এখন কিন্তু সরকারের লাফালাফি থেমে গেছে: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:১০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এখন কিন্তু সরকারের লাফালাফি থেমে গেছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৯, ২০২৩ ৭:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৯, ২০২৩ ৭:২২ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কয়েকদিন আগে সরকার খুব লাফালাফি করেছিল। এখন কিন্তু তাদের লাফালাফি থেমে গেছে। তারা এখন বলছে আমরা সংঘাত চাই না। আলোচনায় বসতে চাই। সোমবার (২৯ মে) প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার ঘোষণায় আমরা একটি স্বাধীন দেশ ও পতাকা পেয়েছি। এই মহান ব্যক্তির শাহাদৎ বার্ষিকীতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। দেশের কঠিন সময়ে এই জাতির সামনে ত্রাণকর্তা হিসেবে হাজির হয়েছেন জিয়াউর রহমান। যতই যা লেখেন না কেন? তাকে কারো মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। যেখানে ভবিষত নেই , সেখানে তিনি আশার আলো তৈরি করেছিলেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, যেদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। গার্ড দেয়ার জন্য সেনা সদস্যরা দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু তার কফিন দেখে সেই সুশৃঙ্খল বাহিনী লাইন ভেঙে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল। তার জানাজায় ঈমাম সাহেব দোয়ায় বলেছিলেন, এ আল্লাহ বাংলাদেশটাকে হেফাজত করো। তারা একটাই কথা বলেছিল, এমন প্রেসিডেন্ট পাবো কি-না জানি না। যতই তাকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করুক না কেন, মানুষের মন থেকে তাকে মুছে ফেলা যায়নি, যাবে না। এটা ধ্রুবতারার মতো স্পষ্ট।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান খাল কেটে কৃষিতে সেচ কাজ করে ছিলেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ এনেছিলেন। বিদ্যুতের উন্নতি কে করেছিলেন? জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। আর জিয়াউর রহমান বাকশাল বাতিল করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মহাসচিব বলেন, আমরা লড়াই করছি, আমরা সংগ্রাম করছি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সংগ্রাম সন্নিকটে নিয়ে গেছি। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই, আমাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চাই, মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকার বলছে এখন নাকি আমেরিকা থেকে রেমিট্যান্স বেশি আসছে। কি এমন যাদু পেলো? আমেরিকা গেলে সবাই বাড়ি ভিটা বিক্রি করে যায়। তারা আবার টাকা কোথায় পাবে? ওরা চোর, এই চোরেরা টাকা পাচার করে এখন সেই টাকা ফিরে আনছে। কারণ সরকার বলছে এদের নাকি আবার আড়াই পার্সেন্ট ইন্টেন্সিপ দিবে।

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আমাদেরকে সবসময় ট্র্যাপে ফেলতে চায়, তাই সবসময় সাবধান থাকতে হবে। এরা আগুন লাগিয়ে আমাদের দোষ দিবে। এরা আগেও দিয়েছিল, এখনও দিবে। তাই কোন ট্র্যাপে পা দেয়া যাবে না।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান জীবনে তিনটি সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। এক সৈনিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সফল। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুঠপাট হচ্ছিল, সেজন্য তিনি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাতিল করে মুক্ত অর্থনীতি চালু করেছিলেন। এই আওয়ামী লীগ সব দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল করেছিল। আর জিয়াউর রহমান সুযোগ পেয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। সে কারণে রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল। এ কারণে বর্তমান সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ভয় পায়। সরকার বলে জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধা নন, তিনি নাকি যুদ্ধ করেননি। এরা তার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে প্রজন্মের কাছে। কিন্তু কোন লাভ হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান একজন শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি একজন সামরিক নেতাও ছিলেন। মুসলিম দেশগুলো আগামী বিশ্বের যে আধুনিকায়ন করার জন্য ভাবছে সেখানে তিনি শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিশ্বে বাংলাদেশে পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে তিনি সম্মানের জায়গায় নিয়েছিলেন। তার আমলে জাপান বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল পররাষ্ট্র নীতির ভোটে।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকার ভিসানীতি আছে, কিন্তু বাংলাদেশকে কেন ভিসানীতি দিল তারা। এটা প্রশ্ন আমার। তাও আবার নির্বাচনের সাত মাস আগে। এর মানে হলো গণতন্ত্র ফিরে আনতে হবে, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এর কারণে আমেরিকা ভিসানীতি হয়েছে কোন সন্দেহ নেই। এখন আওয়ামী লীগ এমন সুবোধ বালক সেজেছে, যাতে আমরা ভোট যাই। কিন্তু তা হবে না। আমরা তার (প্রধামন্ত্রী) অধীনে ভোটে যাব না। আমরাও ভোট চোরদের ধরবো। তারপর যা হয় সেটা বুঝতে পারবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান আধুনিক রাষ্ট্রের রূপকার। তিনি আমাদের অহংকার, এই দেশকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছিলেন তিনি। আজকের যে সরকার দেখছেন, সেই সময় কিন্তু এই আওয়ামী লীগ সরকার ছিল। তারা ধর্ষণ, খুন, হত্যা করেছিল। সেদিন এরাই দেশটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছিল যেমন আজ খাচ্ছে। এরা ১৪, ১৮ সালের মতো নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু তা আর করতে পারবে না। এবার তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ