্বাচন করতে পারেননি। ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও ঢাকা-৯ আসনে তার স্ত্রী ও মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের জন্য মনোনয়ন চাইছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরেই এই দুই আসনের নেতা-কর্মী ও জনগণের সঙ্গে কাজ করে আসছেন মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস। ২০১৫ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপারেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আফরোজা আব্বাস।

ঢাকা-৩ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছিলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও তিনি তার পুত্রবধূ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর জন্যও ঢাকার আরেকটি আসন চাইছেন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও নজর কেড়েছেন নিপুণ রায়। জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ তিনি। তা ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ। নিতাই চৌধুরী মাগুরা-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী ছিলেন। তিনিও নিজের আসনের পাশাপাশি তার মেয়ের জন্য একটি আসন চাইছেন।

জাতীয় রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি সাবেক তথ্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী। নরসিংদী-২ আসনের মনোনয়ন পাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি তার মেয়ে আমেরিকাপ্রবাসী মাহরীন খানের জন্য নরসিংদীর একটি আসনে মনোনয়ন চাইছেন তিনি। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট টেকনোলজিতে (এমআইটি) পিএইচডি করা মাহরীনের নামসংবলিত বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার ইদানীং নরসিংদীতে দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন মাহরীন খান। মানুষের সেবায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। ১৯৯১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে তিনি জয়ী হন। পরে একই আসনে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর) এবং ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আমীর খসরু। এবারও এই দুই আসনের যেকোনো একটিতে তার দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত।

আমীর খসরুর ছেলে ইস্রাফিল খসরু বিএনপির গবেষণা সেলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। আমীর খসরু আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে বাবার সুযোগ্য সন্তান ইস্রাফিল এলাকার নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর রাখেন নিয়মিত। তিনি সপ্তাহে দুই-তিন দিন চট্টগ্রামে অবস্থান করেন। দলীয় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। আমীর খসরু চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচন করলে তার ছেলে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা আছে। তিন বছর ধরে উভয় সংসদীয় এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন ইস্রাফিল।

১৯৯৬ সালের সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতির মাঠে নামেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে টানা তিনটি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে ২০০৯ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে কারাগারে থাকায় এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে হাসিনা আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

২০১৫ সালে বিএনপির কঠিন সময়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই বছরের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক তাকে গুপ্ত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৬২ দিন গুম রাখার পর ২০১৫ সালের ১১ মে সালাহউদ্দিন আহমদকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং থেকে উদ্ধার করা হয়। ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে তাকে শিলং কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে জামিনে মুক্ত পেলেও তাকে দেশে আসতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। তবে হাসিনার শাসনামলে তার ওপর জুলুম-নির্যাতনের ঘটনায় দলে তার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এবার হাসিনা আহমেদ কক্সবাজার-১ এবং সালাউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে মনোনয়ন চাইছেন বলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা আছে। তবে সালাউহউদ্দিনের মনোনয়ন নিশ্চিত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নির্বাচনি এলাকা সিরাজগঞ্জ-২। ২০০১ সালে ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মামলার কারণে অংশ নিতে পারেননি টুকু। সেই সময়ে তার সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ এই আসনে নির্বাচন অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। তাই টুকুর নিজের আসন নিশ্চিত হলে নিজের সহধর্মিণীর জন্য এবার তিনি আরও একটি আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ছাড়া তার ভাগ্নে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা এম এ মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের রাজনীতির আরেক প্রভাবশালী নেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরশনের সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতায় নগর ও জেলার রাজনীতিতে হেলালের প্রভাব তৈরি হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত আছেন। চট্টগ্রাম নগর, দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির কমিটিতে শীর্ষ পদে আছেন হেলালের অনুসারীরা। সে ক্ষেত্রে মীর নাসির চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন আলোচনা আছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ঢাকা-২ আসনের পাশাপাশি আরও একটি আসন চাইবেন তার ছেলে ইরফান ইবনে অমির জন্য। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল- টানা চার বার এই আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমান উল্লাহ মামলার কারণে অংশ নিতে না পারলে তার ছেলে অমি ঢাকা-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৫ আসনের (আগে-৪ আসন) মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি এই আসনে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০২০ সালের উপনির্বাচনেও তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন চাইছেন। তরুণ এই নেতাকে দল থেকে ইতোমধ্যে কাজ করার জন্য সংকেত দেওয়া হয়েছে।

ঢাঙ্গাইল জেলার রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু। কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় ১৭ বছর পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি কারামুক্তি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। নেতা-কর্মী ও জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা টাঙ্গাইল-২ আসনে পিন্টু মনোনয়ন চাইছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে তার ছোট ভাই সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি। ইতোমধ্যে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ আসনে কাজ করার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ফেনী-৩ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত। এর পাশাপাশি তার ভাই আকবর হোসেনের জন্য ফেনীর যেকোনো একটি আসন চাইছেন। আকবর হোসেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ফেনী-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এ ছাড়া নাটোর-২ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মনোনয়ন চাইছেন। তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুর্দিনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৮ সালে কারাগারে থাকার কারণে এই আসনে নির্বাচনে করেছিলেন তার সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন। এবার দুলু পরিবারও একাধিক আসনে মনোনয়ন চাইতে পারে।

নরসিংদী-১ আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের। তার সহধর্মিণী বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা। তিনি মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকার আন্দোলন-সংগ্রামে শিরীনের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তিনি ঢাকার যেকোনো একটি আসনে মনোনয়ন চাইছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু মনোনয়ন চাইছেন। আর ভাই বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন চাইছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, পারিবারিক পরিচিতির বাইরে দলীয় পরিচিতি, নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মূল্যায়ন করা হবে। রাজনীতির মাঠে পরিচিত মুখ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যাদের সুসম্পর্ক রয়েছে তারা এগিয়ে থাকবেন।খবরের কাগজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ